ঢাকা     বুধবার   ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৭ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

পিএসসির প্রশ্নফাঁসের হোতা সেই আবেদ আলীর ছেলে সিয়াম জেলে

বিশেষ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০১:৩১, ২১ জানুয়ারি ২০২৬  
পিএসসির প্রশ্নফাঁসের হোতা সেই আবেদ আলীর ছেলে সিয়াম জেলে

সরকারি কর্ম কমিশনের প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা হিসেবে আলোচিত সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ও তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম।

পিএসসি প্রশ্নফাঁস কাণ্ড: আবেদ আলী জীবনের ছেলে সোহানুর রহমান সিয়াম কারাগারে

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা হিসেবে আলোচিত সেই সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

আরো পড়ুন:

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সিয়ামকে কারাগারে পাঠান।

আবেদ আলী ছিলেন পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পিএসসির প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির ঘটনায় আবেদ আলীসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরে তার কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক এবং একাধিক মামলা দেয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন সোহানুর রহমানকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং তা আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে এদিন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজীর আহমেদ সোহানুর রহমান সিয়ামকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

দুদকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পিএসসি প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আবেদ আলী জীবন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর ধারাবাহিক বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আবেদ আলীর পরিবারের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আবেদ আলী জীবনের বিরুদ্ধে প্রায় পৌনে ৪ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা হয়। আবেদ আলী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা রয়েছে।

দুদকের মামলায় আবেদ আলীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ৩ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৭ টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তদন্তে দেখা যায়, তার নামে থাকা ১২টি ব্যাংক হিসাবে মোট ২০ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ৯৭১ টাকা জমা এবং ২০ কোটি ৪১ লাখ ৩ হাজার ৭৪১ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব লেনদেনকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে দুদকের তৎকালীন মহাপরিচালক আক্তার জানান, দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বা সম্পদের উৎস গোপনের অভিযোগ রয়েছে আবেদ আলীর বিরুদ্ধে।

আবেদ আলীর স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পীর বিরুদ্ধে ১ কোটি ২৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়। তদন্তে তার দুটি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৬ টাকা জমা এবং ১ কোটি ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৫ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়, যা মামলায় সন্দেহজনক লেনদেন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আবেদ আলীর ছেলে সিয়ামের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করে দুদক।

এর আগে দুদকের আবেদনের পর গত বৃহস্পতিবার আদালত আবেদ আলী জীবনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান।

ঢাকা/নঈমুদ্দীন/রাসেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়