ঢাকা     শুক্রবার   ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৪ ১৪৩৩ || ২৮ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সবুজ উইকেটে প্রত্যাশিত সাফল্যের খোঁজে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:২৬, ১৭ এপ্রিল ২০২৬  
সবুজ উইকেটে প্রত্যাশিত সাফল্যের খোঁজে বাংলাদেশ

এমন না যে নিউ জিল‌্যান্ডকে কখনো হারায়নি বাংলাদেশ। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হারিয়েছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় হারিয়েছে। নিজেদের মাটিতে হারিয়েছে। প্রতিপক্ষের ডেরায় গিয়ে হারিয়েছে। আবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে গিয়েও হারিয়েছে। পূর্ণ শক্তির নিউ জিল‌্যান্ড দলকেও হারিয়েছে। আবার দ্বিতীয় সারীর দলকেও হারিয়েছে। কিউইদের বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড ভালো দাবি করা যায়। সেই দাবি থেকেই এবার মেহেদী হাসান মিরাজের কাছে বড় প্রত‌্যাশা। 

দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সারির দল নিয়ে বাংলাদেশে আসা নিউ জিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করবে বাংলাদেশ। ২০১০ ও ২০১৩ সালে নিউ জিল‌্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠেই সেই সাফল‌্য পেয়েছিল দল। এবার তেমন কিছুর প্রত‌্যাশায় দল। যার শুরুটা হচ্ছে আজ শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে। 

আরো পড়ুন:

বাংলাদেশের এই দলটি কখনো সকাল ১১টায় ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ম‌্যাচ খেলেনি। আজ নতুন অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে মিরাজ, শান্ত, লিটনদের। বিদু‌্যৎ সাশ্রয়ের চিন্তা করে বাংলাদেশ ম‌্যাচ দিবারাত্রির বদলে দিনে আয়োজন করছে। বাংলাদেশ শেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে। ২-১ ব‌্যবধানে জিতেছে সিরিজ। 

স্পোর্টিং উইকেটে, পেস ও স্পিন আক্রমণের ভারসাম‌্য ছিল এমন উইকেটে খেলেই পাকিস্তানকে হারিয়েছে। উপমহাদেশের বাইরের দল নিউ জিল‌্যান্ডকে হারাতে স্পিন ফাঁদ পাতলেই হয়। কিন্তু সেদিকে না গিয়ে সবুজ ঘাসের উইকেটে কিউইদের আতিথেয়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ। কারণটা পরিস্কার, স্পোর্টিং উইকেটেই নিজেদের পরীক্ষায় ফেলতে চায় বাংলাদেশ। 

গতকাল দুই দলের অধিনায়ক, কোচ ও খেলোয়াড়দের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল মিরপুরের ২২ গজ। আগে মিরপুরের উইকেটে কালচে দাগ লেগে থাকব। কিউরেটর টনি হেমিংয়ের যুগে সেই কালচে প্রলেপ নেই। বরং উইকেটে সবুজ ঘাসের ছোঁয়া। গতকাল শেষ বিকেলে আরও একবার ঘাস কাটা হলেও উইকেটে সবুজ আভা ছিল। ফলে ধারণা করাই যায়, পেস আক্রমণেও জোর দিতে পারে দুই দল। 

বাংলাদেশের অধিনায়ক ট্রু উইকেটের কথাই জানিয়ে রেখেছেন ম‌্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে, ‘‘পাকিস্তান সিরিজে আমরা খুব ভালো উইকেটে খেলেছি এবং আমরা চেষ্টা করব এই সিরিজটাও ভালো উইকেটে খেলার জন্য। পুরো ব্যাপারটাই আসলে পারফরম্যান্সের ওপর। পাকিস্তান সিরিজে দ্বিতীয় ম্যাচে কিন্তু আমরা দ্রুত অলআউট হয়ে গেছি (১১৪ রানে), কিন্তু উইকেট তো ‘ট্রু’ ছিল। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ১১৪ রানে অল আউট হয়ে গেছে, কিন্তু ‘ট্রু’ উইকেটই ছিল।” 

নিউ জিল‌্যান্ডের জন‌্য এরকম উইকেট বিস্ময়কর। টম লাথাম দেশ ছাড়ার আগে স্পিনারদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন। বাংলাদেশে এসে ভিন্ন কিছুর অভিজ্ঞতায় পড়তে হবে তেমনটা নিশ্চয়ই ভাবেননি। তার কথায়, ‘‘উইকেটে তাকিয়ে মনে হচ্ছে, বেশ ভালো উইকেট এটি। তবে আমরা এটাও জানি, এই কন্ডিশনে স্পিনের ভূমিকা সবসময়ই থাকে। বাংলাদেশ এই মুহূর্তে দারুণ ক্রিকেট খেলছে এবং আমাদেরকে প্রবলভাবেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।” তবে বৈশাখের গরম দুই দলকে ভোগাতে পারে। নিউ জিল‌্যান্ড অধিনায়ক লাথাম তো বাড়তি পানি পানের বিরতির আবদার করে বসলেন, ‘‘অবশ্যই এখানে গরম অনেক বেশি এবং নিউজিল্যান্ডের চেয়ে এখানকার কন্ডিশন অনেক ভিন্ন। এর সঙ্গে যথাসম্ভব মানিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা আগামীকালের জন্য যতটা সম্ভব সতেজ ও প্রস্তুত থাকার চেষ্টা করছি। আমাদের সমস্ত প্রাণশক্তি আগামীকালের একশ ওভারের জন্য নিবদ্ধ থাকবে। স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকটি বেশি পানি পানের বিরতিও নিতে হতে পারে!” 

ওয়ানডেতে দুই দলের ৪৬ বারের দেখায় নিউ জিল্যান্ড জিতেছে ৩৪ ম্যাচে। বাংলাদেশের জয় ১১টিতে। এবারের সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বের। রেটিং পয়েন্ট বাড়ানোর সুযোগ।  সিরিজ জিতলে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির সুযোগ নেই বাংলাদেশের। তবে রেটিং পয়েন্ট বাড়বে। যা সহায়ক হবে সামনের পথচলায়। ৩-০ ব্যবধানে জিতলে মিলবে ৬ পয়েন্ট, ২-১ ব্যবধানে জিতলে যোগ হবে ৪ পয়েন্ট। সবুজ উইকেটে প্রত্যাশিত এই সাফল্যের খোঁজেই বাংলাদেশ।

ঢাকা/ইয়াসিন

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়