ইন্দো-বাংলা ফার্মার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে বিএসইসি
পুঁজিবাজারে ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের আইন লঙ্ঘন, অনিয়ম ও আর্থিক অসঙ্গতির প্রমাণ পেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এমন পরিস্থিতিতে অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসহ কোম্পানিটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) তহবিলের অপব্যবহার থেকে শুরু করে আর্থিক প্রতিবেদনে কারসাজি—একাধিক সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হচ্ছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।
বিএসইসির সাম্প্রতিক কমিশন সভায় তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনিয়মগুলো খতিয়ে দেখতে কমিশনের এনফোর্সমেন্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের এপ্রিলে ইন্দো-বাংলা ফার্মার সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও আইপিও ফান্ডের ব্যবহার খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচটি অর্থবছরের নথিপত্র যাচাই করে। কোম্পানিটি আইপিও’র মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থের সঠিক ব্যবহার করেনি। এছাড়া, পরিশোধিত মূলধনের হিসাব এবং বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যাপক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এই পাঁচ বছরে কোম্পানিটি পরিকল্পিতভাবে সিকিউরিটিজ আইনের বিভিন্ন ধারা ও বিধি-বিধান লঙ্ঘন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, তদন্ত প্রতিবেদনে সবচেয়ে উদ্বেগজনক যে তথ্যটি উঠে এসেছে তা হলো কোম্পানির ভবিষ্যৎ সক্ষমতা। ইন্দো-বাংলা ফার্মার বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি এতটাই নড়বড়ে যে, এটি ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে কি না—তা নিয়ে ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’ বা অস্তিত্ব সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কমিটি। এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখতে কমিশনের ইস্যুকারী কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, বিএসইসি অডিটর বা নিরীক্ষকদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে কোনো নিরীক্ষক যদি কোনো কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক হিসাবমান (আইএএস/আইএফআরএস) কিংবা বিএসইসির কোনো নির্দেশনার লঙ্ঘন পান, তবে তা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
অডিটরদের প্যানেলে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কমিশন।
তবে এ ধরনের অনিয়ম ও অসঙ্গতি রোধে বিএসইসি এখন থেকে একা নয়, বরং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থার সাথে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইন্দো-বাংলা ফার্মার মতো ঘটনাগুলো তদন্তে প্রয়োজনে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং আরজেএসসির সাথে তথ্য বিনিময় করা হবে।
এ বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম রাইজিংবিডিকে বলেন, "অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালনা করে আমরা বিভিন্ন অনিয়মের অকাট্য প্রমাণ পেয়েছি। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর এমন নগ্ন জালিয়াতির বিরুদ্ধে বিএসইসির এই কঠোর অবস্থান পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফেরাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা/এনটি/ইভা