ঢাকা     শুক্রবার   ১০ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৭ ১৪৩২ || ২১ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর ঢামেক জরুরি বিভাগ চালু, তদন্ত কমিটি

প্রকাশিত: ২২:৫৬, ৮ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ০৮:২৮, ৯ এপ্রিল ২০২৬
সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর ঢামেক জরুরি বিভাগ চালু, তদন্ত কমিটি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা পুনরায় চালু হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। গঠিত কমিটিকে আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওিয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন:

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী অসুস্থ অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। সেখানে দায়িত্বরত জেনারেল সার্জারি বিভাগের এক চিকিৎসক রোগীকে পরীক্ষার পর ‘নেলবান’ নামের একটি ইনজেকশন বাইরে থেকে কিনে আনার পরামর্শ দেন। শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা বিভিন্ন ফার্মেসিতে খোঁজ করেও ইনজেকশনটি না পেয়ে ফিরে আসেন এবং চিকিৎসকের কাছে এ বিষয়ে পুনরায় জানতে চান।

এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বিবেচনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি বিভাগের প্রধান প্রবেশপথ বা ‘কেচি গেট’ বন্ধ করে দিলে চিকিৎসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়।

ঘটনার পর ঢাবি শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের বাইরের চত্বরে অবস্থান নেন এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ভেতরের অংশে জড়ো হন। মাঝখানে তালাবদ্ধ গেট থাকায় দীর্ঘ সময় রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ বলেন, “চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিতে গেট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলাম। যে ইনজেকশনটি প্রেসক্রাইব করা হয়েছিল সেটি প্যাসিডিন জাতীয় হওয়ায় সম্ভবত ওষুধ বিক্রেতারা তা দিতে চাননি। অথচ এটি বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায়।”

শিক্ষার্থীদের একাংশ গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

রাত ১০টার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং জরুরি বিভাগের গেট খুলে দেওয়া হয়। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঢাকা/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়