ঢাকা     সোমবার   ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২১ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে ইশতেহারেও লিখিত থাকতে হবে: বদিউল আলম 

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:১৫, ৩ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৬:৪৫, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে ইশতেহারেও লিখিত থাকতে হবে: বদিউল আলম 

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করলেও রাজনৈতিক দলগুলোর গণভোটের ক্ষেত্রে অবস্থান কী, তারা ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ ভোটের পক্ষে, তা তাদের নির্বাচনি ইশতেহারেও স্পষ্টভাবে লিখিত থাকতে হবে বলে মত দিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষায় কেমন ইশতেহার চাই’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি তোলেন তিনি।

আরো পড়ুন:

বদিউল আলম বলেন, “যদিও দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদে সংস্কার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে, কিন্তু তাদের ইশতেহারেও এটি সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকতে হবে।”

গণভোটের বিষয়ে কেন নির্বাচনি ইশতেহারে লিখিত থাকতে হবে, তার ব্যাখ্যায় সুজন সম্পাদক বলেন, “নির্বাচনি ইশতেহার একটি লিখিত চুক্তি। স্বাক্ষরিত না হলেও এটি ভোটারদের সঙ্গে দলগুলোর চুক্তি। কিন্তু নির্বাচনের পর ইশতেহার ছুড়ে ফেলা হয়। এই চুক্তি অমান্য করলে যেন নাগরিকদের আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকে, মানুষ যেন প্রশ্ন করার সুযোগ পায়; দলগুলো তাদের অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়ন করেছে।”

বদিউল আলম বলেন, “নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ দিন বদলের সনদ নামে একটি ইশতেহার করেছিল। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ তাদের সেই অঙ্গীকার ভুলে যায়। তার মাশুলও দিতে হয়েছে দলটিকে।”

“শুধু সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই যথেষ্ট নয়, গণতান্ত্রিক উত্তরণে যেতে হবে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করতে হবে। প্রতিবারই যেন সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে,” যোগ করেন সুজনের প্রধান নির্বাহী।

রাজনৈতিক দলগুলোকে আইন মেনে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বদিউল আলম বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো গণতান্ত্রিক না হলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না।”

বিগত নির্বাচনগুলোতে জয়ী প্রার্থীদের সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে সুজন সম্পাদক বলেন, “ক্ষমতার সঙ্গে জাদুর কাঠি রয়েছে। রাজনীতিবিদদের জানাতে হবে, ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যমে অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার যে সুযোগ, রাজনীতির ব্যবসায়ীকরণ ও ব্যবসায়ের রাজনীতিকরণের অবসান তারা কীভাবে ঘটাবেন।”

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত পাঠ করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম। রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে রাখা অবশ্যক এমন ১৫টি বিষয় তুলে ধরেন তিনি।

ওয়ারেসুল করিম বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণ ও রাষ্ট্র পুনর্গঠন সম্ভব নয়। আসন্ন গণভোটে রাজনৈতিক দলগুলো হ্যাঁ না কি না ভোটের পক্ষে থাকবে তাও ইশতেহারে স্পষ্ট করতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সুজনের কোষাধ্যক্ষ ও সুজন ট্রাস্টি বোর্ডের ট্রাস্টি সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, সুজনের জাতীয় কমিটির সদস্য ও নির্বাচন কার্যক্রম সমন্বয়ক একরাম হোসেন এবং সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার, সহযোগী সমন্বয়কারী নেসার আমিন উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা/রায়হান/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়