যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ভেনেজুয়েলায় অন্তত ৪০ জন নিহত
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার লক্ষ্যে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন সামরিক অভিযানে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক মানুষও রয়েছেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়। খবর আল-জাজিরার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভেনেজুয়েলার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মার্কিন হামলায় অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও সেনাসদস্য রয়েছে।’
মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে ১৫০টির বেশি মার্কিন বিমান মোতায়েন করা হয়, যাতে সামরিক হেলিকপ্টারগুলো নিরাপদে সেনা নামাতে পারে। এরপর সেই সেনারাই মাদুরোর অবস্থানে হামলা চালায়।
ভেনেজুয়েলার সূত্র জানায়, কারাকাস বিমানবন্দরের পশ্চিমে দরিদ্র উপকূলীয় এলাকা ‘কাটিয়া লা মার’ এলাকার একটি আবাসিক ভবনেও বিমান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে রোসা গঞ্জালেজ নামে ৮০ বছর বয়সী এক নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, মাদুরোকে আটক করে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ফ্লোরিডায় একটি সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, আপাতত ভেনেজ়ুয়েলার শাসনভার যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই থাকবে। তিনি বলেন, “যতদিন না আমরা নিরাপদ, সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারছি, ততদিন আমরাই ওই দেশ পরিচালনা করব। ভেনেজ়ুয়েলার স্বার্থ বোঝে না এমন কারো হাতে আমরা ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার ঝুঁকি নিতে পারি না।” সেই সঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের ভাণ্ডার ব্যবহার করে তা অন্যান্য দেশে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের।
ইরাক যুদ্ধের পর কোনো দেশে এমন সরাসরি ক্ষমতা দখলের ঘটনা নজিরবিহীন। সমালোচকরা ইতিমধ্যেই এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, মাদুরোকে বন্দি করার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ আইনত।
ঢাকা/ফিরোজ