ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ১৮ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় র‌্যাব গঠন রাজনৈতিক স্বার্থে ছিল না: বাবর

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:১৩, ১ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২০:০২, ১ জানুয়ারি ২০২৬
খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় র‌্যাব গঠন রাজনৈতিক স্বার্থে ছিল না: বাবর

বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানর কবর জিয়ারত করেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনো আপস করেননি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ আপসহীন।

বিএনপির দায়িত্বকালে র‌্যাব গঠন করা হলেও এই সংস্থাকে বিএনপি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের জন্য তৈরি করেনি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

আরো পড়ুন:

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) খালেদা জিয়া ও সাবকে রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন লুৎজ্জামান বাবর।

তিনি বলেন, “আমাদের নেত্রী জনগণের নিরাপত্তার প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। তার সুস্পষ্ট নির্দেশনায় র‍্যাব গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু একটি ঘণ্টা বা একটি দিনের জন্যও র‍্যাবকে দলীয় বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়নি।”

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ফোর্স। ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ র‌্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়। জঙ্গি দমন, সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকমু্ক্ত সমাজ গড়তে র‌্যাব সর্বদা সোচ্চার। র‌্যাব বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, কোষ্ট গার্ড ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি এলিট ফোর্স।

র‌্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’ বহু হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তখন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন লুৎফুজ্জামান বাবর। তবে তিনি বলছেন, “কেউ প্রমাণ করতে পারবে না যে, র‍্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।”

র‌্যাব আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কাজ করেছে দাবি করে বাবর বলেন, “অন্যায় করলে বিএনপির নেতাকর্মীদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি। আইন সবার জন্য সমান— এই নীতিতে তিনি বিশ্বাস করতেন। এটাই ছিল বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের বড় শক্তি।”

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের গুণাবলি তুলে ধরে বাবর বলেন, “স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার যে দৃঢ়তা আমি তার মধ্যে দেখেছি, তা অন্য কারও মধ্যে দেখিনি। অনেক পরে এসে তার ছেলে, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যেও সেই গুণাবলির প্রতিফলন দেখতে পাই। আমি আশা করি, তার নেতৃত্বে ভবিষ্যতে আমরা জনগণের রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারব।”

খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে আমার মন চেয়েছে নেত্রীর কবর জিয়ারত করার। এটি আমার ব্যক্তিগত আবেগ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতি নিয়েই এখানে এসেছি।”

বাবর বলেন, “আমি দীর্ঘসময় ধরে নেত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আল্লাহ আমাকে সেই সুযোগ দিয়েছেন, যার মাধ্যমে তার দেশপ্রেম কাছ থেকে দেখেছি। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি।”

তিনি দেশবাসীর কাছে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, “আপনারা সবাই আমার নেত্রীর জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন।”

পাশাপাশি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্যও দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, “আল্লাহ যেন তাকে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব ন্যায়ের সঙ্গে পালন করার তৌফিক দেন, যাতে দেশের জনগণ বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনের ধারাবাহিকতা দেখতে পায়।”

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকেই বিএনপির রাজনীতি পরিচালিত হয়ে আসছে এবং সেই আদর্শ বেগম খালেদা জিয়া ধারণ করেছেন বলে মন্তব্য করে বাবর বলেন, “একই আদর্শ অনুসরণ করেই তারেক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এখানে কোনো আদর্শিক বিচ্যুতির আশঙ্কা নেই।”

লন্ডনের নির্বাসিত থাকার সময় থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করে আসছেন তারেক রহমান। ধারণা করা হচ্ছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলের পুরো দায়িত্ব তার কাঁধে বর্তাবে।

ঢাকা/আলী/রাসেল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়