গ্যাসের ব্যথা ও পেট ফাঁপা কমানোর কার্যকর উপায়
দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: প্রতীকী
অন্ত্রে আটকে থাকা গ্যাস তীব্র ব্যথা, খিঁচুনি, পেট ফোলা, টানটান অনুভূতি এবং অস্বস্তিকর ফাঁপাভাব সৃষ্টি করতে পারে। কখনও কখনও এই ব্যথা এতটাই তীব্র হতে পারে যে এটি অ্যাপেন্ডিসাইটিস, পিত্তথলির পাথর বা এমনকি হৃদরোগের লক্ষণের মতো মনে হতে পারে। বেশিরভাগ মানুষ দিনে প্রায় ৩০ বার পর্যন্ত গ্যাস ত্যাগ করে। ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, কিছু নির্দিষ্ট খাবার এবং অন্যান্য কারণের ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গ্যাস জমে যেতে পারে। পেটে জমা গ্যাস থেকে হতে পারে ব্যথা ও পেট ফাঁপা। এই সমস্যা দূর করার উপায় জেনে নিন।
১. গ্যাস চেপে রাখবেন না
গ্যাস চেপে রাখলে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি এবং ব্যথা হতে পারে। তাই সুযোগ পেলে গ্যাস বের করে দেওয়াই সবচেয়ে সহজ সমাধান। যদি গ্যাস বের না হয়, তবে কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্ভাবনা থাকতে পারে। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে, বেড়ে গেলে বা তীব্র ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
২. মলত্যাগ করুন
মলত্যাগ করলে অন্ত্রে আটকে থাকা গ্যাসও বের হয়ে যায়, ফলে আরাম পাওয়া যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে ঘরোয়া উপায়ে সমাধানের চেষ্টা করতে পারেন। প্রয়োজনে ফার্মাসিস্টের পরামর্শে ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. ধীরে ধীরে খাবার খান
খুব দ্রুত খাওয়া বা হাঁটতে হাঁটতে খেলে খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত বাতাসও পেটে ঢুকে যায়, যা গ্যাস ও পেটব্যথার কারণ হতে পারে। ধীরে খাওয়ার জন্য—পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে টেবিলে বসে খাবার খান। প্রতিটি লোকমা ভালোভাবে চিবিয়ে খান। ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে হজম সহজ হয় এবং পেট ফাঁপা ও বদহজমের মতো সমস্যা কমে।
৪. চুইংগাম এড়িয়ে চলুন
চুইংগাম চিবানোর সময় অনেকেই অজান্তে বাতাস গিলে ফেলেন, যা গ্যাসের সমস্যা বাড়ায়। এছাড়া সুগার-ফ্রি চুইংগামে থাকা কৃত্রিম মিষ্টিকারকও পেট ফাঁপা ও গ্যাসের কারণ হতে পারে।
৫. ধূমপান ছেড়ে দিন
ধূমপানের সঙ্গে বিভিন্ন হজমজনিত সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। ধূমপানের সময়ও অতিরিক্ত বাতাস শরীরে প্রবেশ করে, যা গ্যাসের ঝুঁকি বাড়ায়। ধূমপান ত্যাগ করলে হজমের উন্নতির পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্যেরও উপকার হয়।
৬. কার্বনেটেড পানীয় এড়িয়ে চলুন
সফট ড্রিংকস, সোডা বা স্পার্কলিং ওয়াটারের মতো কার্বনেটেড পানীয় পাকস্থলীতে গ্যাসের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে পেট ফাঁপা ও ব্যথা দেখা দিতে পারে।
৭. যেসব খাবারে গ্যাস হয় সেগুলো শনাক্ত করুন
কিছু খাবার গ্যাস তৈরির প্রবণতা বাড়ায়। যেমন—দুগ্ধজাত খাবার, কিছু ফাইবার সাপ্লিমেন্ট, ডাল, মসুর, শিমজাতীয় খাবার। খাবারের ডায়েরি রাখলে কোন খাবার আপনার জন্য সমস্যা তৈরি করছে তা সহজে বোঝা যায়। তবে এসব খাবারের অনেকগুলিই পুষ্টিকর, তাই পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমাণ কমিয়ে খাওয়া বা রান্নার পদ্ধতি পরিবর্তন করা ভালো।
৮. হারবাল চা পান করুন
কিছু ভেষজ চা হজমে সাহায্য করে এবং গ্যাস কমাতে সহায়ক হতে পারে। যেমন—মৌরি চা, আদা চা, পুদিনা চা ইত্যাদি। বিশেষ করে মৌরি কোষ্ঠকাঠিন্যজনিত গ্যাসের ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে।
সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে
ঢাকা/লিপি