সিলেটে লজ্জার হারের পর নেতৃত্ব ছাড়ছেন শান মাসুদ!
বাংলাদেশের কাছে ঐতিহাসিক ধবলধোলাইয়ের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন ঝড়ের আভাস মিলছে। সিলেটে ৭৮ রানের হারে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারার পর টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়তে পারেন পাকিস্তানের শীর্ষ সারির ব্যাটার শান মাসুদ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার শেষ টেস্টে বাংলাদেশের কাছে হারের পর পাকিস্তানের টেস্ট নেতৃত্ব নিয়ে বড় আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের মতে, খুব শিগগিরই টেস্ট অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন শান মাসুদ।
২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজের আগে পাকিস্তানের লাল বলের অধিনায়ক করা হয়েছিল শান মাসুদকে। তবে তার নেতৃত্বের শুরুটা সুখকর হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম সিরিজেই ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয় পাকিস্তান।
সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৬টি টেস্টে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে জয় এসেছে মাত্র ৪টিতে, আর হার ১২টিতে। তার জয়ের হার মাত্র ২৫ শতাংশ।
তবে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে শান মাসুদ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান, তার মূল লক্ষ্য সবসময়ই পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটকে শক্তিশালী করা, শুধু তাৎক্ষণিক ফলের পেছনে ছোটা নয়।
৩৬ বছর বয়সী এই ব্যাটার বলেন, “আমার লক্ষ্য পরিষ্কার। আমি যদি টেস্ট ক্রিকেটে কোনো দায়িত্ব নিয়ে থাকি, তাহলে সেটি টেস্ট ক্রিকেটকে উন্নত করার জন্য। কিছু বিষয় বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা ও পর্যালোচনার প্রয়োজন। শেষ সিদ্ধান্ত সবসময় বোর্ডের।”
তিনি আরও বলেন, দলের উন্নতি এবং মান বাড়ানোর জন্য কাজ করাই তার উদ্দেশ্য ছিল, দ্রুত সমাধান খোঁজা নয়। শান মাসুদের ভাষায়, “এই দলকে আরও ভালো করার পথ খুঁজে বের করাই আমার উদ্দেশ্য। চ্যালেঞ্জকে সবসময় গ্রহণ করতে হয়, সুযোগকেও কাজে লাগাতে হয়।”
নেতৃত্বে থাকুন বা না থাকুন, পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য নিজের প্রচেষ্টা একই থাকবে বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। তিনি বলেন, “আমি যে ভূমিকাতেই থাকি, আমার চেষ্টা একই থাকবে। শুধু অধিনায়কের চেয়ারে বসেই কথা বলতে হবে এমন নয়। জীবন আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে, তা আমরা জানি না। তবে পাকিস্তানের জার্সি আমি সবসময় গর্বের সঙ্গে পরেছি।”
একইসঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটের কঠিন বাস্তবতাও তুলে ধরেন শান মাসুদ। তার মতে, ৫ দিনের ক্রিকেটে ছোট ছোট ভুলও বড় মূল্য চোকাতে বাধ্য করে দলকে। তিনি বলেন, “শুধু পরিবর্তনের কথা ভাবলে হবে না। কোথায় উন্নতি সম্ভব, কোথায় ভুল কমানো যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে। কারণ টেস্ট ক্রিকেটে ভুলের কোনো জায়গা নেই। ৫ দিনের খেলায় এই ভুলগুলো খুব ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।”
বাংলাদেশের কাছে এই ২-০ ব্যবধানের সিরিজ হার পাকিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা। বিশেষ করে ২০২৪ সালে নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশের কাছে একই ব্যবধানে হারার পর এবার সিলেটেও ধবলধোলাই- এটি পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য অস্বস্তিকর বাস্তবতা।
এখন দেখার বিষয়, শান মাসুদ সত্যিই নেতৃত্ব ছাড়েন কি না, আর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড টেস্ট দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়।
ঢাকা/আমিনুল
হাম ও হামের উপসর্গে ৬ শিশুর মৃত্যু