প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি লেখার কারণ জানালেন এভারেস্টজয়ী শাকিল
রাশিদা খাতুন || রাইজিংবিডি.কম
ইকরামুল হাসান শাকিল
এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল ১১টা ৪ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে চিঠিটি প্রকাশ করেন। এ চিঠিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ক্রীড়াবিদদের জন্য স্পোর্টস কার্ড ও মাসিক ভাতা চালুর উদ্যোগকে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন শাকিল।
সরকার প্রথমবারের মতো ক্রীড়া ভাতা চালু করেছে। প্রথম পর্যায়ে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে এককালীন ১ লাখ টাকা ও ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য পাওয়া ক্রীড়াবিদদের আর্থিক পুরস্কারও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এখন থেকে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা মাসিক ১ লাখ টাকা ভাতা পাবেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হবে। এই তালিকায় পর্বতারোহীদের কোনো নাম নেই বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইকরামুল হাসান শাকিল।
রাইজিংবিডির সঙ্গে আলাপকালে পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল বলেন, “আসলে পবর্তারোহণ একটি এক্সট্রিম স্পোর্ট। এটা পৃথিবীর সব দেশেই মর্যাদাপূর্ণ একটি স্পোর্টস। যেখানে ব্রিটেনে ‘নাইটহুড’ উপাধি থেকে শুরু করে, ভারতে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কার দেওয়া হয়। এই স্পোর্টটিকে সব দেশেই ভালোভাবে মূল্যায়ন করা হয়। শুধু বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে এর কোনো মূল্যায়ন হয়নি। কোনো সহযোগিতা তো করা হয়ই না, ন্যূনতম মূল্যায়নও করা হয় না।”
স্বীকৃতি না থাকার ফলে পর্বতারোহন যারা করছেন, ভবিষ্যতে যারা পর্বতারোহণ করবেন বলে স্বপ্ন দেখছেন—তারা সবাই ভবিষ্যৎ দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন বলে মনে করেন ইকরামুল হাসান শাকিল।
একা লড়াই করার গল্প স্মরণ করে ইকরামুল হাসান শাকিল বলেন, “এভারেস্ট জয় করে এসেও আমাকে চিন্তা করতে হচ্ছে, আমি কীভাবে টিকে থাকব। আমি কোনো কাজেই সরকারের কোনো সহযোগিতা পাই না। শেষবার যখন অভিযানে গিয়েছিলাম, তখন একটি ভিসার জন্য আমাকে একা লড়াই করতে হয়েছিল।”
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা উল্লেখ করে ইকরামুল হাসান শাকিল বলেন, “এই যে আমরা সহযোগিতা পাই না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও পায় না। আমি যখন কোথাও কথা বলতে যাই, তখন ছোট ছোট বাচ্চারা খুবই উৎসাহ দেখায়। তাদের অনেকে বড় হয়ে পর্বতারোহী হতে চায়। কিন্তু আমাদের ভেতরে এক ধরনের অপরাধবোধ কাজ করে। কারণ আমরা তাদের ভালো ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাতে পারছি না।”
কারণ ব্যাখ্যা করে ইকরামুল হাসান শাকিল বলেন, “একজন শিক্ষার্থী যখন লেখাপড়ার পাশাপাশি পর্বতারোহী হওয়ার চেষ্টা করবে, তখন তার অর্থনৈতিক সহায়তা লাগবে। এই জায়গা থেকে আমি প্রধানমন্ত্রীকে একটি খোলা চিঠি লিখেছি। যারা আমাদের সিনিয়র, তারা হয়তো চক্ষুলজ্জার কারণে কিছু বলেননি। আমার জায়গা থেকে মনে হয়েছে, কাউকে দোষারোপ না করে নিজের কণ্ঠটা তুলে ধরি। আমি বলতে চেয়েছি—আমাদের কী প্রয়োজন।”
পর্বতারোহীদের সফলতা কম নেই উল্লেখ করে ইকরামুল হাসান শাকিল বলেন, “আমাদের দেশে এখন ছয়-সাতজন এভারেস্ট জয় করে ফেলেছেন। এটাও তো একটা পিআর, রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন। রাষ্ট্র যদি একটু মূল্যায়ন করে, আমাদের পাশে দাঁড়ায়, আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে—তাহলে আমাদের তরুণ প্রজন্ম স্বাভাবিকভাবেই আরও ভালো করবে। আমরা যারা আছি, তারা তরুণ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখাতে পারব।”
ঢাকা/লিপি/শান্ত
চার বছরে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে: প্রধানমন্ত্রী