জামায়াত জোটের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন কারা?
রায়হান হোসেন || রাইজিংবিডি.কম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে জামায়াত ও জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে চলছে চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ। রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় দলের হয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা নারী নেত্রীদের মধ্য থেকেই যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনে গুরুত্ব দিচ্ছে জোটের হাইকমান্ড। সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পাবে ৩৬ আসন এবং বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট পাবে ১৩ আসন। স্বতন্ত্র জোট একটি আসন পাবে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ জোটের অন্যান্য একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এ দিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ১৩টির মধ্যে জামায়াত ১১টি, এনসিপি একটি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। তবে এনসিপি জোটের কাছে আরো একটি সংরক্ষিত আসন দাবি করেছে বলে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন জোটের শীর্ষ নেতারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের এক সদস্য বলেন, সংরক্ষিত আসনের ক্ষেত্রে দলের মহিলা বিভাগের জ্যেষ্ঠ নেত্রীরা প্রাধান্য পাচ্ছেন। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যারা ভূমিকা রেখেছেন এবং হতাহত হয়েছেন এমন পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
আলোচনায় রয়েছেন যারা
কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি ডা. আমিনা বেগম রহমান, সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য শাহান আরা বেগম এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহার মুন্নী। সাঈদা রুম্মান, মার্জিয়া বেগম, খন্দকার আয়েশা খাতুন, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, কাজী মারিয়া ইসলাম বেবি, রাবেয়া খানম, ডা. শিরিন আক্তার রুনা, তানহা আজমি, নার্গিস খান, কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তার ও আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন।
সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা সংবাদমাধ্যমে বলেন, নারীরা দলের আমির হতে না পারলেও সংরক্ষিত নারী আসনে যোগ্যদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে দলে নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ফোরামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তালিকা দেওয়া হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের মধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশ পুরুষ ও ৪৩ শতাংশ নারী। মহিলা বিভাগে প্রায় অর্ধলাখ সদস্য রয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় চার লাখ কর্মী এবং অসংখ্য সহযোগী সদস্য নিয়ে সারা দেশে মহিলা বিভাগের সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তৃত রয়েছে।
এ ছাড়া জামায়াত জোটের অন্যতম দল এনসিপি সংরক্ষিত আসনে দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতুকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে। তবে এনসিপি দরকষাকষি করে আরো একটি সংরক্ষিত আসন পেলে সেক্ষেত্রে দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন হক মনোনয়ন পেতে পারেন।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এনসিপি যেহেতু একটি আসন পাচ্ছে। আনুপাতিক হারে তাদের আরও একটি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের সহযোগিতার বিষয়ে জোটে আলোচনা হচ্ছে।
সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। তবে এখনো নাম চূড়ান্ত করা হয়নি, শিগগিরই নাম চূড়ান্ত করা হবে।’’
সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সর্বশেষ জোটের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার-সহকারী মুজিবুল আলম রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ‘‘সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, আলোচনা চলমান আছে।’’
এনসিপিকে আরো একটি আসনে ছাড় দেওয়ার হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘এ বিষয়েও এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে আপনাদের জানানো হবে।’’
এদিকে আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন। তফসিল অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ হবে আগামী ১২ মে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।
ঢাকা/তারা//