পুতিন-জিনপিং বৈঠককে উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে ওয়াশিংটন: বিশ্লেষক
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বুধবার (২০ মে) দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৈঠকটিকে ওয়াশিংটন বেশ উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবক্ষেণ করছে বলে মনে করছেন বেইজিংয়ের ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল গভর্নেন্স ইনোভেশন’-এর সিনিয়র ফেলো আইনার টাঙ্গেন।
বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র কখনোই চীন ও রাশিয়ার মধ্যে কোনো কৌশলগত অংশীদারিত্ব দেখতে চায়নি। তবে বাণিজ্যিক দিক থেকে এই দুটি দেশ একে অপরের প্রাকৃতিক পরিপূরক।”
তিনি উল্লেখ করেন, “রাশিয়া হলো বিশ্বের এক নম্বর প্রাকৃতিক সম্পদশালী দেশ, আর চীন ম্যানুফ্যাকচারিং বা পণ্য উৎপাদন খাতে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে।”
চীন-রাশিয়া সম্পর্কটি অসম- এমন ধারণাকে নাকচ করে দেন এই বিশ্লেষক। তিনি বলেন, “আপনারা প্রায়শই এমন একটি আলোচনা শুনবেন যে এটি নাকি এক ধরনের অসম সম্পর্ক। কিন্তু বাস্তব হলো, চীনের সম্পদ প্রয়োজন... তাদের বাজার ও প্রবেশাধিকার প্রয়োজন।” ফলে দুই দেশের অবস্থানই এখানে খুব সুদৃঢ়।
সাক্ষাৎকারে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা করে টাঙ্গেন বলেন, ওয়াশিংটন কেবল ইরানের ক্ষেত্রেই ‘জ্বালানি প্রাপ্তিতে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা’ করছে না, বরং ভেনেজুয়েলার তেলের বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পেছনেও ট্রাম্প প্রশাসনের একই ধরণের পদক্ষেপ ছিল।
এই ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক আরো জোরদার হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
ট্রাঙ্গেন বলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে একটি স্থিতিশীল স্থল সীমান্ত চাওয়ার পেছনে চীনের যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এখান থেকে চীন খুব সাশ্রয়ী মূল্যে তেল পাচ্ছে। এমনকি ইউরোপ যে দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছে, চীন তার এক-তৃতীয়াংশ দামে রাশিয়ার গ্যাস পাচ্ছে।”
তার মতে, “এই সমীকরণ বেইজিং বৈঠকে জিনপিং ও পুতিনকে একটি ‘সমান দরকষাকষির অবস্থানে’ রেখেছে। তারা কেউ কারো ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে না। তারা ভালো বন্ধু।”
ক্রেমলিন জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্টের এই সফরে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরো দৃঢ় করতে একটি ৪৭ পৃষ্ঠার যৌথ বিবৃতি জারি করা হতে পারে এবং প্রায় ৪০টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকা/ফিরোজ