ঢাকা     বুধবার   ২০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪৩৩ || ৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

‘আন্দোলন হচ্ছে তিস্তায় অথচ বড় বাজেট যাচ্ছে পদ্মায়’

রংপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৩৪, ২০ মে ২০২৬   আপডেট: ১৪:৩৬, ২০ মে ২০২৬
‘আন্দোলন হচ্ছে তিস্তায় অথচ বড় বাজেট যাচ্ছে পদ্মায়’

রংপুরেরর একটি কমিউনিটি হলে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম হক্কানী।

তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেছেন, “আন্দোলন হচ্ছে তিস্তায় অথচ বড় বাজেট বরাদ্দ যাচ্ছে পদ্মায়। এতে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে উত্তরের নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।”

বুধবার (২০ মে) দুপুরে রংপুর নগরীর সুমি কমিউনিটি হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আরো পড়ুন:

নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, ‍“জাগো বাহে তিস্তা বাচাই এই ব্যানারে তিস্তার পাড়ে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই আন্দোলনে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ অন্য দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের।”

তিনি বলেন, “আন্দোলনের সমাপনী দিনে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলেই প্রথম তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরুর  কথা বলেছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অথচ এখন সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ একাধিক সংশ্লিষ্ট জনরা বিষয়টিকে কম গুরুত্ব দিয়ে দৃষ্টি দিয়েছেন পদ্মা পাড়ে। এতে বুক ভেঙেছে উত্তরের পাঁচ জেলার মানুষের।”

নজরুল ইসলাম হক্কানী অভিযোগ করে বলেন, “বিগত সময়ের সরকারগুলোর মতো বর্তমান সরকারও তিস্তা পাড়ের মানুষকে আশাহত করছে। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এখন তিস্তা অঞ্চলের মানুষ বাস্তবায়নের রোডম্যাপ দেখতে চায়। এজন্য বিএনপি সরকারের কাছে নিজস্ব অর্থায়নে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট ঘোষণা দাবি করেন তারা।

এসময় ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন, আসন্ন জাতীয় বাজেটে পৃথক অর্থ বরাদ্দ, তিস্তা বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন, তিস্তার সম্পদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা, তিস্তা বন্ড চালু এবং সমন্বিত নদী ও কৃষি সুরক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা বলেন, দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হলে ঈদুল আজহার পর তিস্তা পাড়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নতুন করে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- তিস্তা বাচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান, স্টাডিং কমিটির সদস্য বখতিয়ার আহমেদ শিশির, আশিকুর রহমানসহ নদী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।

ঢাকা/আমিরুল/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়