Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৬ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ১০ ১৪২৮ ||  ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

তরুণদের সংগঠন "সংকল্প ফাউন্ডেশন" এর নতুন অর্জন

উদ্যোক্তা/ই-কমার্স ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪৩, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১  
তরুণদের সংগঠন

সংকল্প ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক সংস্থা, যারা বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের উন্নতির জন্য কাজ করে। পথশিশুদের জীবন পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে ২০১৪ সালের ৮ই জানুয়ারি থেকে সংকল্প তার যাত্রা শুরু করেছিল।

সংকল্প ফাউন্ডেশন থেকে পাঠানোন সংবাদ বিজ্ঞপতিতে জানানো হয়, এর  প্রথম সহায়তাকারী প্রকল্প ছিলো ২০১৪ সালের ইদুল-ফিতরে ১০০ জন পথশিশুর মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ। এরপর থেকে এখন অব্দি গত ৭ বছরে সংকল্প ৯ টি কার্যক্রমের অধীনে ২০ টিরও বেশি প্রকল্প নিয়ে কাজ করেছে। যেমন- প্রোজেক্ট ইদ স্মাইল, প্রোজেক্ট রেইনকোট, প্রোজেক্ট উইন্টার স্মাইল, প্রোজেক্ট কুরবানী, প্রোজেক্ট ক্লিনআপ ইত্যাদি।

প্রতিষ্ঠানটির  অন্যতম উদ্দেশ্য এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হল সংকল্প স্কুল, যেটি মূলত সংকল্প এর শিক্ষা কার্যক্রম এর অধীনে চলছে। ২০১৬ সালে ৬জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে শুরু হয়েছিলো সংকল্প স্কুল, বর্তমানে স্কুলের ৪টি ভিন্ন শ্রেনীতে ৭০জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। সংকল্প স্কুল মূলত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান ও অন্যান্য মোলিক চাহিদা পূরণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে।

সংকল্প এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কার্যক্রম হলো জীবিকা উন্নয়ন, আর এই লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে দরিদ্র পরিবারগুলিকে স্বাবলম্বী করার জন্য পরিবর্তন উদ্যোগ শুরু করে। পরিবর্তন উদ্যোগে যাকাত তহবিল সংগ্রহ করে এখন পর্যন্ত ২টি সেলাই মেশিন ও ১টি রিকশা দান করেছে। ২০২০ সালে,  মহামারী চলাকালীন অর্থনৈতিক পতনের কথা মাথায় রেখে সংকল্প দারিদ্র্যপীড়িত পরিবার ও মানুষের খাদ্য সরবরাহের জন্য ফিডিং বাংলাদেশ নামে আরেকটি উদ্যোগ চালু করে। এই উদ্যোগের অধীনে মাত্র এক বছরে ১২০০০ এর ও বেশি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। এবং লকডাউন চলাকালীন প্রায় ৬০০পরিবারকে ৭, ১৫ এবং ৩০ দিনের জন্য খাবারের ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। শুধু খাবারই নয়, এই মহামারীতে সংকল্প মাস্ক এবং স্যানিটাইজারও বিতরণ করেছে। এছাড়াও সংকল্প ব্লাড প্রেসার পরিমাপ, ব্লাড গ্রুপ টেস্ট ইত্যাদি মৌলিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানেরও চেষ্টা করছে। তাছাড়াও সংকল্প প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কাজ করে যেমন বন্যা এবং অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য তহবিল সংগ্রহ ইত্যাদি।

এখন পর্যন্ত ১৫০০ এরও অধিক মানুষ সংকল্পের সাথে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছে এবং ১,০০,০০০ এরোও বেশি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংকল্প ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন।

এত বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর অবশেষে, সংকল্প ফাউন্ডেশন “অফিস অফ রেজিস্টার ফর জয়েন্ট স্টক কোম্পানিস এন্ড ফার্মস” কর্তৃক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর “সোসাইটিস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট ১৮৬০” এর অধীনে নিবন্ধিত হয়েছে। সংকল্প ফাউন্ডেশনের নিবন্ধন নম্বর  S-13673/2021 ।

সংকল্প ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মেহেদী ইসলাম আকাশ জানান, “বিগত আট বছরের সফর আমাদের জন্য সহজ ছিলো না, এই আট বছরে আমরা অনেক উত্থান-পতনের সম্মুখীন হয়েছি। কিন্তু এখন এই স্বীকৃতি সংকল্পকে আরও বেশী কাজ করতে এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জীবনে উন্নতি ও তাদের মৌলিক চাহিদা ফিরিয়ে দিতে আরও বড় উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করবে।”

সংকল্প ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক নুরুন্নাহার আক্তার জানান, “সংকল্প ফাউন্ডেশন এর নিবন্ধনের খবর সংকল্প পরিবারের সকল সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে এসেছে। এখন আমরা আমাদের সমাজকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ  গ্রহণ করতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবো।”

সংকল্প ফাউন্ডেশন এখন সারা বাংলাদেশের সবার মাঝে হাসি ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে আরও দৃঢ়প্রত্যয় এবং কোন একদিন সমগ্র বিশ্বজুড়েও।

ঢাকা/ সিনথিয়া

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়