ঢাকা     শনিবার   ১১ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৮ ১৪৩২ || ২২ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স পাকিস্তানে পৌঁছেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৫৭, ১১ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৪:০৭, ১১ এপ্রিল ২০২৬
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স পাকিস্তানে পৌঁছেছেন

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা নিরসনে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স কিছুক্ষণ আগে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। খবর বিবিসির। 

আজ শনিবার তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবেন। তার সঙ্গে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতাসহ জ্যারেড কুশনারসহ মার্কিন প্রতিনিধি দলের বিশাল বহর।

আরো পড়ুন:

গতকাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আলোচনার ব্যাপারে আশাবাদী। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, ইরান যদি ‘চালাকির আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে’, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তা মেনে নেবে না।

এদিকে, ইরানি প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। আজ শনিবার সকালে ৭১ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদে পৌঁছান পাকিস্তানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। 

ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর ইরানি প্রতিনিধি দলের এই নেতা সাংবাদিকদের বলেন, ইরান ‘ভালো উদ্দেশ্য’ নিয়ে ইসলামাবাদে এসেছে; যদিও তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না। 

তিনি আরো বলেন, তেহরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তেহরানের অধিকার মেনে নিতে হবে।

বিবিসির প্রতিবেদন বলা হয়, গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউজে ইস্টার মধ্যাহ্নভোজ চলাকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়ম ভেঙে ভ্যান্সের এই মিশন নিয়ে মন্তব্য করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে ট্রাম্প মজা করে বলেন, “যদি কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে আমি ভ্যান্সকে দোষারোপ করব। আর যদি চুক্তি সফল হয়, তবে এর পুরো কৃতিত্ব নেব আমি।”

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই রসিকতা মূলত ভ্যান্সের বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটিই ভ্যান্সের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অ্যাসাইনমেন্ট। এই মিশনে সফল হওয়ার সম্ভাবনা যেমন সীমিত, তেমনি ব্যর্থ হলে ক্ষতির পাল্লা অনেক ভারী।

একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে ভ্যান্সকে এমন সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে যারা একে অপরকে চরম অবিশ্বাস করে। ছয় সপ্তাহের সামরিক অভিযানের পর বিশ্ব অর্থনীতি যখন বিপর্যস্ত, তখন মিত্র দেশগুলো ভ্যান্সের ভূমিকার ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।

একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে বলেন, “ভ্যান্সকে এই কক্ষে বসে সুনির্দিষ্ট কিছু অর্জন করে দেখাতে হবে। অন্যথায় তার রাজনৈতিক গুরুত্ব বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।”

শনিবার ভ্যান্সকে ইসলামাবাদে স্বাগত জানানোর পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এক বিবৃতিতি জানান, তিনি আশা করেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ‘গঠনমূলকভাবে আলোচনায় নিযুক্ত হবে’। সেই সঙ্গে তিনি সংঘাতের একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে পৌঁছানোর জন্য দুই পক্ষকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে পাকিস্তানের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়