ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৩ ১৪৩২ || ৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

পরিস্থিতি এখন ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৩১, ১২ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৭:০৪, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
পরিস্থিতি এখন ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে: ইরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি

ইরানজুড়ে চলমান নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও অস্থিরতা কাটিয়ে দেশের পরিস্থিতি এখন ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই দাবি করেন। আরাঘচি জানান, গত সপ্তাহান্তে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতার মাত্রা ব্যাপক বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। তবে তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে ওয়াশিংটন সহিংসতাকে উৎসাহিত করছে বলে তিনি দায় চাপান।

আরো পড়ুন:

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি মূলত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে উৎসাহিত করেছে, যাতে তারা বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনী- উভয়কেই লক্ষ্যবস্তু বানায় এবং এর মাধ্যমে একটি বিদেশি হস্তক্ষেপের পথ প্রশস্ত হয়।”

আরাকচি জানান, ইরান সরকারের কাছে রাস্তায় অস্ত্র বিতরণের ফুটেজ রয়েছে এবং শিগগির আটককৃতদের স্বীকারোক্তি প্রকাশ করা হবে। তিনি আরো যোগ করেন, কর্মকর্তারা পরিস্থিতি ‘নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ’ করছেন এবং এই বিক্ষোভগুলো বিদেশি উপাদান দিয়ে ‘উসকে দেওয়া ও ইন্ধন দেওয়া’ হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা এর জন্য দায়ী তাদের বিচার করা হবে।

আরাকচি বলেন, ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভগুলো প্রথমে ‘শান্তিপূর্ণ ও বৈধ’ ছিল, কিন্তু দ্রুতই তা পথ হারায় এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদসহ বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় দেশের বিরুদ্ধে একটি ‘সন্ত্রাসবাদী যুদ্ধে’ রূপ নেয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনী প্রথমে ‘শান্ত ও সংযমের’ সঙ্গে বিক্ষোভ মোকাবিলা করেছিল, কিন্তু পরে ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীগুলো বিক্ষোভে অনুপ্রবেশ করে এর গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়।”

নরওয়েভিত্তিক এনজিও ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর তথ্যমতে, গত তিন বছরের মধ্যে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে হওয়া এই বৃহত্তম বিক্ষোভে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছেন। ইরান নিহতের কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা জানায়নি।

এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি কড়া বার্তার মাধ্যমে ট্রাম্পের বক্তব্যের সরাসরি জবাব দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ফার্সি ভাষায় তিনি লিখেছেন, “যে ব্যক্তি অহংকার ও দম্ভ নিয়ে সেখানে বসে সারা বিশ্বকে বিচার করছে, সে যেন জেনে রাখে যে ফেরাউন, নমরুদ, রেজা শাহ, মোহাম্মদ রেজা শাহ এবং তাদের মতো বিশ্বের অহংকারী ও অত্যাচারী শাসকরা যখন তাদের দম্ভের শিখরে ছিল, তখনই তাদের পতন হয়েছিল; তারও পতন হবে।”

ইরানে টানা চতুর্থ দিনের মতো ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে। জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ‘সহিংসতা ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের’ খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ইরান সরকারকে ‘সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং অপ্রয়োজনীয় বা অসম শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার’ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তেহরানকে ইন্টারনেট সংযোগ পুনরায় চালু করার জন্যও চাপ দেন।

এদিকে, ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে খোলাখুলি আলোচনা করছে। ট্রাম্প তার সিনিয়র উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করে সাইবার হামলা, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং এমনকি সামরিক হামলার মতো বিকল্পগুলো পর্যালোচনা করছেন। রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আমরা খুবই কঠোর কিছু পদক্ষেপের কথা ভাবছি।”

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভুল হিসাব’ না করার বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, “আমরা পরিষ্কার করে বলে দিই- ইরানে হামলা হলে অধিকৃত অঞ্চলসমূহ (ইসরায়েল) এবং সব মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।”

গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে তেহরানে বিক্ষোভের সূত্রপাত হলেও, পরবর্তীতে তা ইরান সরকারের বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভে রূপ নেয়।

ঢাকা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়