ঢাকা     শনিবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১১ ১৪৩০

কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ৯১তম জন্মদিন আজ

শাহ মতিন টিপু || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:১৬, ২৫ নভেম্বর ২০২৩   আপডেট: ১৩:১৭, ২৫ নভেম্বর ২০২৩
কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ৯১তম জন্মদিন আজ

অবনী বাড়ি আছো/দুয়ার এঁটে ঘুমিয়ে আছে পাড়া/কেবল শুনি রাতের কড়ানাড়া/‘অবনী বাড়ি আছো?’/বৃষ্টি পড়ে এখানে বারোমাস/এখানে মেঘ গাভীর মতো চরে/পরাঙ্মুখ সবুজ নালিঘাস/দুয়ার চেপে ধরে–/‘অবনী বাড়ি আছো?’

কবিতাটি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের। সাহসী ও কবিতায় সচরাচর ব্যবহৃত হয় না, এমন সব শব্দ শক্তি অনায়াসে ব্যবহার করেন।

এই কবির ৯১তম জন্মদিন আজ। তার জন্ম ১৯৩৩ সালের ২৫ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার জয়নগরে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে। মা কমলা দেবী এবং বাবা রামনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়। চার বছর বয়সে শক্তি বাবাকে হারান এবং পিতামহ তার দেখাশোনা শুরু করেন। 

শক্তি চট্টোপাধ্যায় একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, লেখক ও অনুবাদক। তাকে জীবনানন্দ-উত্তর যুগের বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান আধুনিক কবি মনে করা হয়।

১৯৪৮ সালে শক্তি কলকাতার বাগবাজারে আসেন। এখানে মহারাজা কাশিম বাজার পলিটেকনিক বিদ্যালয়ে পড়াকালীন তিনি এক শিক্ষক দ্বারা মার্কসবাদে উদ্বুদ্ধ হন।১৯৪৯ সালে তিনি প্রগতি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ‘প্রগতি’ নামে হাতে-লেখা পত্রিকা প্রকাশ করতে শুরু করেন।পরবর্তীতে তা মুদ্রিত রূপ নেয় এবং নাম বদলে ‘বহ্নিশিখা’ রাখা হয়।

১৯৫১ সালে তিনি ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) সদস্য হন। ১৯৫৩ সালে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক বাণিজ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বাংলা সাহিত্যে স্নাতক অধ্যয়নের জন্যে প্রেসিডেন্সি কলেজে কিন্তু পরীক্ষায দেননি। স্নাতক পাঠ অর্ধসমাপ্ত রেখে প্রেসিডেন্সি কলেজ ত্যাগ করেন এবং সাহিত্যকে জীবিকা করার উদ্দেশ্যে উপন্যাস লেখা আরম্ভ করেন।

শক্তি চট্টোপাধ্যায় বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকলেও কোনো পেশায় দীর্ঘস্থায়ী ছিলেন না। তিনি ১৯৭০ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় কাজ করেছেন। বিয়ে করেছিলেন মীনাক্ষী চট্টোপাধ্যায়কে, তিনিও একজন  লেখক। ১৯৬৫ সালে আড্ডার মধ্য দিয়ে তাদের প্রথম সাক্ষাত ঘটে। তাদের মেয়ে তিতি চট্টোপাধ্যায়।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস ‘কুয়োতলা’। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'হে প্রেম, হে নৈশব্দ'। 

১৯৭৫ সালে তিনি আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।১৯৮৩ সালে তার ‘যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো’ কাব্য’র জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।এছাড়া তিনি আরও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।

১৯৯৫ সালের ২৩ মার্চ ৬১ বছর বয়সে তিনি কলকাতায় মারা যান।

/টিপু/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়