গ্রিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে ‘হুমকি’ বন্ধ করতে বললেন ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন গ্রিনল্যান্ড দখলের ‘হুমকি’ বন্ধ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলা একেবারেই অর্থহীন।” তিনি আরো যোগ করেন, “ডেনিশ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত তিনটি জাতির কোনোটিকেই দখল করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।”
ট্রাম্পের অন্যতম সহযোগী স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার মার্কিন পতাকার রঙে গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্রের সঙ্গে “খুব তাড়াতাড়ি’ ক্যাপশন লিখে টুইট করার পর ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করলেন।
ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও খনিজ সম্পদের কথা উল্লেখ করে দীর্ঘদিন থেকেই দ্বীপটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলে আসছেন।
ডেনিশ সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ‘খুব সরাসরি’ কথা বলছেন।
তিনি জানান, ডেনমার্ক এবং সেই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড, ন্যাটোর সদস্য এবং এই জোটের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার আওতাভুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রিনল্যান্ডে যাতায়াতের সুবিধার্থে ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগে থেকেই একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে এবং ডেনমার্ক উত্তর মেরু অঞ্চলে নিরাপত্তার জন্য বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, “তাই আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জোরালোভাবে অনুরোধ করছি, তারা যেন একজন ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং অন্য একটি দেশ ও জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ করে, যারা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা বিক্রির জন্য নয়।”
এই বাদানুবাদ এমন এক সময়ে শুরু হলো যখন গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে গেছে।
পরবর্তীতে ট্রাম্প বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে এবং দেশটির তেল শিল্পে মার্কিন কোম্পানিগুলো জোড়ালোভাবে যুক্ত হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগে আর্কটিকের বিশাল দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি নাকচ করতে অস্বীকার করেছিলেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করা মার্কিন নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য সহায়ক হবে, কারণ এর কৌশলগত অবস্থান এবং উচ্চ-প্রযুক্তি খাতের জন্য প্রয়োজনীয় প্রচুর খনিজ সম্পদ রয়েছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডের জন্য একজন ‘বিশেষ দূত’ নিয়োগ করায় ডেনমার্কে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সাল থেকে স্বায়ত্তশাসিত, তবে এর প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র নীতি ডেনমার্ক নিয়ন্ত্রণ করে।
যদিও বেশিরভাগ গ্রিনল্যান্ডবাসী ডেনমার্ক থেকে চূড়ান্ত স্বাধীনতার পক্ষে, তবে জনমত জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার ব্যাপারে সেখানে ব্যাপক বিরোধিতা রয়েছে।
ঢাকা/ফিরোজ