ঢাকা     রোববার   ২৬ জুন ২০২২ ||  আষাঢ় ১২ ১৪২৯ ||  ২৫ জিলক্বদ ১৪৪৩

বইমেলায় সুজন দেবনাথের ‘হেমলকের নিমন্ত্রণ’

সাহিত‌্য ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৩১, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
বইমেলায় সুজন দেবনাথের ‘হেমলকের নিমন্ত্রণ’

প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এথেন্স নামের একটি ছোট্ট শহরে জন্ম হয়েছিল সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস, গণতন্ত্র, চিকিৎসা, দর্শনসহ আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রায় সবকিছু। কয়েকজন প্রতিভাবান মানুষ অদ্ভুত এক পাগলামি শুরু করেছিলেন। তাদের পাগলামিতে মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে অন্ধকার থেকে জন্ম নিয়েছিলো আলো। সময়টি ছিলো খ্রিস্টের জন্মের আগের পঞ্চম ও চতুর্থ শতক। এসময় এথেন্স এবং এর আশেপাশের শহরগুলিতে জন্ম হয়েছিল জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখা। একই সময়ে, একটি শহরে বুদ্ধিবৃত্তির এরকম স্ফূরণ পৃথিবীর ইতিহাসে আর হয়নি। তাদের সেই পাগলামিকে একটি গল্পে বলতে চেয়েছেন সুজন দেবনাথ। সেই গল্পই ‘হেমলকের নিমন্ত্রণ’।

সুজন দেবনাথ তিন বছর গ্রিসে থাকার সময় গ্রিসের ক্লাসিক্যাল সময়ের স্থানগুলো স্বচক্ষে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি গভীর আগ্রহে খুঁজে দেখেছেন সেই সময়টি যখন জন্ম হয়েছিল গণতন্ত্র, সাহিত্য, বিজ্ঞান, চিকিৎশাস্ত্র, দর্শন, স্থাপত্যসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রায় সবকিছু। তার সেই গবেষণা এবং অনুভব থেকেই এই উপন্যাস ‘হেমলকের নিমন্ত্রণ’।

এ উপন্যাসের কোন চরিত্রই কাল্পনিক নয়। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সক্রেটিস। সক্রেটিসের সাথে আছেন তার প্রধান শিষ্য দার্শনিক প্লেটো এবং সক্রেটিসের স্ত্রী জেনথিপি। ইতিহাসের জনক হেরোডটাস। ট্রাজেডি নাটকের তিন পিতা - সফোক্লিস, ইউরিপিডিস ও ইস্কিলাস। কমেডি নাটকের জনক এরিস্টোফানিস। চিকিৎশাস্ত্রের জনক হিপোক্রাটিস। এথেন্সের গণতন্ত্রের প্রধান মানুষ পেরিক্লিস। সময়ের সবচেয়ে বুদ্ধিমতী নারী এবং দার্শনিক আসপাশিয়া। এছাড়া গল্পের ছায়ায় আছেন দার্শনিক পিথাগোরাস, বিজ্ঞানের জনক থেলিস, নগর পরিকল্পনা শাস্ত্রের জনক হিপোডেমাস।

এই গল্পে সক্রেটিস দুষ্টুমি আর রসিকতায় সুন্দর জীবনের কথা বলছেন। সেই রসিকতা থেকেই প্লেটো শিখছেন জীবনবোধ, রাজনীতি, দর্শন। আমার সক্রেটিস প্রেমিক মানুষ। তিনি স্ত্রীর সাথে প্রেম করছেন, সেই সাথে করছেন তুমুল ঝগড়া। চুপিচুপি গল্প করছেন সময়ের সবচেয়ে বুদ্ধিমতী মেয়ে আসপাশিয়ার সাথে। বয়সী এক নারীর কাছে শিখছেন - প্রেম কি জিনিস। আসামী হয়ে আদালতে দাঁড়িয়ে আছেন। শান্তভাবে চুমুক দিচ্ছেন হেমলক পেয়ালায়। প্লেটো খুঁজে পাচ্ছেন - শরীরের আকর্ষণ ছাড়া সাধু সন্ন্যাসী ধরণের এক প্রেম। যার নাম প্লেটোনিক প্রেম। প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্র থেকে কবি-সাহিত্যিকদের নির্বাসন দিচ্ছেন।

ইতিহাসের জনক  হেরোডটাস এথেন্সে সফোক্লিসের কাছে আসছেন। সফোক্লিস লিখছেন 'রাজা ইদিপাস'। তার টার্গেট গণতন্ত্রের প্রধান মানুষ পেরিক্লিস। তিনি পেরিক্লিসকে মানুষের কাছে তুলে ধরছেন ইদিপাস হিসেবে। পেরিক্লিসের চিকিৎসা করতে আসছেন চিকিৎসাবিদ্যার জনক হিপোক্রাটিস। তিনি বের করছেন ডাক্তারদের শপথ - যেটি আজো 'হিপোক্রাটিক শপথ' নামে পরিচিত। হেরোডটাস এথেন্সে এসে কাহিনী বলছেন। তিনি লিখতে শুরু করেছেন - পৃথিবীর প্রথম ইতিহাস বই। হেরোডটাস অলিম্পিক গেমসের সময় বলছেন এথেন্সের কাহিনী।

এথেন্সের মানুষ আবিষ্কার করছে গণতন্ত্র। একটি পাহাড়ের উপরের বসছে পৃথিবীর প্রথম সংসদ। সেখানে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবারের উচ্চারিত হচ্ছে সমান অধিকারের কথা, আইনের শাসনের কথা। সক্রেটিস যাচ্ছেন সেই গণতন্ত্র দেখতে। তার ভালো লাগছে না। তার ভালো না লাগাটা ছড়িয়ে পড়ছে প্লেটোর মধ্যে।

সেই সক্রেটিসের সময় থেকেই যারাই জ্ঞানের জন্য আত্মনিয়োগ করেছেন, তারাই কোন না কোনভাবে ভয়াবহ বিপদে পড়েছেন। তাদের জন্য অজান্তেই প্রস্তুত হয়েছে এক পেয়ালা হেমলক। যারা অজানাকে জানতে চেয়েছেন, তারাই হেমলকের নিমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবু পথ ছাড়েননি পৃথিবীর জ্ঞান পিপাসুরা। হেমলকপ্রেমীরাই পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। বাংলাভাষী সব হেমলকপ্রেমীদের জন্য সুজন দেবনাথের উপন্যাস ‘হেমলকের নিমন্ত্রণ’। বইটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশনী।


ঢাকা/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়