এবার জনরোষের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার জনরোষের মুখে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার (৩০ মে) ভোট পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ও আহত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে যাওয়ার পথে জনরোষের মুখে পড়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদক ও মমতার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পচা ডিম ও জুতো, চপ্পল ইট ছোড়া হয় তার দিকে। মারধরেরও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
রবিবার (৩১ মে) সেই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে হুগলিতে জনরোষের মুখে পড়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
রবিবার হুগলির চণ্ডীতলা থানার সামনে তৃণমূলের বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তৃণমূলের সংসদ সদস্য কল্যাণকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ হয়। তাকে ঘিরে ওঠে 'চোর চোর' স্লোগান, দেখানো হয় কালো পতাকাও। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথায় আঘাত লাগে বলে অভিযোগ। আঘাত লাগার পরেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এই ঘটনায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি সরকারের দিকে নিশানা করেছেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ঘটনার সময়ে অনুপস্থিত ছিল পুলিশ।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই ঘটনা এসডিপিও আর আইসির সামলানোর ক্ষমতা নেই। তাই বিজেপিকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে তারা পালাল। সুয়োমোটো কেস করা উচিত ছিল, কিন্তু আইসি ভয়ে পালিয়ে গেল। এরপরে লাঠিচার্জ করবে, বলেছে আমাদের মারবে। ওপর থেকে নির্দেশ এসেছে, মেরে হঠিয়ে দাও। এবার দেখুন না.. সবাইকে কেমন মারধর করবে। যে সাংসদরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করবে বলছে, তাদেরই টার্গেট করা হচ্ছে।”
কল্যাণের উপর আক্রমণের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে ছয়জন-ই তৃণমূল কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ এবং তারা প্রত্যেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায়ী বিধায়ক লাভলী মৈত্রের ঘনিষ্ঠ হিসাবেই ওই এলাকায় পরিচিত।
এমন ঘটনার পর সরব হয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
তিনি বলেছেন, “গত ছয় মাস ধরে আমি বলে দিচ্ছি তৃণমূল কংগ্রেস চলে যাবে এবং তৃণমূল ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর তৃণমূল তৃণমূলকে আক্রমণ করবে। এই সময় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। রাজ্যপাল, নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম আপনাদের মাধ্যমে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা বিধায়ক,মন্ত্রী তারা গণপিটুনির শিকার হবে। আমরা দায়িত্ব নিয়ে এমন কিছু করতে দেইনি। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবদমিত ক্ষোভ ও না পাওয়ার ব্যথা থেকে যদি তৃণমূল তৃণমূলকে আক্রমণ করতে যায় তাহলে প্রশাসনে কী করবে?”
ঢাকা/সুচরিতা/শাহেদ