চাপ সামলে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে বর্ণনাতীত সময়কে গর্বে রাঙিয়েছে বাংলাদেশ
ক্রীড়া প্রতিবেদক, সিলেট থেকে || রাইজিংবিডি.কম
ঘড়ির কাঁটায় তখন ১১টা ২০ ছুঁইছুঁই। তাইজুলের হাওয়ায় ভাসানো বল টাইমিং মিলাতে পারলেন না খুররাম শাহজাদ। বল ডিপ মিড উইকেটে। শান্ত পেছন থেকে চিৎকার করে বললেন, ‘‘ক্যাচ ইট তামিম।’’ মুখ ঘুরিয়ে পুরো দলের চোখ ওই এক জোড়া হাতে।
যেখানে উজ্জ্বল করতে থাকা বল মুঠোয় জমিয়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া আনন্দে ভাসিয়ে দিলেন তানজিদ। তাইজুলের ষষ্ঠ উইকেট। ৪৩৭ রান তাড়ায় পাকিস্তান অলআউট ৩৫৮ রানে। ৭৮ রানের দারুণ জয়ে ঢাকার পর সিলেটেও বিজয়ের তিলক পড়ল বাংলাদেশ। আনন্দে, উচ্ছ্বাসে, উত্তেজনা, উন্মাদনায় পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ছাড়ল বাংলাদেশ।
দুই বছর আগে রাওয়ালপিণ্ডিতে প্রথমবার করেছিল। দুই বছর পর একই ফল ঘরের মাঠে। তবে জয়টা সহজে আসেনি। প্রথম ঘণ্টায় আগের দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটসম্যান রিজওয়ান ও সাজিদ প্রতি আক্রমণে গিয়ে দ্রুত ৪৩ রান তোলেন। বাংলাদেশ লড়াইয়ে ফিরে আসে দ্বিতীয় ঘণ্টার শুরুতেই। মাত্র ১৪ বলে ৩ উইকেট তুলে নেয় কোনো রান খরচ না করেই। সূর্য মধ্যগগনে আসার আগেই সিরিজের তাজ উঠে যায় বাংলাদেশের মাথায়। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত পঞ্চম দিনের সকালের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারলেন না। তবে মাঠে কি ঘটছিল, কিভাবে সব সামলেছেন সেসব বর্ণনা করলেন।
নাজমুল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “আমার মনে হয়, এই শেষ এক ঘণ্টার অনুভূতি বর্ণনা করা কঠিন। সত্যি বলতে, ওরা খুব ভালো ব্যাটিং করছিল আর আমরা কিছুটা চাপেও পড়ে গিয়েছিলাম। তবে একটা জিনিস বলব, আগের টেস্ট ম্যাচগুলোর তুলনায় এখন আমরা আবেগ একটু ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি। প্যানিকও কম করছি। যদিও এই জায়গায় আরও উন্নতির দরকার আছে। বড় দলগুলো হয়তো আরও শান্ত থাকে, কিন্তু আমাদেরও উন্নতি হয়েছে। এই জায়গা থেকে আমি অধিনায়ক হিসেবে খুশি।’’
ঢাকার পর সিলেটেও দুইটি টেস্ট ম্যাচ পাঁচদিন লড়াই করে জেতায় খুশি শান্ত, ‘‘টানা দুইটা পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচ খেলতে পেরেছি, এটা অবশ্যই গর্বের বিষয়। কারণ, অতীতে আমরা খুব বেশি পাঁচ দিনের ক্রিকেট খেলিনি। তাই এটাও একটা ভালো উন্নতির জায়গা। পুরো দল হিসেবে আমরা খেলতে পেরেছি। ব্যাটসম্যান, বোলার, যারা ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি, কোচিং স্টাফ দলের সঙ্গে যারা ছিল, সবারই অবদান ছিল। সবাই চেয়েছিল, আমরা যেন আবারও এমন একটা ভালো ফল করতে পারি। সব মিলিয়ে, অধিনায়ক হিসেবে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ওয়ার্ক এথিক দেখে আমি খুবই গর্বিত।”
“অবশ্যই প্রত্যেকটা টেস্ট ম্যাচ জিততে পারলে ভালো লাগে। তার মধ্যে যদি এভাবে ডমিনেট করে, এমন কোয়ালিটি একটা দলের বিপক্ষে জিততে পারো, তাহলে সেটা অবশ্যই গর্বের বিষয়। এর পেছনে অনেক পরিশ্রম ছিল। প্রত্যেকটা খেলোয়াড় প্রস্তুতি নিয়েছে, কষ্ট করেছে এবং মাঠে গিয়ে দলের জন্য খেলার চেষ্টা করেছে। কেউ কেউ হয়তো ব্যর্থ হয়েছে, আবার কেউ দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেছে।’’
‘‘তবে আমাদের একটাই চিন্তা ছিল, কীভাবে এই দুইটা ম্যাচ জেতা যায়। সেই জায়গা থেকে বলব, সবার পরিশ্রম বিফলে যায়নি। এখান থেকে আমাদের আরও সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আমি মনে করি, এখনও কিছু জায়গা আছে যেখানে ফাইন টিউনিং করে উন্নতি করতে পারলে দল আরও ভালো অবস্থানে যাবে।” – যোগ করেন তিনি।
মাঠে উপস্থিত থেকে যারা প্রেরণা জুগিয়েছে তাদের অবদানকেও বড় করে দেখছেন অধিনায়ক, ‘‘গ্যালারিতে যতজন দর্শকই ছিল, তারা যেভাবে আমাদের সমর্থন করেছে, সেজন্য অবশ্যই তাদের ধন্যবাদ দিতে চাই। টেস্ট ম্যাচে এভাবে সমর্থন পাওয়া সত্যিই ভালো লাগার বিষয়। আজকে একটা সময় যখন উইকেট পড়ছিল না, তখনও গ্যালারি থেকে আমরা সমর্থন পাচ্ছিলাম। যতজন মানুষই থাকুক না কেন, তাদের সেই সমর্থন আমাদের অনুভব হয়েছে। এটা আমার কাছে নতুন একটা অভিজ্ঞতা। আমি বলব, টেস্ট ক্রিকেটে দর্শকরা কম-বেশি যাই আসুক, তারা খেলার মোমেন্টাম বুঝে আমাদের যেভাবে সমর্থন দিয়েছে, সেটা দারুণ ছিল। এজন্য তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ। এই কৃতজ্ঞতাটা তাদের প্রাপ্য।”
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল
বেইজিং বৈঠকে ২০ চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন জিনপিং-পুতিন