‘মায়ের হাতের পায়েস কতদিন খাই না’
স্বরলিপি || রাইজিংবিডি.কম
ফারুক আহমেদ
কোরবানির ঈদ মানেই আনন্দ, পরিবার আর শৈশবের অগণিত স্মৃতি। জনপ্রিয় অভিনেতা ফারুক আহমেদ–এর কাছেও ঈদ মানে এমনই কিছু আবেগমাখা মুহূর্ত, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে মায়ের হাতের পায়েসের স্বাদ, পরিবারের উষ্ণতা এবং কোরবানির পশুর হাটের স্মৃতি।
ফারুক আহমেদ বলেন, তিনি গ্রামে নয়, শহরেই বড় হয়েছেন। তাই গ্রামের ঈদের মতো অভিজ্ঞতা তার জীবনে খুব বেশি নেই। ছোটবেলায় কোরবানির পশু কেনার দায়িত্বও ছিল না তার ওপর। পরিবারের বড়রা সেই কাজ সামলাতেন।
“আব্বার সঙ্গে বড় ভাই কোরবানির পশু কিনতে যেত। আমি ছিলাম একটু উদাসীন প্রকৃতির মানুষ, তাই আমার যাওয়া হতো না,”—হাসতে হাসতেই স্মৃতিচারণ করেন তিনি।
তবে সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। তখন থেকেই কোরবানির পশু কিনতে নিয়মিত হাটে যেতে শুরু করেন। মালিবাগে বসবাসের সময় তিনি বনশ্রীর পশুর হাটে যেতেন। পরে ইস্কাটনে বসবাস শুরু করার পর থেকে তাঁর গন্তব্য হয়ে ওঠে গাবতলীর পশুর হাট।
“আগে কোরবানির ঈদে পশু কিনতে বনশ্রীর হাটে যেতাম, তখন বাসা ছিল মালিবাগে। এখন ইস্কাটনে থাকি। এই এলাকায় আসার পর থেকে কোরবানির গরু কিনতে গাবতলীতেই যাই,” বলেন তিনি।
তবে ঈদের সবচেয়ে উজ্জ্বল স্মৃতি কোনো হাট বা কেনাকাটার নয়; বরং মায়ের হাতের রান্না করা পায়েসকে ঘিরে।
ফারুক আহমেদের ভাষায়, “ছোটবেলার ঈদ মানেই ছিল মায়ের হাতের পায়েস খাওয়ার অপেক্ষা। পায়েস না খেলে মনে হতো ঈদই জমল না।”
সময় অনেক বদলেছে। জীবনের নানা অর্জন ও ব্যস্ততার মাঝেও তিনি ভুলতে পারেননি সেই স্বাদ। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিগুলো আরও গভীর হয়েছে।
“এখনও মায়ের হাতের পায়েসের স্বাদ জিহ্বায় লেগে আছে। পনেরো বছর হয়ে গেল—ঈদ আসে, ঈদ যায়; কিন্তু মায়ের হাতের সেই পায়েস আর খাওয়া হয় না। মা কী দিয়ে ওই পায়েস রান্না করতেন, আমি জানি না। শুধু মনে আছে সেই স্বাদ আর ঘ্রাণ। মায়ের হাতের সেই পায়েস কতদিন খাই না!”—আবেগঘন কণ্ঠে বলেন তিনি।
ঈদ এলেই তাই আনন্দের পাশাপাশি ফিরে আসে এক ধরনের শূন্যতা। মায়ের স্মৃতি যেন নতুন করে নাড়া দেয় হৃদয়কে। তার কাছে ঈদ এখন শুধু উৎসব নয়, প্রিয়জন হারানোর বেদনামাখা স্মৃতিরও নাম।
ঢাকা/লিপি