মার্কিন অর্থের ওপর নির্ভরতা শেষ করা উচিত ইসরায়েলের: নেতানিয়াহু
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি আগামী ১০ বছরের মধ্যে মার্কিন আর্থিক সহায়তার ওপর থেকে তার দেশের নির্ভরতা পুরোপুরি কমিয়ে আনতে চান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি জনসমর্থন কমার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘কারসাজি’কে দায়ী করেছেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি।
প্রতিবেদনে বল হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল মার্কিন বৈদেশিক সাহায্যের সবচেয়ে বড় গ্রহীতা। ১৯৪৮ সাল থেকে দেশটি ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়ত বাবদ ৩০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি গ্রহণ করেছে।
২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত একটি ১০ বছর মেয়াদি চুক্তির অধীনে, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলকে ৩৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ৫ বিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, মার্কিন সহায়তা দেশটির সামরিক বাজেটের প্রায় ১৬ শতাংশ।
রবিবার (১০ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক ‘পুনরায় পরীক্ষা করা ও সম্ভবত রিসেট’ করার সময় এসেছে কি না।
উত্তরে তিনি বলেন, “অবশ্যই। আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এটি বলেছি। আমি আমাদের নিজেদের মানুষকেও এটি বলেছি। তারা তো শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিল।”
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সামরিক সহযোগিতার যে আর্থিক অংশ রয়েছে, আমি সেই মার্কিন আর্থিক সহায়তা শূন্যে নামিয়ে আনতে চাই।” তিনি আরো উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়াটি ‘এখনই শুরু’ হওয়া উচিত এবং আগামী ‘১০ বছরের মধ্যে’ সম্পন্ন হওয়া উচিত।
নেতানিয়াহু জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন হ্রাসের বিষয়ে সচেতন। সাম্প্রতিক পিউ রিসার্চের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০ জন আমেরিকানের মধ্যে ৬ জনই ইসরায়েলের প্রতি প্রতিকূল মনোভাব পোষণ করেন, যা গত বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ এবং ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
ইসরায়েলি নেতা অবশ্য গাজা যুদ্ধ এই নেতিবাচক ধারণায় কোনো ভূমিকা রেখেছে- এমন ধারণা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এই পরিবর্তনের জন্য প্রায় পুরোপুরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দায়ী করেছেন।
তিনি বলেন, “আমরা এই প্রোপাগান্ডা যুদ্ধে ভালো করতে পারিনি। বেশ কিছু দেশ মূলত বট ফার্ম ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারসাজি করে ইসরায়েলের প্রতি আমেরিকানদের সহানুভূতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে এ পর্যন্ত ৭১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। লেবানন ও ইরানে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতায় বেসামরিক নিহতের সংখ্যা বাড়ায় খোদ যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু। এমনকি টাকার কার্লসন ও মেগিন কেলির মতো প্রভাবশালী মার্কিন ভাষ্যকাররাও এখন ইসরায়েলের সমালোচনা করছেন।
এদিকে মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দাবি, অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট ও সাধারণ আমেরিকানরা এখন ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়ার বিপক্ষে।
ঢাকা/ফিরোজ