বিশ্বকাপ উন্মাদনায় গাফির ফ্যাশন ইনস্টিটিউটের ব্যতিক্রমী স্ট্রিট
ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বাংলাদেশের মানুষের জন্য এটি আবেগ, উচ্ছ্বাস ও উৎসবের আরেক নাম। বিশ্বকাপ এলেই শহর থেকে গ্রাম, অলিগলি থেকে ছাদ, সর্বত্র দেখা যায় প্রিয় দলের পতাকা, জার্সি আর সমর্থকদের বর্ণিল আয়োজন। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পর্তুগাল, ফ্রান্স কিংবা জার্মানির প্রতি বাংলাদেশি সমর্থকদের ভালোবাসা ও উন্মাদনা বহুবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি কেড়েছে। এমনকি, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ উদযাপনের নানা দৃশ্য ও সমর্থকদের আবেগঘন আয়োজন স্থান পেয়েছে ফিফার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও।
বিশ্বকাপকে ঘিরে এই অনন্য উন্মাদনাকে আরো সৃজনশীল ও নান্দনিকভাবে উদযাপন করতে গাফির ফ্যাশন ইনস্টিটিউট আয়োজন করে দুই দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ফ্যাশন সেলিব্রেশন ২০২৬’। অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে একাত্তর টেলিভিশন ও রাইজিংবিডি ডটকম।
গত ৭ জুন ধানমন্ডিতে অনুষ্ঠিত হয় আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ দেশের প্রথম বিশ্বকাপভিত্তিক স্ট্রিট ফ্যাশন শো। বিশ্বকাপের বিভিন্ন আসরের জনপ্রিয় থিম সংয়ের তালে র্যাম্পে অংশ নেন পেশাদার মডেল, ফ্যাশন ডিজাইনার এবং গাফির শিক্ষার্থীরা। ফুটবল বিশ্বকাপের আবেগ, সমর্থকদের পরিচয়, জাতীয় পতাকার রং এবং বিভিন্ন দেশের ফুটবল সংস্কৃতিকে ফ্যাশনের ভাষায় অভিনব উপায়ে উপস্থাপনা করা হয়েছে।
র্যাম্পে প্রদর্শিত পোশাকগুলোতে ফুটে ওঠে বিশ্বকাপকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা, জাতীয় পরিচয়ের গর্ব এবং বৈশ্বিক ফুটবল সংস্কৃতির বহুমাত্রিক রূপ। ফলে এটি শুধু একটি ফ্যাশন শোতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
আয়োজকদের মতে, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল ফুটবল ও ফ্যাশনের সমন্বয়ে তরুণ ডিজাইনারদের সৃজনশীল চিন্তা, উদ্ভাবনী দক্ষতা এবং সমসাময়িক ফ্যাশন ভাবনাকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশের সমর্থক সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ও আবেগকেও নতুন মাত্রায় উদযাপন করা।
গত ৬ জুন, অনুষ্ঠিত হয় দিনব্যাপী ওয়ার্ল্ড কাপ ফ্যাশন ডিজাইন ওয়ার্কশপ। কর্মশালায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পর্তুগাল, ফ্রান্স ও জার্মানির ফুটবল ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং জাতীয় পরিচয় থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে জার্সি ও ফ্যাশন পোশাক ডিজাইন করেন। পাশাপাশি ফ্যাশন কনসেপ্ট ডেভেলপমেন্ট, স্টাইলিং, ট্রেন্ড বিশ্লেষণ এবং সৃজনশীল উপস্থাপনা বিষয়ে বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের বিশ্বাস, বাংলাদেশে বিশ্বকাপ উন্মাদনা কেবল খেলার মাঠ বা টেলিভিশনের পর্দায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন দেশের সংস্কৃতি, শিল্প ও সৃজনশীল চর্চারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই বাস্তবতাকেই নতুনভাবে তুলে ধরেছে গাফির ফ্যাশন ইনস্টিটিউটের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন।
ঢাকা/রাহাত/শান্ত