ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৩ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪৩১

সরকার অবাধ নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে: কাদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪৯, ২৮ মে ২০২৩  
সরকার অবাধ নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে: কাদের

আওয়ামী লীগ সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে প্রস্তুত করছে এবং প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে আছে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রোববার (২৮ মে) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের বৈঠকে এ কথা জানান তিনি।   

বৈশ্বিক সংকটে বিভিন্ন দেশের নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্ণনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যাতে ভালো থাকেন, এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর বাংলাদেশকে যে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে, এটা বিএনপির অন্তরজ্বালার কারণ। সে কারণে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে কটু কথা তারা বলে, বিরূপ সমালোচনা তারা করে। এই মহলটি অতীতে বাংলাদেশ ধ্বংস করেছে। প্রধানমন্ত্রী দেশকে ঠিক করে মেরামত করছে। এটা তাদের পছন্দ হয় না। 

‘এরা তাকিয়ে থাকে বিদেশিদের কাছে নালিশ করতে। বাংলাদেশের জনগণকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে পারে না। নিষেধাজ্ঞা, নিষেধাজ্ঞা বলে চাতকের মতো কত অপেক্ষা। এই বুঝি নিষেধাজ্ঞা এলো। শেখ হাসিনা চলে গেলো। এই কটু কথা কত যে শুনলাম। অবশেষে কি নিষেধাজ্ঞা এলো? ভিসানীতি, এতে সরকারের কী হলো? কিছুই হলো না।’

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে সরকারের অসন্তুষ্ট হওয়ার বা মাথাব্যথা হওয়ার কোনো কারণ নেই, জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিদেশি আমাদের বন্ধু আছে, শত্রু নেই। বিদেশে বঙ্গবন্ধুর কোনো প্রভু ছিল না, শেখ হাসিনারও কোনো প্রভু নেই। সহযোগিতা করার মতো বন্ধু আমাদের আছে। একাত্তরে বন্ধু দরকার ছিল, সে বন্ধু আমরা পেয়েছি। যারা শত্রুতা করার তারা করেছে। কিন্তু, আমাদের লক্ষ্য আমরা পূরণ করতে পেরেছি। বাধা দিয়ে কিছুই করতে পারেনি।’

বিএনপি ভিসানীতি নিয়ে নাটক সাজাচ্ছে, অভিযোগ করে তিনি বলেন, এই ভিসানীতিতে বলা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন আবাধ, সুষ্ঠু করার জন্য অন্তরায় বা বাধা যেন কেউ না দিতে পারে। কাজেই এই ভিসানীতি নিয়ে কোনো মাথাব্যথার কারণ নেই।

‘আমরা তো অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এজন্য বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম আইন করে নির্বাচন কমিনকে স্বাধীন করেছেন শেখ হাসিনা। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ক্ষেত্র আমরা প্রস্তুত করছি। প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন বাধা যদি কেউ দেয়… নির্বাচনে বাধা দেবে কে? বাধা দেবে তো বিএনপি। তারা ঘোষণা দিয়েই বাধা দিচ্ছে।’

বিএনপি গণ্ডগোল বাঁধানোর জন্য নাটক সাজাচ্ছে, অভিযোগ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কেরানীগঞ্জে যে নাটকটি সাজালো! আক্রমণ করে আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর করল। নাটক সাজিয়ে ইচ্ছে করে গোলমালের সৃষ্টি করল। খাগড়াছড়িতেও তাই। আমাদের অনেক কর্মী আহত হলো। এখন তারা বোঝাতে চাইছে, আওয়ামী লীগ বাধা দিচ্ছে। আমরা বলতে চাই, নির্বাচন অবধি তৃণমূল পর্যন্ত আমাদের শান্তি সমাবেশ অব্যাহত থাকবে। কারো সাথে পাল্টাপাল্টি করার কোনো কর্মসূচি আমাদের নেই।’

কোনো অবস্থাতেই আক্রমণকারী না হতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি দেখাতে চাইছে, আমরা আক্রমণকারী। কেরানীগঞ্জে আক্রমণকারী তারা। অথচ বিদেশিদের কাছে প্রচার করেছে, আক্রমণকারী হচ্ছে আওয়ামী লীগ। কাজেই কোনো অবস্থাতেই আক্রমণ করবেন না। আক্রমণ করব না। কিন্তু, আক্রমণ করলে ছাড় দেওয়া হবে না।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, গাজীপুরে আমরা হেরে গেছি, কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নেই।   

বিএনপির রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এরা নষ্ট অসুস্থ রাজনীতি করে। এই অপশক্তির হাতে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ কোনোদিনই নিরাপদ নয়। এদের হাতে বাংলাদেশকে আমরা তুলে দিতে পারি না। এরা আসবে মানে—গণতন্ত্র শেষ। এরা আসবে মানে—আবার ভোট চুরি। এরা আসবে মানে—আবার হাওয়া ভবন। এরা আসবে বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে আবার চ্যাম্পিয়ন করতে। 

তিনি বলেন, বিএনপি বলছে, সরকারকে তাড়াতে হবে। আমি দেখি, কে কাড়ে তাড়ায়। সরকারকে তাড়াবেন, বাংলাদেশের মানুষ বুঝিয়ে দেবে। ভোটে বাধা দিতে আসেন, ভালো করে বুঝিয়ে দেবে।

নেতাকর্মীদের বিভেদের রাজনীতি না করে ঐক্য জোরদার করার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের চীন সফর এবং আসন্ন ভারত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল চীনে গেছে। এগুলো পার্টি টু পার্টি কন্টাক্ট। এসব বৈঠকে অনেক কিছু আলোচনা হতে পারে—রাজনীতি নিয়ে, পরিস্থিতি নিয়ে। বিভিন্ন মতবিনিয়ম হতে পারে। এটা পার্টি টু পার্টি কন্টাক্ট, পিপল টু পিপল কন্টাক্টকে সুদৃঢ় করার জন্য।

সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুরসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।

পারভেজ/রফিক

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়