মিউচুয়াল ফান্ডে স্বচ্ছতা বাড়াতে দৈনিক এনএভি দাখিলের নির্দেশ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও তথ্যপ্রবাহ সহজতর করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এখন থেকে সকল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে (এএমসি) প্রতিদিনের নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি), বিক্রয় মূল্য (সেল প্রাইস) এবং সারেন্ডার মূল্য কমিশনে দাখিল করতে হবে। ফলে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীরা আরো হালনাগাদ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাবেন বলে মনে করছে কমিশন।
সম্প্রতি বিএসইসির ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।
দেশের সকল সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের কাছে নির্দেশনা সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, আলোচ্য বিষয়ে জানানো যাচ্ছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৭৩(২) অনুযায়ী, সকল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দৈনিক নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি), বিক্রয় মূল্য (সেল প্রাইস) এবং সারেন্ডার মূল্য নির্ধারিত ইমেইলে পাঠাতে হবে।
আগে ওপেন-এন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে নিয়ম ছিল, গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ফান্ডের যে এনএভি ছিল, সেই দামে পরবর্তী সপ্তাহজুড়ে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট কেনা বা সারেন্ডার (বিক্রি) করতে পারতেন। অর্থাৎ আগে বিনিয়োগকারীরা যখন স্কিম সারেন্ডার বা রিডেমশন (টাকা ফেরত নেওয়া) করতেন, তখন অনেক ক্ষেত্রে গত সপ্তাহের এনএভি বিবেচনা করা হতো। এতে যদি এই সপ্তাহের বাজারে শেয়ারের দাম বেড়েও যেত, বিনিয়োগকারী সেই বাড়তি সুবিধা পেতেন না। নতুন পদ্ধতিতে রিয়েল-টাইম বা দৈনিক এনএভি কার্যকর হওয়ায় বিনিয়োগকারী যে দিন টাকা তুলতে চাইবেন, সেই দিনের বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য পাবেন।
কমিশনের মতে, এ উদ্যোগকে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর নজরদারি বাড়বে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা তথ্য গোপনের সুযোগ কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ওপেন-এন্ড ফান্ডের ক্ষেত্রে প্রতিদিনের এনএভি বিনিয়োগকারীদের প্রবেশ ও প্রস্থান সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এ নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে এবং সামগ্রিকভাবে শেয়ারবাজার আরও গতিশীল হয়ে উঠবে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে দীর্ঘদিন ধরে তথ্য প্রকাশে ধীরগতি এবং অসামঞ্জস্যতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। অনেক ক্ষেত্রে দৈনিক এনএভি সময়মতো প্রকাশ না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সঠিক সময়ে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না। ফলে বাজারে স্বচ্ছতা ও আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়। নতুন এ নির্দেশনার মাধ্যমে প্রতিদিনের ভিত্তিতে ফান্ডগুলোর প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে। এতে করে বিনিয়োগকারীরা আরো তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং বাজারে জবাবদিহিতা বাড়বে।
ঢাকা/এনটি/বকুল