ঢাকা     বুধবার   ২০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪৩৩ || ৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় লেখার অপেক্ষায় বাংলাদেশ

ইয়াসিন হাসান, সিলেট থেকে || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৩৬, ১৯ মে ২০২৬   আপডেট: ১৯:০৬, ১৯ মে ২০২৬
ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় লেখার অপেক্ষায় বাংলাদেশ

রোমাঞ্চ, নাটক আর প্রতীক্ষার এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। সিলেটের আকাশে ভাসছে জয়ের সুবাস, গ্যালারিজুড়ে বাড়ছে প্রত্যাশার ঢেউ। পাকিস্তানের একের পর এক উইকেট পতনে ছড়িয়ে পড়ছে উত্তেজনা আর উন্মাদনা।

আগামীকাল পঞ্চম দিনেও দেখা যেতে পারে অবিশ্বাস্য কোনো নাটকীয়তা, জমে উঠতে পারে শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ। আবার কিছুই নাও হতে পারে- সেটাই অবশ্য চাইবে বাংলাদেশ। কারণ সব হিসাব-নিকাশ শেষে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের খুব কাছেই দাঁড়িয়ে শান্তর দল। পাকিস্তানকে আরেকবার হোয়াইটওয়াশ করার সুবর্ণ সুযোগ এখন বাংলাদেশের সামনে। আর লাল সবুজের প্রতিনিধিরা প্রস্তুত ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় লেখার জন্য।

আরো পড়ুন:

রাওয়ালপিণ্ডি থেকে সিলেট। ২-০ আর ২-০ মিলিয়ে সমীকরণটা বদলে যেতে পারে ৪-০-তে। শান্ত অ্যান্ড কোং এখন সেই ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায়। লক্ষ্যও পরিষ্কার, শেষ দিনে বাংলাদেশের দরকার মাত্র ৩ উইকেট, আর পাকিস্তানের প্রয়োজন আরও ১২১ রান।

প্রায় দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এমন সমীকরণে শেষ দিকে ব্যাটিং করা দলের জয়ের নজির নেই। পরিসংখ্যান, অভিজ্ঞতা আর বর্তমান পরিস্থিতি, সবকিছুই এখন বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলছে। হট ফেভারিট হিসেবেই তাই শেষ দিনের অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের পথের কাঁটা হয়ে প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান হিসেবে কেবল টিকে আছেন ৭৫ রান করা মোহাম্মদ রিজওয়ান। সঙ্গে আছেন সাজিদ খান। এরপর খুররাম শাহজাদ ও মোহাম্মদ আব্বাস। তাদের নিয়ে রিজওয়ানের শেষ পথটা পাড়ি দেওয়া কঠিনই নয়, প্রায় অসম্ভব বটে।

মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের সাফল্যের শুরুটা হয়েছিল নাহিদের আক্রমণ দিয়ে। তার অফস্টাম্প ঘেঁষা বাউন্সার আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলেছিলেন ফজল আব্দুল্লাহ। কিন্তু ঠিকঠাক বলটা ফাঁকে খেলতে পারেননি। বল যায় গালিতে। নিচু হয়ে আসা ক‌্যাচ দারুণভাবে লুফে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

ক‌্যাচ নেওয়ার পর মিরাজ বল হাতে দ্যুতি ছড়ান। তার ফুলার লেন্থ ড্রিফট করা বল ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে গিয়ে মিস করেন আজান। বাংলাদেশের আবেদনে সাড়া দিয়ে আম্পায়ার রিচার্ড কাটেলবারো আঙুল তোলেন। রিভিউ নিয়ে সেই সিদ্ধান্তের চ‌্যালেঞ্জ করেছিলেন আজান। তাতে লাভ হয়নি। 

এরপর অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজম দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শুরু থেকেই তারা রান তোলায় মনোযোগী হন। থিতু হওয়ার পরিবর্তে প্রতি আক্রমণে যান দুজনই। তাতে সফলও হন। রানের দেখা পেয়েছেন। সকালের সেশন ঠিকঠাক কাটিয়ে দেওয়ার পর লাঞ্চের পরও তারা এগিয়ে যেতে থাকেন।

কিন্তু লিটনের দুর্দান্ত ক‌্যাচে বাংলাদেশ ম‌্যাচে ফেরে দারুণভাবে। ভাঙে এই জুটি। তাইজুলের লেগ স্টাম্প দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলে ব‌্যাট ছুঁয়ে দেন বাবর। লিটন তড়িৎ গতিতে ফলো থ্রুতে গিয়ে বল গ্লাভসবন্দী করেন। দারুণ ক‌্যাচ নিয়ে পাখির ডানায় উল্লাসে মেতে উঠেন। বাবর ফিরে যান ৪৭ রান করে।

সঙ্গী হারানোর পর শান মাসুদ বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। এবারও বাংলাদেশের ফিল্ডিং পেয়েছে লেটার মার্কস। ৭১ রান করা শান তাইজুলের বল আলতো টোকায় খেলেছিলেন। ওখানে শর্ট লেগের ফিল্ডার জয় ছিলেন প্রস্তুত। মুহূর্তেই বল লুফে নেন তিনি। ১১৬ বলে সিরিজের সর্বোচ্চ ৭১ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন তিনি।

মাঝে নাহিদ আক্রমণে এসে সৌদ শাকিলের উইকেট নেন। খানিকটা রিভার্স করা ইয়র্কার ডেলিভারিতে ব‌্যাট লাগিয়ে ক‌্যাচ দেন ৬ রান করা সৌদ। ঢাকায় ০ ও ১৫ রানের পর সিলেটে ৮ ও ৬ রান করলেন এই বাঁহাতি।

১৬২ রানে ৫ উইকেট হারানো পাকিস্তান ষষ্ঠ উইকেটে নতুন করে লড়াই শুরু করে। মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গী সালমান আগা। মধ‌্য দুপুরের পর থেকে যে লড়াই তারা শুরু করেন, পড়ন্ত বিকেল পর্যন্ত চালিয়ে যান। শতরানের জুটি গড়েন। দুজন পেয়েছেন ফিফটি। নানা চড়াই উৎরাই ছিল এই জুটিতে। ছিল দৃষ্টিনন্দন কয়েকটি শট। বাংলাদেশের পেসারদের মোকাবিলার দৃঢ়চেতা মনোভাব। স্পিনে একেবারে ছন্মময়। সঙ্গে ছিল সময় নষ্ট করার কৌশল।

কিন্তু নতুন বল নেওয়ার পর বাংলাদেশের ছকে কাটা কৌশলে ম‌্যাচ এগিয়ে যায়। ৮০ ওভারের পর শরিফুল নতুন বল নিয়ে প্রথম ওভার করেন। দ্বিতীয় ওভারে আসেন তাইজুল। শুরুতে সালমান আগাকে ফুলটস দিয়ে বাউন্ডারি হজম করলেও ওভারের পঞ্চম বল তাকে বোল্ড করেই উল্লাসে ফেটে পড়েন তাইজুল। তার খানিকটা বাক খাওয়া ডেলিভারি মিস করেন ৭১ রান করা সালমান।

এরপর নতুন ব‌্যাটসম‌্যান হাসান আলীকেও টিকতে দেননি তাইজুল। স্লিপে ক‌্যাচ দিয়েন হাসান ফেরেন শূন‌্য রানে। বাকিটা সময় রিজওয়ান কাটিয়ে দেন সাজিদ খানকে দিয়ে। নতুন বলে ৬ ওভারেই পড়ন্ত বিকেলে বাংলাদেশের মুখে ফুটেছে হাসি। পাকিস্তান পিছিয়ে গেছে এখানেই।

ঢাকা/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়