ঢাকা     বুধবার   ২০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪৩৩ || ৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বেইজিং বৈঠকে চীন-রাশিয়ার গভীর সম্পর্কের প্রশংসা জিনপিং-পুতিনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৩৯, ২০ মে ২০২৬   আপডেট: ১২:৪১, ২০ মে ২০২৬
বেইজিং বৈঠকে চীন-রাশিয়ার গভীর সম্পর্কের প্রশংসা জিনপিং-পুতিনের

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বুধবার (২০ মে) এক দ্বিপাক্ষিক সম্মেলনে বসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এসময় উভয় নেতা বেইজিং-মস্কোর কৌশলগত সম্পর্কের অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। খবর রয়টার্সের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার সকালে বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে লাল গালিচা সংবর্ধনা, গার্ড অব অনার ও গান স্যালুটের মাধ্যমে স্বাগত জানান চীনের প্রেসিডেন্ট জিনপিং। এসময় দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের অগ্রগতির প্রশংসা করে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও ‘আরো ন্যায়সংগত ও যুক্তিসংগত’ বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান এই দুই রাষ্ট্রপ্রধান।

আরো পড়ুন:

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার তথ্যমতে, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে শি বলেন, “চীন-রাশিয়া সম্পর্ক আজ এই স্তরে পৌঁছানোর কারণ হলো আমরা পারস্পরিক রাজনৈতিক বিশ্বাস এবং কৌশলগত সহযোগিতাকে আরো গভীর করতে পেরেছি।”

অন্যদিকে পুতিন বলেন, তাদের এই সম্পর্ক বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেও রাশিয়া একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে অটল রয়েছে।

পুতিন আরো বলেন, “প্রতিকূল বাহ্যিক পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভালো গতিশীলতা প্রদর্শন করে চলেছে।” একই সঙ্গে তিনি আগামী বছর শি জিনপিংকে রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।

রয়টার্সের তথ্যমতে, আনুষ্ঠানিক আলোচনার বাইরেও দুই নেতা একান্তে একটি চা-চক্রে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। সফরে আসা বিদেশি নেতাদের চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য শি জিনপিং বেশ পরিচিত। তবে এই ধরনের বৈঠকের স্থান ও ধরন দেখে বোঝা যায় যে, চীনা নেতা তার অতিথির প্রতি কতটা সম্মান প্রদর্শন করছেন।

২০২৪ সালের মে মাসে পুতিনের বেইজিং সফরের সময়ও দুই নেতাকে অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে ঝংনানহাই উদ্যানে চা খেতে দেখা গিয়েছিল। এর বিপরীতে, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সফরটি ছিল অনেকটাই পূর্বনির্ধারিত ও আনুষ্ঠানিক।

রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে তীব্র বৈরি ভাবাপন্ন দুটি প্রধান দেশের নেতার পরপর বেইজিং সফরকে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি ক্রমবর্ধমান খণ্ডিত বিশ্বব্যবস্থায় চীনের বৈশ্বিক অবস্থানের স্বীকৃতি হিসেবে উদযাপন করছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত রাশিয়ার জন্য চীন এখন অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ভরসা। ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৬.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১.৬৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (২৪০ বিলিয়ন ডলার) এ নেমে এসেছিল, যা ছিল গত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম পতন। তবে ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে এই বাণিজ্য আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১৬.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পুতিন এই বাণিজ্য ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার ওপর জোর দিয়েছেন। এই সফরে তার সঙ্গে রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী, একাধিক মন্ত্রী এবং শীর্ষ ব্যাংক ও রাষ্ট্রীয় কর্পোরেশনের প্রধানদের নিয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রয়েছে।

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরো দৃঢ় করতে একটি ৪৭ পৃষ্ঠার যৌথ বিবৃতি জারি করা হতে পারে এবং প্রায় ৪০টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, রাশিয়া থেকে উত্তর চীনে গ্যাস সরবরাহের জন্য ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ পাইপলাইন প্রকল্প সংক্রান্ত আলোচনাও এই বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি সংকট তীব্র, তখন রাশিয়া তাদের এই পাইপলাইন প্রকল্পটিকে চীনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানির উৎস হিসেবে তুলে ধরতে পারে। তবে বেইজিং তাদের জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের নীতি বজায় রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়