‘দেবালয় আমাকে জোর করে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করে’
দেবালয় ভট্টাচার্য, অঙ্কিতা চক্রবর্তী
কয়েক দিন আগে ‘অভিশপ্ত নাইটি’খ্যাত পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তী। বিষয়টি নিয়ে এবার সংবাদ সম্মেলন করলেন ‘ব্যোমকেশ বক্সি’খ্যাত এই অভিনেত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে অঙ্কিতা জানান, ২০২০ সালে দেবালয় ভট্টাচার্য পরিচালিত ‘পবিত্র পাপী’ সিরিজে অভিনয় করেন অঙ্কিতা। ২০২১ সালে সিরিজটির সাকসেস পার্টিতে দেবালয় তাকে জোর করে চুম্বনের চেষ্টা করেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালককে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
পাঁচ বছর আগের ঘটনা নিয়ে এতদিন কেন মুখ খোলেননি অঙ্কিতা? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি আসলে তখন বলিনি। কারণ সেই সময় আমার কোনো কাজ ছিল না। তখন যদি বলতাম সবাই ভাবত আমি প্রচার পাওয়ার জন্য এসব বলছি। তবে আমাকে এতদিন এই ঘটনা ভীষণ ট্রিগার করেছে।”
এই ঘটনার বিচার চেয়ে দেবালয়কে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন অঙ্কিতা। নোটিসে উল্লেখ রয়েছে, দেবালয় যদি ৭ দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে অঙ্কিতার কাছে ক্ষমা না চান, তা হলে হরিদেবপুর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন। পাশাপাশি বিষয়টি আর্টিস্ট ফোরামকে জানিয়েছেন অঙ্কিতা। ইমপা, ডিরেক্টরস গিল্ড ও মুখ্যমন্ত্রীকেও ঘটনাটি জানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন অঙ্কিতা।
অঙ্কিতার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্য প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আমার কাছে এখনো কোনো আইনি নোটিস পৌঁছায়নি। তবে এবার আমিও পুরো বিষয়টি আইনিভাবেই মোকাবিলা করব। আমিও আইনি নোটিস পাঠাব।”
গত ১২ মে, রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দেন পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্য। এ পোস্টের কমেন্ট বক্সে মন্তব্য করেন অঙ্কিতা। এ মন্তব্যে যৌন হেনস্তার অভিযোগের কথা জানান এই অভিনেত্রী। তবে অঙ্কিতা মন্তব্য করার পর স্ট্যাটাসটি মুছে ফেলেন পরিচালক। তারপরই অঙ্কিতার অভিযোগ নিয়ে চর্চা শুরু হয় টলিপাড়ায়।
দেবালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে অঙ্কিতা ফেসবুক কমেন্টে লিখেছিলেন, “তোমার মতো নোংরা পারভার্ট ব্রাহ্মণদের কী করে শ্রদ্ধা করি বলো তো? যারা নিজের বন্ধুর মেয়ের পিঠে হাত বোলাতে ছাড়ে না (যেটা করেছ, সেটা লিখতে আমার লজ্জা লাগছে, তাই পিঠে হাত বোলাতেই লিখলাম)।”
অভিনেত্রীদের যৌন হেনস্তা করেছেন পরিচালক দেবালয়। এ অভিযোগ করে অঙ্কিতা লেখেছিলেন, “মদ খেয়ে অভিনেত্রীদের নিতম্বে হাত বোলায়, জোর করে ওই নোংরা গুটখা খাওয়া দাঁতে চুমু খেতে আসে? আর বাধা দিলে…পরের দিন নেশা কাটার পরে ক্ষমা না চেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কাজ থেকে কাঠি করে থাকে। দেখা হলে চিনতেও পারে না। রাতারাতি পছন্দের অভিনেত্রী কীভাবে যেন অচেনা হয়ে যায়। আপাতত আমি আমার আর ওর (একটি নাম লিখেছিলেন) কথা বললাম।”
এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা চলছে। ভারতীয় একটি গণমাধ্যম এ নিয়ে অঙ্কিতার সঙ্গে কথা বলেছেন। এ আলাপচারিতায় তিনি বলেন, “যদি অন্যায় না করেন, তা হলে হঠাৎ কেন তিনি পোস্টটি মুছলেন? তিনি যে কাজটি করেছেন তা কুৎসিত, জঘন্য অপরাধ। কোনো অনুতাপও নেই তার। এ রকম লোক আরো সাংঘাতিক। এই ধরনের মানুষ অপরাধ করে মেরেও ফেলতে পারে। আমার কথা ছেড়েই দিলাম, আর একজনের সঙ্গেও যা করেছিলেন! সে তখনও প্রাপ্তবয়স্কও হয়নি। ওটা তো শিশু-হেনস্তা! নোংরা মানুষ বলেই পোস্ট ডিলিট করেছে।”
ঢাকা/শান্ত