রামপালে সড়ক দুর্ঘটনা: বরসহ ৯ জনের মরদেহ বাড়িতে, জুমার পর দাফন
বাগেরহাট সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
রামপালে বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত ৯ জনের মরদেহ বাড়িতে আনা হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।
বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতেদের মধ্যে বর, তার বাবা, ভাই-বোনসহ একই পরিবারের ৯ জনের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোরের দিকে তাদের মরদেহ বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শেহালাবুনিয়া গ্রামে এসে পৌঁছায়। এ সময় সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ জুমার নামাজ শেষে ৯ জনকে দাফন করা হবে।
সকালে মোংলা উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন শেহালাবুনিয়ায় বরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মানুষের ভিড়। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার খবর পেয়ে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন। শোকে স্তব্ধ পরিবেশে আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির ভেতরে পরিবারের নিহত চার নারীর মরদেহ রাখা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ চত্বরে রাখা হয়েছে বাকি পাঁচজনের মরদেহ।
স্থানীয় বাসিন্দা শরীফ হাবিবুর রহমান বলেন, “একসঙ্গে এতগুলো লাশ আগে কখনো দেখিনি। এই দৃশ্য সহ্য করার মতো না।”
নিহত আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই মো. সাজ্জাদ সরদার জানান, তাদের বেড়ে ওঠা মোংলাতে হলেও আদি বাড়ি কয়রায়। তিনি বলেন, “রাজ্জাক ভাই মেয়ের বিয়েও দিয়েছিলেন কয়রায়। এবার ছেলের বিয়ে দিলেন। দুর্ঘটনায় পুরো পরিবারটাই শেষ হয়ে গেল।”
তিনি জানান, আশপাশের নয়টি মসজিদ থেকে খাটিয়া আনা হয়েছে। গোসল শেষে একে একে নয়জন স্বজনের মরদেহ খাটিয়ায় রাখা হয়েছে। আজ জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে জানাজা শেষে তাদের পৌর কবরস্থানে দাফন করা হবে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তার মিতুর সঙ্গে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমান ছাব্বিরের বিয়ে হয়। কনের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা একটি মাইক্রোবাসে করে কয়রা থেকে বাগেরহাটের মোংলায় বরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
মোংলার কাছাকাছি রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা নৌ বাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত একজন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় নিহতরা হলেন- বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং তাদের সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। এছাড়া কনে মার্জিয়া আক্তার মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম, নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈম মারা যান। নাঈমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে।
নিহত উম্মে সুমাইয়া ঐশীর শ্বশুর মো. আব্দুল আলীম জানান, রাজ্জাকের আদি বাড়ি কয়রায়। বিয়ের অনুষ্ঠানে তিনিও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, “তারা দুপুরের পর রওনা দেয়। দুর্ঘটনায় আমার পুত্রবধূ ও একমাত্র নাতিও মারা গেছে।”
ঢাকা/আমিনুল/মাসুদ