আমাদের কোরবানির গরু হারিয়ে গিয়েছিল: খায়রুল বাসার
খায়রুল বাসার
ঈদুল আজহার আনন্দে মেতেছেন দেশবাসী। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন এই উৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত। অন্য সাধারণের মতো শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও ব্যতিক্রম নন। ঈদ উৎসবের নানা স্মৃতি নিয়ে রাইজিংবিডির সঙ্গে কথা বলেছেন ‘এটা আমাদেরই গল্প’খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসার।
ছোটবেলায় গরু কিনতে হাটে যেতেন অভিনেতা খায়রুল বাসার। এ নিয়ে তার বেশ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বলেন, “ছোটবেলায় কোরবানির ঈদ নিয়েই আমার অধিক আগ্রহ ছিল। লাল গরু কিনব না কি কালো গরু—এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা করতাম। আমি ময়মনসিংহে থাকতাম। কোরবানিটা আমরা মামার সঙ্গে দিতাম। মামা ও মামাত ভাইদের সঙ্গে গরু কেনার জন্য কোরবানির হাটে যেতাম। সমস্যা হলো, যে গরু দেখতাম, সেটাই পছন্দ হতো। তবে শেষ পর্যন্ত মামা যে গরুটা নিতেন সেটাই সেরা পছন্দ ছিল। কোরবানি ঈদের স্মৃতি নিয়ে কথা বলতে গেলে, মামার কথাই বেশি মনে পড়ে।”
একবার এক ঈদে খায়রুল বাসারদের কেনা কোরবানির গরু হারিয়ে গিয়েছিল। সেই স্মৃতি স্মরণ করে এই অভিনেতা বলেন, “অধিকাংশ সময় আমরা হাটে গিয়ে গরু কিনে আনতাম। আবার গ্রামের কোনো বাড়ি থেকে পছন্দ করেও গরু কেনা হতো। কোরবানির জন্য কেনা গরু আমরা গিয়ে নিয়ে আসতাম। একবার আমাদের কেনা গরুটি ছুটে গিয়ে দৌড় শুরু করে। এক পর্যায়ে গরুটি হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও গরু পাচ্ছিলেন না। এটা নিয়ে তো সবার মাথায় হাত! সবার একটাই প্রশ্ন—এখন কি হবে! পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর গরুটা পাওয়া যায়। এরপর সবার মনে স্বস্তি নেমে আসে।”
ছোটবেলায় গরু কোরবানির দৃশ্য দেখে ভীষণ ভয় পেয়েছিলেন খায়রুল বাসার। ছোট্ট সময়ের ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আরেকবার কোরবানির মাঠে গরু শোয়ানো হয়েছে, হঠাৎ সেই গরু উঠে দৌড় দেয়। তখন আমার বয়স অনেক কম। এ দৃশ্য দেখে আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। আমার মনে হয়, এরকম স্মৃতি আমাদের সবারই। কারণ প্রতি বছরই এমন ঘটনা ঘটে।”
সাধারণত ঈদের কয়েক দিন আগে কোরবানির পশু কিনে বাড়িতে আনা হয়। খায়রুল বাসারদের বাড়িতেও ঠিক তাই হতো। ঈদের আগের কয়েকটি দিন গরু লালনপালনের দায়িত্ব পালন করতেন। তার ভাষায়—“কোরবানির কয়েক দিন আগে যখন গরু কিনে বাসায় নিয়ে আসতেন, এটা খুব ভালো লাগার ব্যাপার ছিল। কারণ গরুকে খাওয়ানোর জন্য ঘাস কেটে নিয়ে আসতাম। ময়মনসিংহ শহরে তো ঘাস পাওয়া যায় না, ফলে খুব ভোরবেলায় শহর থেকে একটু দূরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি চলে যেতাম। কোথায় কাঠাল পাতা পাওয়া যাবে, সেই খোঁজে এলাকায় এলাকায় ঘুরে-বেড়াতাম। এই স্মৃতিগুলো খুবই মজার, এগুলো খুব মনে পড়ে।”
লালনপালন করার কারণে কোরবানির গরুর প্রতি একটা মায়া পড়ে যেত খায়রুল বাসারের। ফলে যখন গরুটিকে কোরবানি দেওয়া হতো, তখন কেঁদে ফেলতেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “এই দুই-তিন দিন গরুকে খাওয়ানো, যত্ন করার কারণে একটা মায়া জন্মাত। যেদিন কোরবানি দিতো সেদিন খুব খারাপ লাগত, কান্না পেত। দুই-তিন দিন লালনপালন করেই যদি আমাদের এতটা মায়া লাগে, তবে যে কৃষক বছরের পর বছর লালনপালন করেন, তাহলে তার কতটা কষ্ট হয়!”
ঢাকা/শান্ত/লিপি