Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ২৯ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ১৩ ১৪২৮ ||  ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

Risingbd Online Bangla News Portal

স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি’র আসামি হওয়ার কারণ জানালো দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:১৬, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৮:১৬, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি’র আসামি হওয়ার কারণ জানালো দুদক

ফাইল ছবি

আলোচিত দুর্নীতিবাজ রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহা পরিচালক (ডিজি) আবুল কালাম আজাদকে।

দুদকের তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আসামি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন, দুদক সচিব ড. মু আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুদক প্রধান কার্যালয়ে সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।

তিনি জানান- দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এর ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দায়ের করা মামলা নং-০৮ এর এজহারকারী ও তদন্তকারী কর্মকর্তার দুদক উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীর দাখিলকৃত প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে কমিশন কর্তৃক চার্জশিট দাখিলের প্রস্তাব অনুমোদন প্রদান করা হয়। আবুল কালাম আজাদকে এজহারভুক্ত করার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

সচিব জানান, অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার অভিপ্রায়ে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক অপরাধজনক বিশ্বসভঙ্গের মাধ্যমে লাইসেন্স নবায়নবিহীন বন্ধ রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, এমওইউ সম্পাদন করা হয়। যেজন্য অভিযুক্তকে আসামি করার অনুমোদ দেওয়া হয়েছে।

আবুল কালাম আজাদকে কেন তদন্ত সাপেক্ষে আসামি করা হয়েছে? অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকলেও কেন তাকে মামলার প্রথম অবস্থায় অভিযুক্ত করা হয়নি? এতে কি দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তার যোগ্যতা বা দক্ষতার অভাব প্রমাণ হয়?

সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে দুদক সচিব ড. মু আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘না হয় না। কারণ তদন্ত না করে কাউকে দোষী করা হয় না। বলাও যায় না। আপনি আমি যদিও জানি, উনি এটি করেছেন। কিন্তু তদন্ত করে অভিযোগ পর্যালোচনা করা হয়। আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তা তাই করেছে।’

দুদক সচিবের নিকট সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন- নবায়নবিহীন বন্ধ রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে তা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে মাধ্যমে হয়েছে। এমন দাবি করেছে আবুল কালাম আজদ। যদি এমন হয়ে থাকে তাহলে কেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট অন্যদের আসামি করা হলো না?

এমন প্রশ্নে দুদক সচিব বলেন, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তের রেকডপত্রে দেখেছেন যে, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেই (রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির)।’

অভিযোগপত্রের আসামিরা হলেন— রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ; স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ডা. মো. আমিনুল হাসান, উপপরিচালক ডা. মো. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক ডা. মো. শফিউর রহমান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গবেষণা কর্মকর্তা ডা. মো. দিদারুল ইসলাম এবং তদন্তে দুর্নীতি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া আসামি করা হয়েছে- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

দুদকের অভিযোগ পত্রে দাবি করা হয়েছে- এমওইউ সম্পাদন ও সরকারী প্রতিষ্ঠান ল্যাবে ৩ হাজার ৯৩৯ জন কোভিড রোগীর নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষা করত অবৈধ পারিতোষিক বাবদ রোগী প্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা হিসেবে মোট ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ।

রিজেন্ট হাসপাতাল মিরপুর ও উত্তরা শাখার জন্য চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের খাবার খরচ বরাদ্দের বিষয়ে ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মাসিক চাহিদা তুলে ধরাসহ চুক্তি পর্যালোচনার খসড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার উদ্যোগ গ্রহণের দায়ে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করায় তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লিখিত আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫ (২) ধারায় চার্জশিট দাখিলের সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এর প্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তার দাখিলকৃত প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে কমিশন কর্তৃক চার্জশিট দাখিলের প্রস্তাব অনুমোদন প্রদান করা হয়।

ঢাকা/শিশির/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়