জামায়াতের প্রচার শুরু, যা বললেন আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ঢাকা-১৫ আসনে সমাবেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “দেশে ইনসাফ থাকলে দুর্নীতি ও টাকার পাচার হতো না। আওয়ামী শাসনামলে আয়নাঘর তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হয়েও রেহাই পায়নি অনেকে।”
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকা-১৫ আসনে সমাবেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছে জামায়াত।
শফিকুর রহমান বলেন, “এই দেশে আর ফ্যাসিবাদের ছায়া চাই না। যদি আসে, পূর্বের মতো পরিণতি হবে। জামায়াত আর কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চায় না।”
১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের ‘সমন্বিত প্রতীক’ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বরের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্যকালে নাহিদ ইসলামের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন তিনি।
জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, “ওনার (নাহিদ ইসলাম) হাতে একটা সমন্বিত প্রতীক তুলে দিচ্ছি। আজকে বাকিদের হাতে দেব দাঁড়িপাল্লা, আর ওনার হাতে দেব ‘পাল্লা-কলি’।”
আমিরে জামায়াত বলেন, “জনগণ এবার গণভোটে হ্যাঁ-কে জয়যুক্ত করতে মুখিয়ে আছে।”
তিনি এ সময় ১০ দলের জোটের ঢাকার বিভিন্ন আসনে মনোনীত প্রার্থীদের হাতে সমন্বিত প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।
তিনি বলেন, “১০ দলীয় জোটকে ভোট দেওয়ার মানে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘হ্যাঁ’ ভোট। আমরা চাঁদা নেব না, কাউকে চাঁদাবাজিও করতে দেব না। সরকারি ট্যাক্সের বাইরে কিন্তু একটা ‘বেসরকারি ট্যাক্স’ আছে। রাস্তার পাশে বসে যে ভাই-বোনটি ভিক্ষা করে, তার কাছ থেকেও সেই ট্যাক্স নেওয়া হয়। এই ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ, ট্যাক্সের নামে কোনো চাঁদাবাজি আর চলবে না।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ঢাকা-১৫ আসনে মানসম্মত সরকারি হাসপাতাল নেই, খালগুলো ময়লার ভাগার হয়ে গেছে।”
নির্বাচিত হলে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিশ্বমানের করতে ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান করবেন।
ওসমান হাদির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “বিভিন্ন জায়গায় চব্বিশের বিপ্লবীদের ওপর অত্যাচার এখনো বন্ধ হয়নি। তার বাস্তব প্রমাণ শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি। তার কণ্ঠ ছিল আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে। যুবকদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে। যারা তা চায়নি, তারা তাকে শেষ করে দিয়েছে। কিন্তু হাদি শেষ হয়ে যায়নি, আগে একজন ছিল এখন ১৮ কোটি হাদি তৈরি হয়েছে।”
এদিন জনসভা ঘিরে দুপুর থেকেই মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মীসহ ও সাধারণ মানুষের সমাগম হয়। নির্বাচনি জনসভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ছাড়াও ১০ দলের প্রতিনিধিসহ জামায়াত ও শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/নঈমুদ্দীন/সাইফ