ঢাকা     বুধবার   ২০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪৩৩ || ৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

পাহাড়ে আলোচনায় এক টনের ‘সম্রাট’

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:০৩, ২০ মে ২০২৬   আপডেট: ১৬:২২, ২০ মে ২০২৬
পাহাড়ে আলোচনায় এক টনের ‘সম্রাট’

মাটিরাঙ্গা উপজেলায় শেঠ এগ্রো ফার্মে প্রস্তুত করা হয়েছে এক টনের ষাড় সম্রাটকে।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় শেঠ এগ্রো ফার্ম। এখানে রয়েছে ফ্রিজিয়ানসহ বিভিন্ন প্রজাতির গরু। এই খামারে বিশেষ আকর্ষণ ফ্রিজিয়ান জাতের ষাড় ‘সম্রাট’। এটির ওজন এক হাজার কেজি। কোরবানির পশুর হাটে নেওয়ার জন্য সম্রাটকে প্রস্তুত করা হয়েছে। 

দেশে আগামী ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে। 

আরো পড়ুন:

কুচকুচে কালো রঙ, মাথা ও শরীরের নিচে সাদা ছাপ, সুঠাম গঠন আর দানবীয় আকৃতির কারণে আলোচনায় এসেছে গরুটি।

খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্রাটের বর্তমান ওজন প্রায় ১ হাজার কেজি বা এক টনেরও বেশি। মালিক গরুটির দাম চাচ্ছেন ১২ লাখ টাকা।

খামারের তত্ত্বাবধায়ক মো. ওয়ালি উল্লাহ বাবু জানান, শুরু থেকে সম্রাটকে আলাদাভাবে বিশেষ পরিচর্যায় বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা রাসায়নিক ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্যে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। প্রতিদিন খাবার ও পরিচর্যায় হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। 

প্রতিদিন ষাটকে কাঁচা ঘাস, খড়, ভুষি, ভুট্টা, বাঁধাকপি, মিষ্টি কুমড়া, ধানের কুঁড়া এবং চালের ভাত খাওয়ানো হয়। পাশাপাশি সকাল-বিকাল গোসল, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।

শুধু সম্রাট নয়, খামারে এ বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে পংঙিরাজ, তেরে নাম, বাহাদুরসহ আরো ১৭টি ষাঁড়, ৩টি মহিষ, ৩টি পাহাড়ি গয়াল এবং কয়েকটি গাড়ল। খামারে বর্তমানে সাতজন কর্মচারী দিন-রাত পশুগুলোর দেখভাল করছেন।

খামারের ম্যানেজার শাহীদ হোসাইন জানান, এখানে ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল, ব্রাহামা-শাহীওয়াল ক্রসসহ বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। বেশ কয়েকটি গরুর ওজন ৮০০ থেকে ৯০০ কেজির মধ্যে। তবে সবার নজর কেড়েছে সম্রাট। তিনি খামার থেকে গরু বিক্রি করেন। তবে তাদের মূল সেলস সেন্টার চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ী।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোমেন চাকমা জানান, পাহাড়ের গরুর বৈশিষ্ট্য হলো মাংসে চর্বি কম। কাঁচা ঘাস এবং শুকনো খড় এখানকার গরুর প্রধান খাবার। এ অঞ্চলের গরুর খাবারে রাসায়নিক কিছু ব্যবহার করা হয় না। তাই এখানকার গরুর মাংস শতভাগ নিরাপদ।

খাগড়াছড়ি প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ করে ৫ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন হওয়ায় এখানকার গরুর মাংসের মান অনেক ভালো। তাই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা আগেভাগে গরু কিনতে ছুটে আসেন।

ঢাকা/রূপায়ন/বকুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়