ঢাকা     শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২২ ১৪৩৩ || ১৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

জেনজিদের পছন্দ ‘মাইক্রো-রিটায়ারমেন্ট’

জেন-জি পালস ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২৫, ১ জুন ২০২৬  
জেনজিদের পছন্দ ‘মাইক্রো-রিটায়ারমেন্ট’

ছবি: প্রতীকী

প্রতিদিনের নির্ধারিত সময় মেনে অফিসে যাওয়া, অসংখ্য ইমেইলের জবাব দেওয়া, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা এবং নানা ধরনের পেশাগত দায়িত্ব পালন—আধুনিক কর্মজীবনের এই চিত্র অনেকের কাছেই ক্লান্তিকর। তাই একদিন অবসরে গিয়ে এসব চাপ থেকে মুক্ত হওয়ার স্বপ্নই অনেককে কর্মজীবনের কঠিন সময়গুলো পার করতে সাহায্য করে।

তবে এখন আর অবসরের জন্য জীবনের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইছে না নতুন প্রজন্ম। বিশেষ করে জেন-জি কর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে একটি নতুন ধারণা—‘মাইক্রো-রিটায়ারমেন্ট’। কর্মজীবনের মাঝেই পরিকল্পিতভাবে দীর্ঘ বিরতি নিয়ে বিশ্রাম ও নিজের জন্য সময় বের করে নেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।

আরো পড়ুন:

কী এই মাইক্রো-রিটায়ারমেন্ট?
সাধারণভাবে অবসর গ্রহণ বলতে বোঝায় দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে চাকরি থেকে সরে দাঁড়ানো। কিন্তু মাইক্রো-রিটায়ারমেন্ট হলো সেই অবসরের ক্ষুদ্র সংস্করণ। এতে কর্মীরা চাকরি বা ব্যবসা থেকে সাময়িক বিরতি নেন, যাতে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে পুনরুজ্জীবিত হতে পারেন। এই বিরতি সাধারণ ছুটি বা পেইড টাইম অফ নয়। বরং এটি সচেতনভাবে নেওয়া বেতনবিহীন সময়, যার মাধ্যমে ব্যক্তি কাজের চাপ থেকে সাময়িক মুক্তি পান।

কেন জনপ্রিয় হচ্ছে?
জেন-জি প্রজন্মের অনেকেই মনে করেন, জীবনের সেরা সময়গুলো শুধুমাত্র অবসরের জন্য জমিয়ে রাখা উচিত নয়। তারা কর্মজীবনের বিভিন্ন ধাপে ভ্রমণ, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন, ব্যক্তিগত উন্নয়ন কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য বিরতি নিতে আগ্রহী।

বার্নআউট বা কর্মক্ষয় বর্তমানে কর্মক্ষেত্রের একটি বড় সমস্যা। দীর্ঘদিন একই রুটিনে কাজ করতে করতে অনেকেই মানসিক ক্লান্তি ও অনুপ্রেরণার অভাবে ভোগেন। মাইক্রো-রিটায়ারমেন্ট সেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার একটি উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী ভবিষ্যতে মাইক্রো-রিটায়ারমেন্ট নেওয়ার কথা ভাবছেন। একই সঙ্গে ৭৫ শতাংশ মনে করেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেতনবিহীন সাব্বাটিক্যাল বা দীর্ঘ কর্মবিরতির মতো সুযোগ চালু করা উচিত।

মাইক্রো-রিটায়ারমেন্টের ধরন
মাইক্রো-রিটায়ারমেন্ট বিভিন্নভাবে হতে পারে। কেউ চাকরি ছেড়ে কিছুদিন বিরতি নিয়ে পরে নতুন চাকরিতে যোগ দেন। কেউ আবার নিয়োগকর্তার সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পরপর বেতনবিহীন ছুটি নেন। ব্যবসায়ীরা চাইলে নিজেদের কাজ থেকেও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দূরে থাকতে পারেন।

বিরতির মাধ্যমে নতুন উদ্দীপনা
জেন-জি উদ্যোক্তা জোশুয়া চার্লসের অভিজ্ঞতা মাইক্রো-রিটায়ারমেন্টের জনপ্রিয়তার একটি উদাহরণ। আফ্রিকায় বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া তাঁর প্রতিষ্ঠান প্রতি ছয় মাস পরপর তাঁকে দুই সপ্তাহের বিরতি নেওয়ার সুযোগ দেয়।

চার্লসের ভাষায়, এই বিরতিগুলো তার জন্য এক ধরনের পুরস্কার। তিনি সেই সময় বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন, নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন এবং কাজের নতুন অনুপ্রেরণা নিয়ে ফিরে আসেন। তার মতে, নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পর নিজেকে এমনভাবে পুরস্কৃত করা কর্মোদ্যম ধরে রাখতে সাহায্য করে।

সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ
মাইক্রো-রিটায়ারমেন্ট কর্মীদের মানসিক স্বস্তি, নতুন অভিজ্ঞতা এবং কাজের প্রতি আগ্রহ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। তবে এর কিছু ঝুঁকিও রয়েছে।

দীর্ঘ সময় আয় বন্ধ থাকলে ব্যক্তিগত সঞ্চয় ও আর্থিক পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতা এবং পদোন্নতির সুযোগও কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাইক্রো-রিটায়ারমেন্ট নেওয়ার আগে পর্যাপ্ত আর্থিক প্রস্তুতি এবং সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা জরুরি।

বদলে যাচ্ছে কাজের ধারণা
একসময় কর্মজীবন ও অবসরকে দুটি সম্পূর্ণ আলাদা অধ্যায় হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু নতুন প্রজন্ম সেই ধারণাকে বদলে দিচ্ছে। তাদের কাছে কাজই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়; বরং কাজ, ব্যক্তিগত জীবন এবং মানসিক সুস্থতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মাইক্রো-রিটায়ারমেন্ট সেই পরিবর্তিত মানসিকতারই প্রতিফলন, যেখানে মানুষ জীবনের আনন্দ ও অভিজ্ঞতাগুলোকে ভবিষ্যতের জন্য তুলে না রেখে বর্তমানেই উপভোগ করতে চায়।

সূত্র: ফাস্ট কোম্পানি

ঢাকা/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়