ঢাকা, রবিবার, ২১ আষাঢ় ১৪২৭, ০৫ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

সরকারি সহযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে ই-কমার্স

খায়রুল বাশার আশিক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-১৭ ২:২৬:১৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-১৭ ২:২৬:১৫ পিএম

প্রাচীন যুগে নদী তীরবর্তী সভ্যতা কেন্দ্র করে প্রথম গোড়াপত্তন হয়েছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের। পরবর্তীকালে ব্যবসার সেই প্রথা ছড়িয়ে যায় পৃথিবীর আনাচে-কানাচে। আধুনিক যুগে এসে ব্যবসার রূপ পাল্টাতে থাকে। যুক্ত হয় নতুন গতি ও অভিনব চিন্তাধারা। ভার্চুয়াল জগতে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সময়ের ব্যবসা-বাণিজ্য। সেই পথে হাঁটছে বাংলাদেশও। এগিয়ে যাচ্ছে এ দেশের ই-কমার্স। দেশের শিক্ষিত অনেক যুবকের পাশাপাশি এই সেক্টর নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলো।

নিজস্ব সৃজনশীলতা এবং ইচ্ছাশক্তি কাজে লাগিয়ে দেশের অনেকেই একটি ওয়েবসাইট কিংবা ফেইসবুক পেজ ব্যবহার করে গড়ে তুলছেন ই-কমার্সভিত্তিক কর্মসংস্থান। এ ধরনের কাজে পুঁজি কম লাগে। যে কারণে ই-কমার্স জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তরুণদের মধ্যে। কিন্তু সঠিক দিক-নির্দেশনার অভাবে নানা প্রতিবন্ধকতারও সম্মুখীন হচ্ছে তারা। এমন অবস্থা থেকে উত্তরণের উদ্দেশ্যে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

‘ই-বাণিজ্য করবো, নিজের ব্যবসা গড়বো’ নামক প্রকল্প থেকে ই-কমার্স প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেল। এই প্রকল্পের আওতায় ৫ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেয়ায় কাজ চলমান। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল আয়োজিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের  সকাল-বিকেলের নাস্তা, দুপুরের খাবার, দৈনিক ভাতা এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মাঝে মন্ত্রণালয় থেকে সনদপত্র প্রদান করা হচ্ছে। দেশের যুবকদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহ প্রদান করা এবং এই সেক্টরে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে ই-কমার্সের সাথে জড়িত ও প্রয়োজনীয় সকল কিছু। ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (এসইও), কন্টেন্ট মার্কেটিং, প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং, প্রচার ও বিজ্ঞাপন, পণ্যের ছবি তোলা, কন্টেন্ট ব্যবস্থাপনাসহ নানা দিক নিয়েও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে অংশগ্রহণকারীদের।

ই-কমার্স সরাসরি তথ্যপ্রযুক্তির সাথে সম্পৃক্ত বলে বর্তমানে দেশে ই-কমার্সে প্রচুর উদ্যোক্তা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই স্বপ্ন দেখছেন, বিশ্বব্যাপী পরিচিত ই-কমার্স সাইট অ্যামাজন কিংবা আলিবাবার মতো বিশ্ববাজারে স্থান করে নেবে বাংলাদেশের কোনো ই-কমার্স সাইট। এর উপর ভিত্তি করে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের নারী উদ্যোক্তারাও। পরিবারের একজন পুরুষের মতো সমান তালে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছেন তারা।

ই-কমার্স উদ্যোক্তা আতিকুর রহমান। বিগত এক বছর হলো ফেইসবুকে একটি পেজ ব্যবহার করে বিক্রি করছেন বিভিন্ন ধরনের পণ্য। এই ব্যবসায়ের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থে চলছে নিজ লেখাপড়ার খরচ। ‘ই-বাণিজ্য করবো, নিজের ব্যবসা গড়বো’ নামক প্রকল্প থেকে ট্রেনিং নিচ্ছেন তিনি। আতিকুর জানান, প্রতিনিয়ত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। সকল ব্যবসা-বাণিজ্যে ডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়া লেগেছে। বাস্তবিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ই-কমার্সে এখন সম্ভাবনাময়। তাই ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছি এটি। পাশাপাশি সরকার ই-কমার্স প্রসার ও প্রচারে নানা ধরনের সহায়তা প্রদান করায় এই ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়ার ভরসা পাচ্ছি। 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয় ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর ট্রেইনার রাকিব হাসান, এ কে সুমন, রাকিবুল ইসলাম রবিন, জাহাঙ্গীর আলম সোভন, সাইফুল্লাহ রেজাসহ অনেকের সাথে। তারা প্রত্যেকেই জানান, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা পরিবর্তনের বিরাট একটি সম্ভাবনার নাম ই-কমার্স। বর্তমান সরকারের ভিশন ২১ বাস্তবায়নের অন্যতম একটি এজেন্ডা দেশকে ডিজিটালাইজেশন করা। যার অন্যতম ভিত্তি ই-কমার্স। যে কারণে এই খাতের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট দৃষ্টি আরোপ করা হয়েছে। ফলে, যত দিন যাচ্ছে বাংলাদেশেও ই-কমার্সের চাহিদা ও কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহর থেকে নগরে কিংবা গ্রামেও পৌঁছে যাচ্ছে ই-কমার্স সেবা। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ফলে এই সেক্টরে উৎসাহ বেড়েছে তরুণ ও বেকার যুবকদের মধ্যে।

বাংলাদেশে এই সেক্টরের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা হলে ই-কমার্স প্রকল্পের ট্রেইনার সাইফুল্লাহ রেজা জানান, পৃথিবীর অনেক দেশ ব্যবসা বাণিজ্যের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ই-কমার্স বেছে নিয়েছে। বাংলাদেশে একটু দেরিতে শুরু হলেও বর্তমানে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ফলে এদেশের বেকার যুবকরা ই-কমার্সকে কেন্দ্র করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। আগামী দিনগুলোতে ই-কমার্স হবে আকর্ষণীয় একটি ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম।

এ বিষয়ে কথা হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং ডব্লিউটিও সেল- এর পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ই-কমার্স আমাদের দেশে এখনো নতুন। সারা পৃথিবীতে ই-কমার্স এগিয়ে গেলেও আমাদের দেশে পণ্য ডেলিভারি, পেমেন্ট ব্যবস্থা, উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও অর্থায়নসহ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করছি, এ সেক্টরে দেশের অনেক বড় একটা অংশ কর্মসংস্থান খুঁজে পাবে।



ঢাকা/ফিরোজ/তারা