ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৩ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ৮ ১৪৩১

অভিনেত্রী থেকে নেত্রী, বাংলাদেশে পা দিয়েই বিতর্কে শাকিবের নায়িকা

বিনোদন ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৪৮, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩   আপডেট: ১০:১০, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩
অভিনেত্রী থেকে নেত্রী, বাংলাদেশে পা দিয়েই বিতর্কে শাকিবের নায়িকা

ভারতীয় বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জি। টিভি রিয়েলিটি শো ‘নাচ ধুম মাচা লে’-এর মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে পা রাখেন তিনি। তারপর নাম লেখান বড় পর্দায়। ২০০৯ সালে ‘ঘর সংসার’ সিনেমার মাধ্যমে টলিউড সিনেমায় অভিষেক ঘটে তার। অভিষেক চলচ্চিত্রে খুব একটা নজর কাড়তে পারেননি সায়ন্তিকা। ২০১০ সালে ‘টার্গেট: দ্য ফাইনাল মিশন’ এবং ‘হ্যাংওভার’ সিনেমায় অভিনয় করেন। পরের বছর ‘পাপি’ এবং ‘মনে পড়ে আজও সেই দিন’ সিনেমায় দেখা যায় তাকে। দুই বছরে চারটি সিনেমা মুক্তি পেলেও তার ক্যারিয়ারে খুব একটা জোরালো ভূমিকা রাখতে পারেনি।

২০১২ সালে মুক্তি পায় তার ‘আওয়ারা’ সিনেমা। এতে জিতের বিপরীতে অভিনয় করেন। মুক্তির পর বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলে, নজর কাড়েন সিনেমাপ্রেমীদেরও। একই বছরে তার অভিনীত ‘শুটার’ সিনেমা মুক্তি পায়। এটি মুক্তির পর অশ্লীলতার অভিযোগ ওঠে। তবে সায়ন্তিকার পারফরম্যান্স কিছুটা আশার আলো দেখায়। পরবর্তীতে টলিউড তারকা দেব, আবির চ্যাটার্জি, অঙ্কুশ, যিশু সেনগুপ্তসহ অনেকের সঙ্গে জুটি বেঁধে পর্দায় হাজির হন। ঢালিউড কিং শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধেও অভিনয় করেছেন সায়ন্তিকা। ‘নাকাব’ শিরোনামে এ সিনেমা যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছিল।

২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়েন কলকাতার তারকা অভিনয়শিল্পীরা। ওই বছরের ৩ মার্চ তৃণমূলে যোগ দেন সায়ন্তিকা ব্যানার্জি। অভিনেত্রী থেকে নেত্রী হয়ে বিধানসভা নির্বাচনে বাকুড়ার টিকিট পান তিনি। কিন্তু ৭৩৫ ভোটে হেরে যান। রাষ্ট্রবিজ্ঞান উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করলেও ভোটের রাজনীতিতে ভিন্ন এক ময়দান দেখতে পান তিনি। নির্বাচনে হেরে গেলেও রাজনীতি ছাড়েননি সায়ন্তিকা। রুপালি পর্দায় যেমন নিয়মিত, তেমনি রাজনীতির মাঠেও সক্রিয় এই অভিনেত্রী।

শাকিবের সঙ্গে ‘নাকাব’ সিনেমায় অভিনয় করার পর বাংলাদেশি কোনো নায়কের সঙ্গে দেখা যায়নি সায়ন্তিকাকে। কিছুদিন আগে বাংলাদেশি নির্মাতা তাজু কামরুলের ‘ছায়াবাজ’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। সিনেমাটিতে তার বিপরীতে রয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জায়েদ খান। এটি তার প্রথম বাংলাদেশি সিনেমা।

গত মাসে এ সিনেমার শুটিং করতে বাংলাদেশে আসেন সায়ন্তিকা। ৩০ আগস্ট থেকে এক সপ্তাহ টানা শুটিং করেন তিনি। গত ৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে যান সায়ন্তিকা। দেশে যাওয়ার পরপরই বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে প্রথম ধাপের কাজ শেষ না করেই ফিরে গেছেন সায়ন্তিকা। শুরুতে জানা যায়, নৃত্য পরিচালক মাইকেল অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সায়ন্তিকাকে স্পর্শ করেছিল। এজন্য তাকে বদলের দাবি তুলেন তিনি। কিন্তু প্রযোজক মনিরুল ইসলাম তা মানেননি। যার কারণে চলে যান নায়িকা। এসব নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করতে থাকেন তারা।

কলকাতায় ফিরে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেন সায়ন্তিকা। তার ভাষায়— ‘আমি একজন পেশাদার অভিনয়শিল্পী। তাই এ ধরনের কাজ করার কথা ভাবতেই পারি না। সেদিন শুটিং সেটে অনুমতি না নিয়েই মাইকেল আমার হাত ধরে আমাকে সরাতে গিয়েছিল। আমি তখন সবার সামনেই তাকে বাধা দেই। এ ছাড়া মূল সমস্যার পেছনে আরেকটি কারণ হচ্ছে সিনেমার প্রযোজক। বেশ কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা নিয়ে বারবার আমি প্রযোজক মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তার তরফ থেকে কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।’

তবে প্রযোজক মনিরুল সিনেমাটির নায়ক জায়েদ খানকে জড়িয়ে মন্তব্য করে আলোচনার জন্ম দেন। তার দাবি— হোটেল রুমে চার ঘণ্টা কাটিয়েছেন সায়ন্তিকা-জায়েদ খান। প্রযোজক মনিরুল বলেন, ‘মাইকেলের ডিরেকশনে গানের শুটিং করার সময় ড্রেস পরিবর্তন করার জন্য দুপুর ২টায় হোটেলে যান নায়ক-নায়িকা। ফিরে আসেন সন্ধ্যা ৬টায়। ড্রেস চেঞ্জ করতে চার ঘণ্টা সময় লাগে, এমন কখনো দেখিনি। ওই দিন তারা সেখানে কী করছিলেন? এ প্রশ্নের জবাব তারা কি দেবেন? কথাগুলো কখনো সামনে আনতে চাইনি। কিন্তু এখন আর চুপ করে থাকতে পারলাম না।’

প্রযোজকের এ অভিযোগ উড়িয়ে জায়েদ খান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘‘প্রযোজকের গোমর ফাঁস করে দিয়েছি বলেই ‘হোটেল কাণ্ড’ তৈরি করেছেন।’’ নায়ক-নায়িকা ও প্রযোজকের দ্বন্দ্বের কারণে তৈরি হয়েছে জটিলতা। অন্যদিকে কলকাতায় ফিরে গেছেন সায়ন্তিকা। যার ফলে সিনেমাটি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আদৌ সিনেমাটি আলোর মুখ দেখবে কিনা তা সময় বলে দেবে।

ঢাকা/শান্ত

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়