হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র কলকাতার যাদবপুর
কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম
তীব্র আন্দোলন ও আদালতের স্থগিতাদেশের বাধা কাটিয়ে অবশেষে রবিবার (৭ জুন) গভীর রাতে কলকাতার যাদবপুর রেল স্টেশন চত্বরে অবৈধ হকার উচ্ছেদে বড়সড় অভিযান চালালো রেল কর্তৃপক্ষ। আর এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রবিবার গভীর রাতে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকা। প্রবল প্রতিরোধ ও বিক্ষোভের মাঝেই চলে রেলের এই উচ্ছেদ অভিযান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে বহু বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হন।
রবিবার রাতে রেল কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতেই হকারদের পাশাপাশি রাস্তায় নামেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং বামপন্থি সংগঠন ও কংগ্রেসের নেতা-কমীরা। রেলের উচ্ছেদ রুখতে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক রেল পুলিশ, রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের সরাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এর ফলে অনেকে আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন যাদবপুরের সাবেক সাংসদ সুজন চক্রবর্তী, এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সম্পাদক ও ছাত্রনেতা সৃজন ভট্টাচার্য, জয়রাজ ভট্টাচার্য। বামপন্থি সংগঠনগুলোর দাবি, পুলিশের এই লাঠিচার্জে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। রামগড়ের বাসিন্দা ঋতব্রত ঘোষ নামে এক বিক্ষোভকারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
রাতভর চলা অভিযানে যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন একাধিক দোকান ও স্টল ভেঙে ফেলা হয়। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি- স্টেশন এলাকা দখলমুক্ত করে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও চলাচলের সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেসব দোকান এখনো রয়ে গেছে, সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য ১৫ দিনের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বামপন্থি যুব নেতা সৃজন ভট্টাচার্য-সহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাবেক সাংসদ সুজন চক্রবর্তী ও নকশাল নেতা জয়রাজ ভট্টাচার্যের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের স্থানীয় কেপিসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সুজন চক্রবর্তীর মাথায় গুরুতর আঘাত থাকার কারণে সিটি স্ক্যানসহ জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১৫ জন আন্দোলনকারী কেপিসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের লাঠির ঘায়ে কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকা/ফিরোজ