ঢাকা     সোমবার   ০৩ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৮ ১৪২৯ ||  ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

‘খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:২০, ১৬ আগস্ট ২০২২  
‘খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গৃহবন্দি’ দাবি করে তার নিঃশর্ত মুক্তি চেয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার ৭৮তম জন্মদিনের দোয়া মাহফিলে বিএনপি মহাসচিব এই দাবি জানান।

এসময় বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতির ইতিহাস লিখতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার নাম আসবে। খালেদা জিয়া এবং গণতন্ত্র- এই দুটো বিষয় অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। খালেদা জিয়া জাতির প্রয়োজনে, যুগের প্রয়োজনে, মানুষের প্রয়োজন সাধারণ গৃহবধূ হয়েও গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করবার জন্যে সামনে এসে দাঁড়ালেন। জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর থেকে তিনি সারা জীবন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও গণতন্ত্র চর্চার জন্য সংগ্রাম করে আসছেন। যার কারণে আজ তাকে আওয়ামী লীগ সরকার মামলা দিয়ে গৃহে অন্তরীণ করে রেখেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে আমাদের প্রথম শর্ত হচ্ছে, যিনি গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছেন; গণতন্ত্র চর্চা করেছেন, সেই বেগম খালেদা জিয়াকে অবশ্যই প্রাথমিকভাবে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। এই জন্মদিনে আমরা বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ জীবন কামনা করছি। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, যাতে তিনি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে আবার ফিরে এসে আবার নেতৃত্ব দেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একজন সাধারণ নেত্রী নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি তার সারাটা জীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন এবং তার জীবনকেও গড়ে তুলেছেন গণতান্ত্রিকভাবে। তার সংসার, তার পার্থিব জীবনের সমস্ত সুখকে বিসর্জন দিয়ে এদেশের মানুষকে একটা সমাজ উপহার দেওয়ার জন্য; মানুষকে মুক্ত করবার জন্য তিনি লড়াই করে চলছেন।

মহানগর বিএনপি উত্তর-দক্ষিণের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার ৭৮তম জন্মদিন উপলক্ষে তার রোগমুক্তি ও আশু সুস্থতা কামনা এবং চলমান আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সারাদেশেই আজ মহানগর-জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এই দোয়া মাহফিল হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছর যাবত এই সরকার তাদের ফ্যাসিবাদী শাসনকে, রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে, অত্যাচার-নির্যাতনের মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে তারা জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে বসে আছে। পাক হানাদার বাহিনীর মতো এই সরকার এদেশের মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করে, গুম-হত্যা করে, মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাসিত করে রেখেছে। বিএনপির ৩৫ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, ৬‘শর ওপরে নেতাকর্মীকে গুম করেছে, সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। সম্প্রতি ভোলাতে ছাত্রদলের নেতা নুরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবদুর রহিমকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিদিন নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

সবশেষে ফখরুল বলেন, এই সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের পায়ের নিচে এখন আর মাটি নেই। তাই আমরা সারা দেশের জনগণকে সংগঠিত করে, সমস্ত রাজনৈতিক শক্তিকে সংগঠিত করে এই সরকারকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থে একটা জনগণের সরকার নিয়ে আসতে চাই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরে আসার জন্য সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে যে মামলা আছে সেই মামলাও প্রত্যাহার করতে হবে। নির্বাচনের আগেই এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। তারপর একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। নতুন একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে সেই কমিশনের মাধ্যমে একটা জনগণের সরকার, জনগণের পার্লামেন্ট গঠন করতে হবে।

মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আমিনুল হক ও রফিকুল আলম মজনুর পরিচালনায় দোয়া মাহফিলপূর্ব আলোচনায় ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির খায়রুল কবির খোকন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল বারী ড্যানি, শামীমুর রহমান শামীম, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, আবদুল খালেক, সাইফুল আলম নীরব, মহানগরের ইশরাক হোসেন, মোহাম্মদ মোহন, ইউনুস মৃধা, আবদুস সাত্তার, হারুনুর রশীদ, এজিএম শামসুল হক, হাবিবুর রশীদ হাবিব, যুব দলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মামুন হাসান, মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসাইন, ওলামা দলের শাহ নেসারুল হক, তাঁতি দলের আবুল কালাম আজাদ, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম, ছাত্র দলের সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ মহানগরের কয়েক‘শ নেতাকর্মী অংশ নেন।

মেয়া/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়