Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ১৬ মে ২০২১ ||  জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৮ ||  ০২ শাওয়াল ১৪৪২

চেকপোস্টে হয়রানি, যা বলছে পুলিশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৭, ১৫ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ২২:৪১, ১৫ এপ্রিল ২০২১
চেকপোস্টে হয়রানি, যা বলছে পুলিশ

ফাইল ফটো

গতকাল বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে এক সপ্তাহের কড়াকড়ি লকডাউন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন কাজে বাইরে বের হয়ে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব হয়রানির বিষয় কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুকে) উঠে এসেছে। বিষয়টি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) দৃষ্টিগোচরে এসেছে। 

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) রাতে ডিএমপি’র গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কিছু কিছু ব্যক্তি পুলিশের চেকপোস্টে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বর্ণিত ঘটনার একটিতে দেখা যায়, কাওরান বাজারে পুলিশ একটি প্রাইভেটকারের ড্রাইভারকে বাইরে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি গাড়িটি জনৈক চিকিৎসকের বলে বর্ণনা দেন। কিন্তু চিকিৎসক গাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। ড্রাইভার ওই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হওয়ায় গাড়ির কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়। কিন্তু গাড়ির কাগজপত্রে বর্ণিত গাড়ির মালিকের সঙ্গে বর্ণিত চিকিৎসকের সামঞ্জস্য না থাকায় ড্রাইভারের বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। 

অন্যদিকে জাহাঙ্গীর গেট এলাকার এক ঘটনায় সম্মানিত একজন নাগরিক নিজ বাসা থেকে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য বের হন। কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বিজয় স্মরণীসহ বেশ কয়েকটি চেকপোস্টের মুখোমুখি হন তিনি। এতে স্বভাবতই হাসপাতালে পৌঁছাতে তার দেরি হচ্ছিল। জাহাঙ্গীর গেট সংলগ্ন চেকপোস্টে তিনি ৩০ সেকেন্ডের মতো আটকে ছিলেন বলে জানান। যাতায়াতের সময় যারা আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদেরই যাচাই বাছাই করা হয়েছে যেটি চলমান বিধি নিষেধের প্রেক্ষিতে যৌক্তিক। 

কোভিড মহামারীর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার নির্দেশিত বিধিনিষেধ মেনে চলা সব নাগরিকের সমান দায়িত্ব। এ সমস্ত বিধি নিষেধ বাস্তবায়নে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে ডিএমপি অংগীকারাবদ্ধ। কোনো পুলিশ সদস্য যাতে কোনো অপেশাদার আচরণ না করেন, সেজন্য সর্বদা তাদের আচার আচরণ মনিটর করা হয়। 

যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে তাদের উদ্বুদ্ধ করা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজ চলমান আছে। পুলিশের কাজে সার্বিক সহায়তার জন্য সম্মানিত নাগরিকদের অনুরোধ করা হচ্ছে। কোনো ব্যত্যয় দেখা গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

পুলিশ আরও বলছে, কোভিড-১৯ বিস্তার রোধ করতে চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ প্রসঙ্গে গত ১২ এপ্রিল একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির অবনতির কারণে ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এ বিধি-নিষেধ বাস্তবায়নে শুরু থেকেই সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে মাঠে রয়েছে পুলিশ। 

করোনার বিস্তার রোধে একদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সম্মানিত নাগরিকের অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতে নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করে চলেছেন পুলিশের সদস্যরা। 

আইনশৃঙ্খলা, জরুরি পরিসেবাসহ অত্যাবশকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং অতি জরুরি প্রয়োজনে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ ছাড়া বিনা কারণে বা উপযুক্ত পাস ব্যতীত কোনো ব্যক্তি যাতে রাস্তায় বের হতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা ডিএমপি’র সদস্যরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছেন। 

১৪ এবং ১৫ এপ্রিল সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে বিধি নিষেধ বাস্তবায়নের কাজ অনেকটা সফলতার সঙ্গেই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। যদিও বিনা কারণে রাস্তায় বের হওয়া ব্যক্তি এবং বিভিন্ন পরিসেবায় নিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা কষ্টকর কাজ। কেননা কিছু কিছু ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া গাড়ি নিয়ে বের হওয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশকে সারাদিনই গলদঘর্ম হতে হচ্ছে।

ঢাকা/মাকসুদ/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়