সিরাজগঞ্জে বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
শীত উপেক্ষা করে কাজের জন্য বের হয়েছেন সিরাজগঞ্জ শহরের বাসিন্দারা
যমুনাপাড়ের জেলা সিরাজগঞ্জে বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে কনকনে শীতে ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে দিনমজুর ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে রয়েছেন।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে এই জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতিকে আরো তীব্র করে তুলেছে। শনিবার সকালে সিরাজগঞ্জে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়।
সিরাজগঞ্জ শহরের রিকশাচালক রহিজ উদ্দিন বলেন, “ঝিরি ঝিরি বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে। এ কারণে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। রাস্তায় তেমন মানুষ নেই। যে কারণে যাত্রী পাচ্ছি না। সংসার চালাতে ঠান্ডার মধ্যেই রিকশা নিয়ে বের হতে হয়েছে।”
ইট ভাটার নারী শ্রমিক ছকিনা বেওয়া বলেন, “কুয়াশার সঙ্গে প্রচণ্ড ঠান্ডা। শরীর ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে। তারপরেও কাজ করতে হয়। ইট সাজিয়ে রাখার কাজ করছি। কাজ না করলে খাবো কি?”
তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টির মতো ঝিরিঝিরি কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়াও বইছে, যে কারণে শীতের তীব্রতা বেশি। সকালে তাড়াশে তাপমাত্রা ১০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকতে পারে। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শীতের প্রকোপ বেশি অনুভূত হচ্ছে।”
সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আকিকুন নাহার বলেন, “শিশু ও বয়স্ক মানুষ নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও জ্বরসহ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শীত মৌসুমে শিশু ও বৃদ্ধদের সতর্কতার সঙ্গে পরিচর্যা করতে হবে।”
ঢাকা/অদিত্য/মাসুদ