ঢাকা, সোমবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৫ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৮ ১২:৩২:৫৯ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০৮ ১২:৩২:৫৯ এএম
প্রতীকী ছবি

করোনা-সংক্রমণ রোধে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে।  ছুটিতে কর্মহীন হয়ে পড়া দিনমজুর, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষদের জন‌্য সরকারের পক্ষ থেকে সারাদেশে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।  ত্রাণ কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপরও গত কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণের চাল চুরি করছেন ডিলারসহ জনপ্রতিনিধিরা। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

এর পরপ্রেক্ষিতে ত্রাণের চাল চুরির ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ব‌্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন সমাজের বিশিষ্টব‌্যক্তিরা।

এবিষয়ে সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘করোনা প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দেশে সাধারণ ছুটি চলমান থাকায় দিনমজুর, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ কর্মহীন হয়েছেন। এসব অসহায় মানুষদের সরকার ত্রাণ দিচ্ছে। তাদের দেওয়া সেই ত্রাণ চুরি করা হচ্ছে। এরা সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানসিকতার মানুষ। দীর্ঘদিন অন্যায় করে আসছে কিন্তু বিচারের আওতায় না আসায় দিনের পর এসব ঘৃণ‌্য কাজ করে যাচ্ছে।  এসব জনপ্রতিনিধি ও ডিলারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এদের বিচার না করলে সমাজে ত্রাণসহ সরকারের বিভিন্ন সাহায্য চুরি বন্ধ হবে না’।

তিনি আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রধান ত্রাণ কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।  এরপরও তারা চুরি করছেন। তাদের পেছনে অনেক রাঘব-বোয়াল আছে। এসব রাঘবরা তাদের কাছ থেকে কমিশন নেয়। তারা জানে ধরা পড়লে রাঘবরা তাদের বাঁচাবে। আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসা যাবে। তাই ত্রাণচোরদের নিয়ন্ত্রণ করতে হলে কঠোর সাজার বিকল্প নেই।’

এবিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ড.আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘নিম্নআয়ের মানুষকে দেওয়া ত্রাণ যারা (জনপ্রতিনিধি) আত্মসাৎ করে তারা ছোটমনের মানুষ। এসব লোকদের বিভিন্ন প্রভাবশালীরা শেল্টার দেয়। বিনিময়ে তারা ভাগাভাগি  করে নেয়। একারণে তারা বিচারের সম্মুখীন হচ্ছে না। যার ফলে এসব ব্যক্তিদের চুরি করার অভ‌্যাস বদলায়নি। আইন সবার জন্য সমান। তাই এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যাতে ভবিষ্যতে এরকম অপরাধ ফের কেউ করার সাহস না পায়।’

তিনি বলেন, ‘কিছু দিন ধরে বন্ধ যানবাহন, কল-কারখানা, দোকান ও বিপনি-বিতান বন্ধ থাকায় যেসব মানুষ দিন আনে দিন খায় তারা খুব কষ্টে আছেন। এসব গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, ত্রাণ চুরি করে তার নির্দেশ উপেক্ষা করছেন। মনে রাখবেন খাবার চুরি করে জমা রেখেছেন আপনিও এ রোগে (করোনা) আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন। চুরি করা ত্রাণ তখন কে খাবে। তাই সব সময় একটি কথা মনে রাখবেন বেঁচে থাকতে বেশি সম্পদের প্রয়োজন নেই’।


ঢাকা/আসাদ/জেডআর