ঢাকা     সোমবার   ১১ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৮ ১৪৩৩ || ২৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও হয়নি সেতু, যাতায়াতে ভরসা কাঠের সাঁকো

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৫৫, ১১ মে ২০২৬   আপডেট: ১১:৫৭, ১১ মে ২০২৬
স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও হয়নি সেতু, যাতায়াতে ভরসা কাঠের সাঁকো

ঝুঁকি নিয়ে কাঠের সাঁকো পাড় হচ্ছে দুটি ভ্যান।

টাঙ্গাইলের বাসাইলে লাঙ্গুলিয়া নদীর ওপর নির্মিত কাঠের সাঁকো এলাকাবাসীদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।  উপজেলার খাটরা গ্রামে অবস্থিত এই সাঁকোটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে প্রায় ২০টি গ্রামের হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সাঁকোটির ওপর দিয়ে চলাচল করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বাধীনতার ৫৫ বছর হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সেতু নির্মাণ হয়নি। নির্বাচন আসলে অনেক প্রার্থী প্রতিশ্রুতি দেন ব্রিজ করে দেওয়ার, নির্বাচন গেলে আর তাদের খোঁজ থাকে না 

সরেজমিনে দেখা যায়, সাঁকো দিয়ে পায়ে হেঁটে যাতায়াত সম্ভব হলেও যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। যেকোন সময় ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা। উৎপাদিত কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বাজারজাতকরণে দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্থানীয়দের। 

আরো পড়ুন:

এলাকাবাসী জানান, বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের ফুলকি ও খাটরা, বল্লা, কাজিপুরসহ ১৫-২০ টি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে পৌঁছানোর একমাত্র রাস্তা এই কাঠের সাঁকো। কাউলজানী বোর্ড বাজার এলাকায় সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়, ব্যাংকের শাখা, লুৎফা-শান্তা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কাউলজানী নওশেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই কাঠের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন। কালিহাতী উপজেলার রামপুর, গান্ধিনা, তেজপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। প্রায় ১২ বছর আগে এলাকাবাসী নদীর ওপর এই কাঠের সাঁকোটি নির্মাণ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হামেদ আলী মিয়া বলেন, “স্বাধীনতার পর অনেক এমপি আইলো, গেল কেউ এই ব্রিজটি করে দেয় না। শুধু বলেই এই ব্রিজ করে দিমু, কিন্তু এই ব্রিজ করে দেয় না। নির্বাচন আসলে বলে, এই ব্রিজ করে দিমু, নির্বাচন যাওয়ার পর আর মনে থাকে না। আমাদের এই ব্রিজটি খুবই দরকার। হাজার হাজার মানুষ সাঁকো দিয়ে চলাচল করে।”

অটোরিকশাচালক রিপন বলেন, “এই কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কাঠের সাঁকো অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়, পরে টাকা তুলে আমাদের এই সাঁকো ঠিক করতে হয়।”

আজমত আলী নামে অপর অটোরিকশাচালক বলেন, “ব্রিজ করে দেবে বলে অনেকেই কথা দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই ব্রিজটি কেউ করে দেয়নি। আমাদের কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়। এই সাঁকোতে আমি একবার দুর্ঘটনার শিকার হই। তক্তা ভেঙে আমার অটোগাড়ি নিচে পড়ে যায়। পরে ৬ জনে মিলে আমার অটোগাড়ি উপরে তুলি। কাঠের সাঁকো দিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। আমাদের এখানে ব্রিজ হওয়া অতি প্রয়োজন।”

স্থানীয় বাসিন্দা রাজু আহমেদ বলেন, “আমাদের এই যে কাঠের সাঁকো তা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করে। সকাল হলেই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যায়। সরকারের কাছে আবেদন ব্রিজটি যেন দ্রুতই করে দেওয়া হয়।”

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, “বাসাইলের খাটরা ব্রিজটি অনূর্ধ্ব একশো প্রকল্পের প্রথম দিকের সিরিয়ালে রাখা হয়েছে। অনূর্ধ্ব একশো প্রকল্প শুরু হওয়ার মাত্রাই ব্রিজের টেন্ডার আহ্বান করা হবে।”

তিনি বলেন, “নির্বাহী প্রকৌশলী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী খাটরা ব্রিজের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। মন্ত্রী তাগিদ দিচ্ছেন,এই ব্রিজটি যত দ্রুত সম্ভব করা হয়।অনূর্ধ্ব একশো প্রকল্পে যদি সময় লাগে, তাহলে টাঙ্গাইলের অন্য প্রকল্প থেকে ব্রিজ করার জন্য জোর তাগিদ দিয়েছেন মন্ত্রী। খাটরা ব্রিজের ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী ও টাঙ্গাইল নির্বাহী প্রকৌশলী সচেষ্ট রয়েছেন।”

ঢাকা/কাওছার/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়