Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৩ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ৭ ১৪২৮ ||  ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মসলার ব্যবসা করে ছাত্রজীবনেই সফল উদ্যোক্তা

খালিদ সাইফুল্লাহ্ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:০৮, ১০ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৭:০৬, ১১ অক্টোবর ২০২১
মসলার ব্যবসা করে ছাত্রজীবনেই সফল উদ্যোক্তা

বাঙালির রসনার বড় একটি অংশে রাজ করছে মসলা। পৃথিবীর যেকোনো দেশের মানুষের চেয়ে বাঙালি খাবারটাকে আলাদা করে খায়। তাদের খাবার আলাদাও করা যায় শুধু স্বাদের জন্য। মসলার এমন ভিন্নতা মনে হয় অন্যদের খাবারে নেই। আমাদের মা-চাচিদের হাতের সাধারণ রান্না যেন নানা ধরনের মসলার গুণে হয়ে গেছে অসাধারণ। আজ বলবো এক তরুণ মসলা বিক্রেতার কথা। নাম মঈনউদ্দিন সরকার রবিন। ময়মনসিংহের ছেলে। মসলার মাধ্যমে রান্নার স্বাদের পাশাপাশি ঘুরিয়েছেন নিজের ও অন্যের জীবনের স্বাদও।

শহরেই বেড়ে ওঠা রবিনের। ছোটবেলা থেকে মা, চাচি, ফুফুদের দেখতেন নানারকম মসলা ব্যবহার করে রান্নাকে অতুলনীয় করে তুলতে। তখন থেকেই ব্যাপারটা তার বেশ ভালো লাগত। এরপর বড় হওয়ার পর যখন টুকটাক বাজার করা শুরু করলেন, আস্তে আস্তে চিনতে পারলেন আরও নানারকম মসলা। আগ্রহ বেড়ে গেলো আরও অনেক। তাই অনেক ভেবেচিন্তে ছাত্রজীবনেই ঠিক করলেন মসলার ব্যবসা করবেন। নিজের জমানো কিছু পুঁজি দিয়ে তাই শুরু করে দিলেন ‘সরকার রবিন ট্রেডার্স’ নামে মসলার ব্যবসা।

তার প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের মসলার ইমপোর্ট করে তা দেশের প্রায় অঞ্চলে পৌঁছে দেন সযত্নে। বর্তমানে জিরা, এলাচ, দারুচিনি, আলুবোখারা, ঘি, লং, ক্লোভ, শুকানো আদা (Dry Ginger), সরিষা বীজসহ সব ধরনের মসলা নিয়েই কাজ করেন।

‘সরকার রবিন ট্রেডার্স’-এ স্থায়ীভাবে কাজ করছেন প্রায় ২০ জন কর্মচারী। এছাড়া কাজের চাপ বুঝে ব্যবসার সময়গুলোতে অতিরিক্ত কর্মচারী নিয়োগ দেন তারা। শুধু ভালো লাগার এই জায়গা থেকে আজ রবিনের ‘সরকার রবিন ট্রেডার্স’-এর যাত্রা। এর মাধ্যমে নিজের জীবন পাল্টে ফেলেছেন। হয়েছেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। 

তার এই পথ ছিল না বাহারি মসলার মতো রঙিন, বরং পোলাওয়ের এলাচির মতো খারাপ পরিস্থিতির শিকারও হয়েছেন। মসলার এই ব্যবসার জায়গাটি রবিন তুলনা করেছেন Red Ocean এর সাথে। এখানে ইমপোর্টার খুঁজে বের করা এবং তার জন্য ক্রেতা খুঁজে বের করে চেইন মেনটেইন করা খুবই ঝামেলার এবং সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আবার ব্যবসার জন্য লাইসেন্স করা ক্ষুদ্র ঋণ পাওয়াও আজকাল তার মতো তরুণদের জন্য কষ্টসাধ্য বিষয়। শুরুর দিকে এগুলো নিয়ে অনেক সমস্যা হলেও আস্তে আস্তে নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার জোরে পার করেছেন সব বাঁধা।

আর মসলার ব্যবসায় তার মতো অনভিজ্ঞ একজন তরুণ আসলে কিভাবে টিকে থাকবে এই নিয়েও ছিল অনেকের মনে শঙ্কা। কিন্তু সবাইকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে নিজের ভালো লাগার পেছনে সময় দিয়ে অনেক অভিজ্ঞ মানুষের চেয়েও ভালোভাবে টিকে থাকতে পেরেছেন এই ব্যবসায়। তরুণ উদ্যোক্তা হয়েও লাভের হিসেবে ছাড়িয়ে গেছেন অনেক মাইলফলক, যা কিনা অনেক পুরোনো ব্যবসায়ীরা কখনো কল্পনাও করতে পারেননি। খুব কম সময়েই তার এই ক্ষেত্রে এত উন্নতি সত্যিই ঈর্ষণীয় আবার একইসঙ্গে অনুপ্রেরণাদায়ক।

রবিন স্বপ্ন দেখেন, তার ফুলটাইম ক্যারিয়ারের পাশাপাশি এই ব্যবসা আরও বড় পর্যায়ে নিয়ে যাবেন। ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন রবিন। তাই তার স্বপ্ন বাংলাদেশের প্রতিটি কোণায় কোণায় থাকুক। সেইসঙ্গে এমন একটি ঐতিহ্যবাহী কাজের সাথে তরুণ প্রজন্মের মেলবন্ধন ঘটিয়ে ব্যবসাকে আরও উঁচু পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান।

তিনি বলেন, আইটি সেক্টর এবং ফুড চেইন নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা আছে ভবিষ্যতে। আমাদের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার যে নতুন করে ভাবছে, এই নিয়ে আশাবাদী আমি।

রবিনের মতো তরুণরা যদি চাকরির আশায় বসে না থেকে নিজের সম্বলটুকু নিয়ে কিছু একটা করার চেষ্টা করেন, নতুন নতুন উদ্যোগের পেছনে পরিশ্রম করেন, আশা করা যায় দেশের বেকার সমস্যা দিন দিন হ্রাস পাবে এবং এই তরুণ উদ্যোক্তাদের থেকেই আমাদের অর্থনীতিতে একটি বড় অংশ যোগ হবে। এই ক্ষেত্রে মঈনউদ্দিন রবিনের মতো তরুণ উদ্যোক্তারা আমাদের পথপ্রদর্শক। যারা নিজের উদ্যোগের মাধ্যমে নিজের এবং অন্যের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেশের জাতীয় আয়ে অবদান রাখছেন।

লেখক: শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি।

/মাহি/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়