ঢাকা, সোমবার, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

যে কারণে ঘূর্ণিঝড়ের নাম বুলবুল

জাহিদ সাদেক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-১০ ১:৫২:৫৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-১০ ৩:২৪:০১ পিএম

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। নামটি দিয়েছে পাকিস্তান। ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের পদ্ধতির ক্ষেত্রে অঞ্চলভেদে নাম ভিন্ন হয়। গত কয়েকশ বছর ধরে আটলান্টিক মহাসাগর এলাকায় উৎপন্ন হওয়া ঝড়গুলোর নাম দেয়া হচ্ছে। শুরুতে নিজেদের অঞ্চলের ঝড়গুলোকে বিভিন্ন নামে ডাকত ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের মানুষেরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বদলায়নি। তবে ১৯৪৫ সাল থেকে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে শুরু হয় সাইক্লোন-টাইফুন ও হারিকেন তথা ঝড়ের আনুষ্ঠানিক নামকরণ।

সাইক্লোন, টাইফুন, হারিকেন শুনতে তিনটি পৃথক ঝড়ের নাম মনে হলেও আসলে এগুলো অঞ্চলভেদে ঘূর্ণিঝড়েরই ভিন্ন নাম। সাধারণভাবে ঘূর্ণিঝড়কে সাইক্লোন বা ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়। সাইক্লোন শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ কাইক্লোস থেকে, যার অর্থ বৃত্ত বা চাকা।

ভারত মহাসাগরে উৎপন্ন ঝড়গুলোকে সাইক্লোন বলা হয়। আটলান্টিক মহাসাগর এলাকা তথা যুক্তরাষ্ট্রের আশেপাশে ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ যখন ঘণ্টায় ৭৪ মাইলের বেশি হয়, তখন জনগণকে এর ভয়াবহতা বুঝাতে ‘হারিকেন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। মায়াদেবতা হুরাকান- যাকে বলা হতো ঝড়ের দেবতা, তার নাম থেকেই হারিকেন। তেমনিভাবে প্রশান্ত মহাসাগর এলাকা তথা চীন, জাপানের আশেপাশে হারিকেন-এর পরিবর্তে ‘টাইফুন’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে দেখা গেল যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়াবিদরা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের নাম দিতে শুরু করেন মেয়েদের নামে। এ নিয়ে নারীবাদীদের তুমুল সমালোচনা শুরু হলে পরে তারা বর্ণমালার ক্রমিক অনুযায়ী ঝড়ের নাম দেয়া শুরু করেন। ১৯ শতকের শেষের দিকে দক্ষিণ গোলার্ধের আবহাওয়াবিদরা পুরুষের নাম দেয়া শুরু করেন।

২০০০ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সভায় আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগরের সাইক্লোনের নামকরণ নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত হয়। সদস্য দেশগুলোর দাবির মুখে ২০০৪ সাল থেকে আমাদের এ অঞ্চলে ঝড়ের নাম দেয়া শুরু হয়। এক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত একটি নামের তালিকা থেকে একেকটি ঝড়ের নামকরণ হয়। কোনো ঝড়ের গতিবেগ যদি ঘণ্টায় ৩৯ মাইল হয়, তাহলে তার একটি নাম দেয়া হয়। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া অফিসগুলো এই নামকরণের দায়িত্ব পালন করে। ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয়ার কারণও বেশ সহজ। এগুলোর এমন নাম দেয়া হয় যেন বিজ্ঞানী থেকে সাধারণ মানুষ সহজে মনে রাখতে পারে।

নামকরণ করে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার অধীনে বিভিন্ন আঞ্চলিক কমিটি। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এই আঞ্চলিক কমিটি তৈরি করে সমুদ্রের ওপর ভিত্তি করে। যেমন, উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট সব ঝড়ের নামকরণ করবে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড এবং ওমান। এদের একত্রে ‘স্কেপে’ বলা হয়। আঞ্চলিক এই আটটি দেশ একেকবার আটটি করে ঝড়ের নাম প্রস্তাব করে। প্রথম দফায় মোট ৬৪টি নাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। যেমন কিছুদিন আগের ঘূর্নিঝড় ‘ফণি’ নামটি বাংলাদেশের দেয়া। এরপরের ঝড়ের নামকরণ করে ভারতের প্রস্তাব অনুযায়ী ‘ভায়ু’। আর এখন চলছে পাকিস্তানের দেয়া নাম- বুলবুল। বুলবুলের পর আসছে পাউয়ান বা পবন এবং আম্ফান।

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেন, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার বৈঠকে বাংলাদেশের এক বা একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অংশ নিয়ে থাকেন। আগে থেকে তারা আলোচনা করে নেন- কী নাম রাখবেন। তিনি আরো বলেন,  ঝড়ের নাম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হয়, যাতে সেটি ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা সামাজিকভাবে কোনোরকম বিতর্ক বা ক্ষোভ তৈরি না করে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে একটি ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয়া হয়েছিল ‘মহাসেন’। নামটি প্রস্তাব করেছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু সেখানকার সাবেক একজন রাজার নাম ছিল মহাসেন। যিনি ওই দ্বীপে সমৃদ্ধি নিয়ে এসেছিলেন। ফলে এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এমনকি শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যমে সেটিকে ‘নামহীন ঝড়’ বলে বর্ণনা করা হয়। পরবর্তী সময়ে রেকর্ডপত্রে ঝড়টির নতুন নাম নির্ধারণ করা হয় ‘ভিয়ারু’।


ঢাকা/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন