ঢাকা     বুধবার   ২৯ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪৩১

নীহাররঞ্জন গুপ্তের জন্মদিন আজ

শাহ মতিন টিপু || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৪৩, ৬ জুন ২০২৩   আপডেট: ১২:০৩, ৬ জুন ২০২৩
নীহাররঞ্জন গুপ্তের জন্মদিন আজ

নীহাররঞ্জন গুপ্তের ১১৩ তম জন্মদিন আজ। এই বাঙালি ঔপন্যাসিকের পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামে। বাড়িটি বাংলাদেশের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ২০০৩ সালে বাসভবনটিকে বাংলাদেশ সরকার সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা করে।

নীহাররঞ্জনের জন্ম ১৯১১ সালের ৬ জুন তার বাবার কর্মস্থল কোলকাতায়। ১৯৮৬ সালের ২০ জানুয়ারি তিনি মারাও যান কোলকাতায়। 

নীহাররঞ্জনের উপন্যাসের একটি বিখ্যাত গোয়েন্দা-চরিত্র কিরীটী রায়। তার ‘কালোভ্রমর’ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে সত্যসন্ধানী এই গোয়েন্দা চরিত্রের আবির্ভাব ঘটে। তার লেখার কারণে কিরীটী রায় সত্তর-আশির দশকের সদ্য ফোটা কিশোরী থেকে প্রায় সব যুবতীর হার্টথ্রবে পরিণত হন। তা এতোটাই জনপ্রিয়তা পায় যে, কিরীটী চরিত্রের উপর ভিত্তি করে বেশকিছু চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে।

বাবা সত্যরঞ্জন গুপ্ত ও মা লবঙ্গলতা দেবী। চাকরিজীবী বাবা বিভিন্ন কর্মস্থলে অবস্থানকালে নীহার রঞ্জন গাইবান্ধা হাইস্কুলসহ বেশ কয়েকটি স্কুলে পড়ালেখা করেন। ১৯৩০ সালে ভারতের কোন্ননগর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। পরবর্তীতে কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে আইএসসি পাস করে কারমাইকেল মেডিক্যাল কলেজে থেকে ডাক্তারি পড়েন। এরপর লন্ডন থেকে চর্মরোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

নীহার রঞ্জন গুপ্ত দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরিত হন। তিনি মেজর পদেও উন্নীত হন। চাকরি সূত্রে চট্টগ্রাম, বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার), মিশর পর্যন্ত বিভিন্ন রণাঙ্গনে ঘুরে বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেন। ভারত বিভক্তির পর ১৯৪৭ সালে পরিবারসহ স্থায়ীভাবে কলকাতায় বসবাস করেন।

নীহার রঞ্জন গুপ্তের উপন্যাসের সংখ্যা দুইশ'রও বেশি। ‘মঙ্গলসূত্র’, ‘উর্বশী সন্ধ্যা’, ‘উল্কা’, ‘বহ্নিশিখা’, ‘অজ্ঞাতবাস’, ‘অমৃত পাত্রখানি’, ‘ইস্কাবনের টেক্কা’, ‘অশান্ত ঘূর্ণি’, ‘মধুমতি থেকে ভাগীরতী’, ‘কোমল গান্ধার’, ‘অহল্যাঘুম’, ‘ঝড়’, ‘সেই মরু প্রান্তে’, ‘অপারেশন’, ‘ধূসর গোধূলী’, ‘উত্তর ফাল্গুনী’, ‘কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী’, 'কলোভ্রমর, ‘ছিন্নপত্র’, ‘কালোহাত’, ‘ঘুম নেই’, ‘পদাবলী কীর্তন’, ‘লালু ভুলু’, ‘কলঙ্ককথা’, ‘হাসপাতাল’, ‘কজললতা’, ‘অস্থি ভাগীরথী তীরে’, ‘কন্যাকুমারী’, ‘সূর্য তপস্যা’, ‘মায়ামৃগ’, ‘ময়ূর মহল’, ‘বাদশা’, ‘রত্রি নিশীথে’, ‘কনকপ্রদীপ’, ‘মেঘকালো’, ‘কাগজের ফুল’, ‘নিরালাপ্রহর’, ‘রাতের গাড়ী’, ‘কন্যাকেশবতী’, ‘নীলতারা’, ‘নূপুর’, ‘নিশিপদ্ম’, ‘মধুমিতা’, ‘মুখোশ’, ‘রাতের রজনী গন্ধা’- এসব তারই রচিত উপন্যাস।  

তার অনেক উপন্যাস বাংলা ও হিন্দি ভাষায় চলচ্চিত্রায়ণ করা হয়েছে।

/টিপু/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়