ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৬ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ২ ১৪৩৩ || ৩০ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বৃষ্টি নামলেই গান শুনতে ইচ্ছে করে কেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:১৩, ১৬ জুন ২০২৬   আপডেট: ০৯:২২, ১৬ জুন ২০২৬
বৃষ্টি নামলেই গান শুনতে ইচ্ছে করে কেন?

ছবি: এআই/রাইজিংবিডি

বাইরে টুপটাপ বৃষ্টি। জানালার কাচে গেঁথে যাওয়া বিন্দু-বিন্দু জল দেখে হঠাৎই মনে হতে পারে—একটা গান চালানো যাক। কারও প্লেলিস্টে বাজে রবীন্দ্রসংগীত, কারও পছন্দ আধুনিক ব্যালাড, আবার কেউ শুনতে চান পুরোনো দিনের নস্টালজিক সুর। প্রশ্ন হলো, বৃষ্টি নামলেই কেন এত মানুষের গান শুনতে ইচ্ছে করে? এর পেছনে শুধু রোমান্টিকতা নয়, কাজ করে মনোবিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান এবং পরিবেশগত অনুভূতিরও প্রভাব।

আরো পড়ুন:

বৃষ্টির শব্দ নিজেই এক ধরনের সুর
বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে আর এমন ধারাবাহিক শব্দ আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে সাহায্য করতে পারে। অনেকের কাছে বৃষ্টির শব্দ ‘প্রাকৃতিক হোয়াইট নয়েজ’ বা ‘পিঙ্ক নয়েজ’-হিসেবে মতো কাজ করে, যা বাইরের বিরক্তিকর শব্দ ঢেকে দিয়ে মনকে স্থির করে।  এই প্রশান্ত পরিবেশে মস্তিষ্ক সহজেই সঙ্গীত গ্রহণে আগ্রহী হয়ে ওঠে। তাই বৃষ্টির আবহে গান যেন আরও গভীরভাবে অনুভূত হয়।

আবহাওয়া বদলায়, বদলে যায় মনের সুরও
বৃষ্টি প্রায়ই মানুষের মনকে ধীর করে তোলে। বাইরে যাওয়ার তাড়া কমে আসে, চারপাশে তৈরি হয় এক ধরনের অন্তর্মুখী পরিবেশ। এমন সময় মানুষ নিজের অনুভূতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে চায়, আর সঙ্গীত সেই কাজের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম।

গবেষকেরা বলেন, ‘‘মানুষ প্রায়ই নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ, মুড পরিবর্তন, আত্মবিশ্লেষণ কিংবা স্মৃতিচারণের জন্য গান শোনে।’’

অর্থাৎ বৃষ্টির আবহ যদি মনকে নরম করে তোলে, গান সেই আবেগকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে। 

নস্টালজিয়ার দরজা খুলে দেয় বৃষ্টি
বৃষ্টির সঙ্গে অনেকের শৈশব, প্রথম প্রেম, স্কুল ছুটি, কাদা মাখা বিকেল কিংবা পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত জড়িয়ে থাকে। বৃষ্টি সেই স্মৃতিগুলোকে জাগিয়ে তুলতে পারে। তখন মানুষ এমন গান খোঁজে, যা সেই অনুভূতির সঙ্গে মিলে যায়। সঙ্গীত এবং স্মৃতির এই সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পরিচিত সুর অতীতের অভিজ্ঞতা ও আবেগকে দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। 

প্রকৃতির সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে নেওয়ার প্রবণতা
বৃষ্টির সময় চারপাশের গতি কিছুটা মন্থর মনে হয়। এই মন্থরতার সঙ্গে ধীর লয়ের বা আবেগঘন গান সহজেই মানিয়ে যায়। অনেকেই অবচেতনভাবে এমন সুর বেছে নেন, যা বাইরের পরিবেশের সঙ্গে আবেগগত সামঞ্জস্য তৈরি করে। মনোবিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা বলছে, সঙ্গীত শোনা মানুষের মুড নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। 

সবার ক্ষেত্রে কী একই রকম?
না। বৃষ্টি যেমন অনেকের কাছে প্রশান্তির, তেমনি কারও কাছে বিষণ্নতার অনুভূতিও আনতে পারে। আবার কেউ বৃষ্টির শব্দে আরাম পান, কেউ সেটিকে বিরক্তিকর মনে করেন। তাই বৃষ্টি এলেই গান শুনতে ইচ্ছে করবে—এমন কোনো সার্বজনীন নিয়ম নেই। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি, স্মৃতি এবং ব্যক্তিত্বের ওপরও এটি নির্ভর করে। 

বৃষ্টির ছন্দ আমাদের মনকে শান্ত করে, অন্তর্মুখী করে তোলে; আর সেই মুহূর্তে সঙ্গীত হয়ে ওঠে অনুভূতি প্রকাশের সবচেয়ে সহজ ভাষা। তাই জানালার ওপারে মেঘ ভাঙা বৃষ্টি নামলে, প্লেলিস্টের দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়াটা হয়তো খুবই স্বাভাবিক।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, হেলথলাইন, স্টাইলিস্ট

ঢাকা/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়