সেশনজটে পিছিয়ে পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা
পাবিপ্রবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা যেখানে নিয়মিতভাবে অনার্স শেষবর্ষের একাডেমিক কার্যক্রমে অগ্রসর হয়েছেন, সেখানে একই সেশনের পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা এখনো তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্লাস করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গুচ্ছভুক্ত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত সময়সূচি মেনে সেমিস্টার কার্যক্রম এগিয়ে নিলেও পাবিপ্রবিতে প্রতিটি সেমিস্টার শেষ করতে নির্ধারিত ছয় মাসের সঙ্গে অতিরিক্ত ১৫–২০ দিন সময় লাগছে। ফলে একই সেশনের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় তারা উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী হান্নান শাহ্ বলেন, “অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের সেশনের বন্ধুরা যেখানে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে, আমরা সেখানে এখনো ৩-২ সেমিস্টারে। প্রতি সেমিস্টারে বাড়তি সময় লাগায় আমরা ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছি। হতাশার বিষয় হলো, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও এখন আমাদের চেয়ে এগিয়ে।”
তিনি মনে করেন, অনার্সের শেষ তিনটি সেমিস্টারের সময় কিছুটা কমিয়ে বাস্তবসম্মত একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা গেলে জুনিয়র ব্যাচের সঙ্গে ইমপ্রুভ সংক্রান্ত জটিলতা কমবে। পাশাপাশি বিসিএসসহ অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় সময়মতো অংশ নেওয়াও সম্ভব হবে।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ইনজামামুল হক জানান, ৩.১ সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৫ সালের অক্টোবরে এবং ৩.২ সেমিস্টারের পরীক্ষা হচ্ছে ২০২৬ সালের এপ্রিল–মে মাসে। তার ভাষ্য, “করোনা-পরবর্তী সময়ে একটি সেমিস্টার ৪.৫ থেকে ৫ মাসে শেষ হওয়া উচিত ছিল। সেখানে ৭–৮ মাস সময় নেওয়া হচ্ছে, যা আমাদের ব্যাচকে অযথা পিছিয়ে দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, “২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ক্লাস শুরু হওয়ার হিসাব অনুযায়ী এ সময়ের মধ্যে অন্তত ছয়টি সেমিস্টার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২০২৬ সালে অনার্স সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।”
এ বিষয়ে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মীর হুমায়ূন কবীর বলেন, “বিষয়টি আমরা বৈঠকে আলোচনা করেছি। ফল প্রকাশ প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে সেশনজট পুরোপুরি কমানো সম্ভব হচ্ছে না। যে সময়গত ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া কঠিন। তবে নতুন শিক্ষার্থীরা যাতে আর পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য আমরা কাজ করছি।”
ঢাকা/আতিক/জান্নাত