ঢাকা     বুধবার   ২০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪৩৩ || ৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

টেপরি রাণী: একাত্তরের ক্ষত নিয়ে আজীবনের যোদ্ধা ছিলেন

সালেক খোকন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:২৯, ২০ মে ২০২৬   আপডেট: ১২:৩৪, ২০ মে ২০২৬
টেপরি রাণী: একাত্তরের ক্ষত নিয়ে আজীবনের যোদ্ধা ছিলেন

মুক্তিযোদ্ধা টেপরি রাণী বর্মণ ইহলোক ত্যাগ করেছেন গত ১৩ মে। জীবদ্দশায় স্বাধীন দেশের সমাজ তাঁকে এতটুকু সম্মানের চোখে দেখেনি। তবুও ভালো, মৃত্যুর পরে রাষ্ট্র অন্তত এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের মাধ্যমে। তাঁর মৃতদেহও আবৃত করা হয় লাল-সবুজের পতাকায়!

যে-কোন যুদ্ধই মানবতার বিরুদ্ধে। আর সে-যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অত্যাচারিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত ও লাঞ্ছিত হয় নারী ও শিশুরা। ১৯৭১-এ মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এদের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছেন তাঁরা, যারা বীরাঙ্গনা নামে পরিচিত। বয়স, জাতি, শ্রেণি, পেশা, বিত্ত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী, কামার, কুমার, মুচি কেউ-ই এদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। ৬ বছরের শিশু থেকে ৭০বছরের বৃদ্ধাও নির্যাতিত হয়েছেন। স্বাধীনতা লাভের পর তাঁদেরকে কেউ কেউ অপবিত্র নারী, কলঙ্কিত নারী, দুর্দশাগ্রস্ত নারী, দুর্ভাগা নারী হিসেবে আখ্যায়িত করে।

আরো পড়ুন:

মুক্তিকামী-স্বাধীনতাকামী নিরীহ বাঙালিদের অসহায়ত্বের সুযোগে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের নির্যাতনে যেসব মহিয়সী নারী নির্যাতিত হয়েছেন, নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের জীবনের সেই ত্যাগ ও বিভীষিকাময় জীবনের ইতিকথা ইতিহাসে আজও এক অজানা অধ্যায়। কতটা কষ্ট, অপমান, অপবাদের বোঝা বয়ে যে একজন নারী বেঁচে থাকতে পারেন, তা বুঝতে পারা যায় তাঁদের জীবন প্রবাহ সম্পর্কে জানতে গিয়ে। টেপরি রাণীর জীবনকথাও সেই ইতিহাসকে সমুন্নত করে।

তাঁর পুরো নাম টেপরি রাণী বর্মণ। একাত্তরে বয়স ছিল ১৬ বা ১৭বছর। তখন তাঁদের সংসারে অভাব-অনটন বলে কিছু ছিল না। ছিল গৃহস্থ বাড়ি, গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ। বাড়িঘরও ছিল বেশ বড়, ছিমছাম ও সাজানো-গোছানো। যুদ্ধের আগেই ওই বাড়িঘর ও গরুগুলোর ওপর নজর ছিল গ্রামের কিছু লোকের। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ওরাই পরে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেয়।

মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মাত্র আটদিন আগে বিয়ে হয় টেপরি রাণীর। ধুমধাম করেই মেয়েকে বিয়ে দেন বাবা মধুদাস রায়। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হলেই শ্বশুরবাড়ি থেকে তিনি চলে আসেন বাবার বাড়িতে, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা গ্রামে। 
স্বামীর বাড়িতে টেপরি বলে আসেন, কয়েক দিন পরই ফিরবেন। কিন্তু তাঁর আর ফেরা হয় না। বরং দেশের সঙ্গেই বদলে যায় তার জীবনের চিত্রও।

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন টেপরি রাণী বর্মণ। লাখো শহীদের রক্ত আর টেপরি রাণীর মতো নির্যাতিতার ত্যাগেই আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের পরও একাত্তরে নির্যাতিত হওয়ার অপরাধে সমাজ তাকেই অপরাধী করে। ফলে তাঁর ওপর নেমে আসে সামাজিক চাপ। যা ছিল আরেক নির্যাতন।

কী সেই নির্যাতন?
মুসলিম হওয়ায় একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাদের অপরাধের কোনো দোষ দেখে না সমাজের অনেকেই। ফলে পাকিস্তানিরা টেপরি রাণীকে ধর্ষণ করলেও তাদের সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় তাঁকেই। স্বাধীন দেশে যা মোটেই কাম্য ছিল না। যুদ্ধ শুরু হলে টেপরির পরিবার প্রস্তুতি নেয় সীমান্ত পার হয়ে ভারতে যাওয়ার। ওই সময় স্থানীয় রাজাকার মকবুল হোসেন নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর বাবা ও ভাইদের বুঝিয়ে তাঁদের নিয়ে যায় তার বাড়িতে। তখন হিন্দুদের ওপর চারদিকে চলছিল অত্যাচার। ফলে বাাঁচার জন্য তাদের আর বিকল্প পথ খোলা ছিল না। মকবুল ছিল মুসলমান। তা জেনেই তার বাড়িতে যায় তারা। সবাই ভাবল, আগে জান বাঁচাই, তারপর ধর্ম রক্ষা। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই রাজাকার মকবুলের উদ্দেশ্য তাদের কাছে স্পষ্ট হতে থাকে। 

কীভাবে?
মকবুল তার দলবল পাঠিয়ে প্রথমে টেপরিদের গরু-ছাগলসহ জিনিসপত্র লুট করে গোটা বাড়িটি পুড়িয়ে দেয়। ফলে তাদের বাড়ি ফেরার সব পথই বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর কী ঘটেছিল তাঁর জীবনে?
জীবদ্দশায় টেপরি বলেছিলেন যেভাবে, “মকবুল রাজাকারের বাড়িতে সবসময়ই মিলিটারিদের আনাগোনা ছিল। একদিন কয়েকজন মিলিটারি এসে আমাকে ধরে নিয়ে যায় তাদের ক্যাম্পে। সারাদিন আটকে রেখে আমাকে ধর্ষণ করে। সারাদিনই একজনের পর আরেকজন আসছে আর ধর্ষণ করেছে। সঙ্গে ছিল সেই মকবুল রাজাকারও। সন্ধ্যার সময় আবার বাড়িতে রেখে যায় তারা। প্রতিদিনই সকালে তুলে নিয়ে যায় আবার সন্ধ্যার সময় দিয়ে যায়। এভাবেই চলছিল। আমরা যে মকবুলের বাড়ি থেকে পালাব তারও কোনো উপায় ছিল না। কারণ সে তখন বড় রাজাকার। তার কথায় লোকজন উঠে বসে। ফলে তার বাড়ি থেকে পালাবার কোনো পথই ছিল না। বলতে গেলে একরকম বন্দি ছিলাম গোটা পরিবারের সবাই।’’ 

‘‘ওরা সবাইকে আটকে রেখে আমার ওপর চালাত এসব অত্যাচার। প্রতিদিনই একই নিয়মে কাজ করতো। সকালে নিয়ে যেত, রাতে বা সন্ধ্যার সময় আবার বাড়িতে রেখে যেত। এভাবে ক্রমাগত আমার ওপর চলেছে নির্যাতন। পাকিস্তানিদের ক্যাম্পে একজনের পর একজন আসতেই থাকত আর ধর্ষণ করে চলে যেত। কোনো দিন যদি আমার খুব কষ্ট হত বা অনেক খারাপ  লাগত তখন যেতে চাইতাম না। ঠিক তখনই শুরু করত এলোপাথারি মারধর। সারা শরীরে রয়েছে সে জখমের চিহ্ন। জোর করে নিয়ে যেত ওরা। এ অবস্থা চলেছে সারা মাস জুড়ে। একেবারে স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত কোন স্বস্তি পাইনি। দেশ স্বাধীন হলো। ততদিনে আমাদের সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। ঠিক মতো দাঁড়াতেও পারতাম না। তবুও কষ্ট করে বাবা ও ভাই আমাকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছে।” 

বীরাঙ্গনা টেপরি রাণী বর্মণ

তিনি আরও বলেন, “অনেক কষ্ট, জ্বালা, অনেক দুঃখের মাঝেই বেঁচে ছিলাম। পাকিস্তানিদের নির্যাতনের ফলে গর্ভবতী হয়ে পড়ি। কিন্তু তখন তো আমি বন্দী। ফলে পেটের সন্তানটা নষ্টও করতে পারিনি। পরে ছাড়া পাওয়ার পর আমার একটা ছেলে সন্তান হয়।
একাত্তরের বিভীসিকা আমার এখনও কাটেনি। মনের ভেতর ভয় ভয় লাগে। ঘুমালে মাঝেমধ্যেই স্বপ্ন দেখতাম- এই বুঝি পাকিস্তানি ও রাজাকাররা আসছে। ওরা আমাকে ধরে নিয়ে যাবে। ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠতাম। ওদের সেই ভয়ঙ্কর চেহারা, ভয়ঙ্করভাবে নির্যাতন করা যেন চোখের সামনে ভাসছে। মনে হয়, এরচেয়ে মৃত্যুও ভালো ছিল।” (তথ্যসূত্র: ১৯৭১: সম্ভ্রম হারানো নারীদের করুণ কাহিনী-সুরমা জাহিদ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জ্ঞানকোষ, ৮ম খণ্ড)

পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে দীর্ঘ আট মাসের নরকবাসের পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন টেপরি রাণী। দেশ স্বাধীন হলে ক্যাম্প থেকে মুক্তি পান এই বীরাঙ্গনা। কিন্তু জীবনের কষ্ট থেকে মুক্তি মেলেনি তাঁর। শরীরে চলার মতো শক্তিও ছিল না। তাঁকে চিকিৎসা দিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ করে তোলেন তাঁর বাবা। তবুও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শরীরের সঙ্গে তাঁর যুদ্ধটি চলমানই ছিল।

এরপর স্বাধীন দেশে শুরু হয় তাঁর আরেক লড়াইয়ের জীবন। ভূমিষ্ঠ হয় এক পুত্রসন্তান। এই যুদ্ধশিশুর নাম রাখা হয় সুধীর বর্মণ। টেপরি রাণীর ভাষায়, “বাবা নেই, নেই তার পরিচয়; কিন্তু সে আমার গর্ভে এসেছে, দশটি মাস আমি পেটে রেখে তাকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছি। কারণ, আমি যে মা। কী করি, হাজার জনের হাজার কথা সহ্য করেও ছেলেকে বুকে ধরে রেখেছি। বাবা নেই তাতে কী, আমি তো তাকে গর্ভে ধরেছি। পৃথিবীর আলো দেখিয়েছি। আমার তো আর দরদ কম লাগছে না তার জন্য। সবকথা ভুলে যেতাম যখন সে এসে আমাকে মা বলে ডাকতো। যে মা বলে ডাকে, তাকে কি ফেলে দেয়া যায়?”

মা হিসেবে স্বাধীন দেশে এক যুদ্ধশিশুকে নিয়ে নতুন সংগ্রামে একাই পথ চলেছেন এই বীর নারী। কিন্তু মায়ের সেই সম্মান দেয়নি স্বাধীন দেশের সমাজ। কটুক্তি করে মানুষ টেপরিকে ডাকত ‘জারজ সন্তানের মা’ বলে। সেই সন্তানের সঙ্গে মিশত না অন্য শিশুরা। পিতার পরিচয় না থাকায় স্কুলেও ভর্তি করানো যায়নি তাকে।

টেপরি রাণীর ছেলে সুধীরের বক্তব্যেও উঠে আসে তার প্রতি সমাজের বঞ্চনার চিত্রটিও। যা বড়ই কষ্টের ও বেদনার। এটি যুদ্ধপরবর্তী হীনম্মন্য সমাজের আরেক রূপকেই স্পষ্ট করে। তার ভাষায়, “আমার নাম সুধীর। আমার মায়ের নাম টেপরি। তারপর আর আমার বলার মতন কিছুই নেই। নেই আমার কোনো বাবা। বাবার পরিচয়? আমি যুদ্ধের সময় জন্মেছি। পাকিস্তানি মিলিটারিদের অত্যাচারের ফসল আমি, কারো ভালোবাসার ফসল না। তাই আমি ছোটবেলা থেকেই মানুষের লাথি গুতো খেয়ে বড় হয়েছি। একটা কুত্তা যদি কারো বাড়িতে থাকে, তখন দেখা যায় সেই কুত্তাটার প্রতি সেই বাড়ির লোকের মায়া জন্মে যায়। আমার বেলায় তাও হয়নি, একফোঁটাও মায়া দেখায়নি গ্রামের লোকেরা। এই দুনিয়াতে এক মা ছাড়া আমার আর কিছুই নেই।”

সুধীর আক্ষেপের সুরে বলেন, “যারা শিক্ষিত, শিক্ষা দেয়ার মতন ছিল, তারাই আমাকে জারজ বলে ডেকেছে। মা-ই আমার সব। পরিচয়হীন সন্তানের যে কত কষ্ট তা বলে বুঝানো যাবে না। যদি বুকের ভেতরটা দেখাতে পারতাম তাহলে হয়ত কিছু বুঝতে পারতেন। কী পরিমাণ ক্ষত-বিক্ষত আমার অন্তর।”

এক যুদ্ধশিশুকে বুকে আগলে নতুন সংসারজীবনও শুরু করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা টেপরি রাণী। কিন্তু তাঁর একাত্তরের পরিচয় জানাজানি হওয়ায় সেই সংসার এক মাসও টেকেনি! বরং শত মানুষের শত অপবাদ সহ্য করেই একাকীত্বের মাঝে জীবন কাটিয়েছেন বীরাঙ্গণা টেপরি রাণী বর্মণ। হয়তো মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তাঁর পরিপূর্ণ মুক্তি মিলল! কিন্তু স্বাধীন দেশে সমাজের মানুষের প্রতি অজস্র প্রশ্নই রেখে গেলেন একাত্তরের এই বীর নারী।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ ‘বীরাঙ্গনা’—যাদের ত্যাগের ধরণকে মূল্যায়ন করেই পরবর্তীকালে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে সম্মানিত ও মহিমান্বিত করা হয়েছে। ফলে ২০১৬ সালে টেপরি রাণীও রাষ্ট্রীয়ভাবে বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন। এই প্রাপ্তি দেশের জন্য, স্বাধীনতার জন্য একাত্তরে তাঁর ত্যাগের ইতিহাসটিকেই গৌরবান্বিত করেছে। তাই স্বাধীনতার জন্য, স্বাধীন দেশের জন্য টেপরি রাণীর মতো বীর নারীর ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে হবে প্রজন্মের মাঝে। স্বাধীন দেশে এটি আমাদের দায়। আর এক কাজটি করতে হবে সকলে মিলেই।

আমরা বিশ্বাস করি, একাত্তরের বীরদের মৃত্যু নেই। তাঁরা বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। আবার আজকের সবকিছু আগামীর বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ হবে, তেমনটিও নয়। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে মুক্তিযোদ্ধা টেপরি রাণী বর্মণের ত্যাগের ইতিহাসটি জীবন্ত হয়েই থাকবে। সেই ইতিহাস পাঠ করে প্রজন্ম একাত্তরকে উপলব্ধি করতে পারবে। কত ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা? মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও সাহসের সেই ইতিহাসও প্রজন্মকে উজ্জীবিত করবে। 

ঢাকা/তারা//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়