বিএনপি নেতার মৃত্যুর ৭ বছর পর মামলা, আসামি সাবেক এমপি-ডিসি-এসপি
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. এ. শামিম আরজু।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. এ. শামিম আরজুর মৃত্যুর ঘটনায় সাত বছর পর আদালতে মামলা হয়েছে। নিহতের ছেলে এস. এম. ফুয়াদ শামীম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ তথ্য জানিয়েছেন কুষ্টিয়া সদর আমলী আদালতের পেশকার সোহাগ হোসেন।
মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাবেক জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন ও সাবেক পুলিশ সুপার তানভির আরাফাতসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও সদর আমলী আদালতের বিচারক মোস্তফা পারভেজ মামলাটি আমলে নিয়ে এক মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত মামলা মোকদ্দমা চলমান আছে কি না তা জানাতে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, জেনারেল হাসপাতালের সাবেক আরএমও ডা. তাপস কুমার সরকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত জেলার আক্তারুজ্জামান, সাবেক জেল সুপার জাকির হোসেন, তৎকালীন কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, সাব-ইন্সপেক্টর লিপন সরকার, সাব-ইন্সপেক্টর কাজি মেহেদী হাসান, সাব-ইন্সপেক্টর সোহেলী আক্তার, শহরের কোর্টপাড়া এলাকার মৃত চাঁদ আলী মুক্তার আলীর ছেলে আবুল হাশেম, সাবেক কারারক্ষী লিমন হোসেন ও মিরপুর উপজেলার তাঁতিবন্দ এলাকার মৃত নেহাল মন্ডলের ছেলে তারেক নেহাল তপে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মীরা কুষ্টিয়া ডিসি অফিস সংলগ্ন স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানাতে যায়। এ সময় পুলিশ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। শামীম আরজুসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। আটক অবস্থায় পুলিশের নির্যাতনে আরজু অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী এস. এম. ফুয়াদ শামীম বলেন, “বাবাকে কারাগারে নির্যাতন করা হয়েছে। চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। সাবেক এমপির নির্দেশে আটক করেছিল পুলিশ। অসুস্থতার কথা ডিসিকে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। নির্যাতন ও যথাযথ চিকিৎসার অভাবেই বাবার মৃত্যু হয়েছে।”
বাদীর আইনজীবী নুরুল কাদের বলেন, “বিএনপি নেতা এম. এ. শামীম আরজু কারাগারে পুলিশের নির্যাতনে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে মারা গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলা করতে গেলে গুমের ভয় দেখাত ফ্যাসিস্টরা। তাই এতদিন মামলা করতে পারিনি।”
কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, “এ সংক্রান্ত আদালতের কোনো নির্দেশনা এখনো হাতে পাইনি।”
ঢাকা/কাঞ্চন/মাসুদ